Translate

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

বট সাবিত্রীর ব্রতকথা 26

  
 
 
 

বট সাবিত্রীর  ব্রতকথা - 

 

 
বহু প্রাচীন কালে মদ্রদেশে অশ্বপতি নামে এক রাজা ছিল।এই রাজার পুন‍্যের ফলে একদিন দেবর্ষি নারদ তার রাজসভায় এসে উপস্থিত হলেন।সে সময় রাজা অশ্বপতি খুব চিন্তিত ছিলেন।নারদ রাজাকে তার চিন্তার কারন জিজ্ঞাসা  করলেন। রাজা বলিলেন আজ কিছুদিন হলো মন্ত্রী ও সৈন‍্য সামন্তদের সঙ্গে দিয়ে দেশ ভ্রমণে পাঠিয়েছিলাম  কিন্তুু কোনো খবর  না পাওয়ায় খুব চিন্তা হচ্ছে।নারদ তখন বললেন কিন্তু ু মা সাবিত্রীর  বিয়ের  কি ব‍্যবস্থা করলেন মহারাজ রাজা অশ্বপতি দীর্ঘ নিশ্বাশ ফেলে বলল  সাবিত্রীকে  বিয়ে  করার জন‍্য অনেক দেশের অনেক রাজপুত্র এসেছিল  কিন্তু সাবিত্রীকে  দেখার পর কেউ তাকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করতে সাহস  করলেন না। সকলেই ফিরে  গেলেন। নারদ বললেন তাতো হবারই কথা মহারাজ  তোমার কি  মনে যে কোন দেবীশক্তি থেকে  সাবিত্রীর  জন্ম   রাজা বললেন হ‍্যাঁ মনে তো আছে দেবর্ষি জৈষ্ট‍্য মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে ব্রত করে আমি সাবিত্রীকে  পেয়েছি। এমন সময় মন্ত্রী  রাজসভায় এসে রাজাকে জানালেন  যে মা সাবিত্রী ফিরে এসেছেন। মন্ত্রী বললেন দেবর্ষি আমরা বহু দেশ আর বহু নগর পরিভ্রমন করে এসেছি।বহুরাজা মহারাজা মা সাবিত্রীকে  দেখে  খুবই মুগ্ধ হয়েছেন কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়  এই যে মা সাবিত্রীর  বর সহজে কোথাও খুজে  পাওয়া যায়নি।শেষে অন্ধ রাজা দ‍্যুমৎসেন তার রাজ‍্য হারিয়ে যে বনে বাস করছেন আমরা সেখানে  গিয়ে  উপস্থিত  হই। মা সাবিত্রী রাজরানীর কাছে আদর পেয়ে খুবই  মুগ্ধ হন আর শেষে তাদের  এক মাত্র ছেলে  সত‍্যবানকে তার স্বামী  হিসাবে মনোনীত  করেছেন।  নারদ মন্ত্রীর শেষ কথাটা শুনে  চিন্তিত  হয়ে  উঠলেন এবং বলেলেন  মা সাবিত্রী ভাল কাজ করেনি। সত‍্যবান রাজপুত্র হলে কি হবে  তার আয়ু যে খুবই কম।সত‍্যবানের সঙ্গে  বিয়ে হলে  এক বচ্ছর পরেই সাবিত্রীকে বিধবা হতে হবে। রাজা অশ্বপতি নারদের এই কথা শুনে তখনই  সাবিত্রীকে সভায়  ডেকে  আনলেন এবং বললেন মা সাবিত্রী তুমি তোমার মত পরিবর্তন করো মা। দেবর্ষির মুখে শুনলাম যে সত‍্যবানের আয়ু খুবই কম।তার হাতে তোমাকে বিয়ে দিলে  বৈধব‍্য যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে  আমি তা দেখতে পারবো না তুমি তোমার মত পরিবর্তন  কর মা।রাজার মুখে এই কথা শুনে সাবিত্রী শিউরে উঠলো  আর  অপলক চোখে রাজার দিকে চেয়ে রইল। রাজা তখন সাবিত্রীকে বুঝিয়ে বললেন মা তুমি তো সত‍্যবানকে শুধু  মনে মনেই স্বামী  বলে  মনোনীত করেছ।তোমার এই মত পরিবর্তন করতে ভাববার কি আছে মা বিয়ে স্থির  হয়েও তো অনেক সময় ভেঙে যায়।সাবিত্রী বলল বাবা আপনি নিজে আমাকে আমার মনোমত স্বামী বেছে নেবার অনুমতি দিয়েছেন। সেই মতো আমি সত‍্যবানকে বেছে নিয়ে তাকেই মনে মনে স্বামী বলে স্বীকার করে নিয়েছি   এখন অন্য কাওকে বরন করলে আমাকে দ্বিচারিনী হতে হবে  না কী?রাজা অশ্বপতি সাবিত্রীর এই কথা শুনে আর কোনো কথা বলতে  পারলেন না। দেবর্ষি নারদ তখন বললেন  বৃথা চিন্তা করে লাভ নেই রাজা  তুমি সত‍্যবানের সঙ্গেই সাবিত্রীর বিয়ে দাও। আমি সাবিত্রীর কুষ্টি দেখেছি তাতে সাবিত্রীর বৈধব‍্য যোগ নেই।অথচ সত‍্যবানের অকালমৃত্যুর যোগ  রয়েছে।এটাও আমি জানি হয়তো এরমধ‍্যে কিছু রহস্য  আছে। যায় হোক এই বিয়েতে মত দেওয়া ছাড়া তোমার আর কোনো গতান্তর নেই।রাজা অশ্বপতি নারদের কথা ঠেলতে পারলেন নাই। রাজা দমুৎসেনের সঙ্গে দেখা করে  সত‍্যবানের সঙ্গেই সাবিত্রীর বিয়ে দিয়ে দিলেন। রাজা দমুৎসেন ও রানী সাবিত্রীকে  বউ পেয়ে খুবই খুসি ও আনন্দিত  হলেন।সাবিত্রীও খুব যত্নের সঙ্গে শ্বশুর শাশুড়ির সেবা করতে লাগল। এই করে ক্রমে এক বছর পুর্ন হতে চলল।সাবিত্রী সারা বছর ধরে দিন গুনে আসছিল। এখন বছর পুর্ন হবার তিন দিন আগে শ্বশুর শাশুড়ির কাছে অনুমতি নিয়ে সাবিত্রী  ব্রতের উপোস করতে আরম্ভ করল।যে দিন  এক বছর পুর্ন হবে সেই দিন পড়ল জৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি। 💖
যখন সত‍্যবান কাষ্ট আনিবার জন‍্য বনে গমন করিবার জন‍্য উদ‍্যৎ হইল তখন সাবিত্রী শশুর ও শাশুড়িকে বুঝাইয়া স্বামীর  সহিত সাবিত্রিও বনে গমন করিল । বনে গিয়ে সত‍্যবান কাঠ সংগ্রহ  করিতে লগিল  
হটাৎ সত‍্যবানের মাথায়  অসহ‍্য যন্ত্রণা হতে লাগল।সত‍্যবান সাবিত্রীকে বলল  
সাবিত্রী আমার মাথায় অসহ‍্য যন্ত্রণা  হচ্ছে  আমাকে ধর।
বলতে বলতে সত‍্যবানের শরীর ঠান্ডা হতে লগল সাবিত্রী সত‍্যবানের মস্তক কোলের মধ‍্যে নিয়ে বসে পড়ল মাটিতে।
কখন  যে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল জানতেও পারল না। সেদিন  ছিল কৃষ্ণাচতুর্দশী তিথি।
একাকিনী সাবিত্রী সত‍্যবানের দেহ কোলে নিয়ে মাসাবিত্রী দেবীকে স্মরন করতে লাগিল। যমদুতেরা এসে সতীসাবিত্রী দেখে ভীত হয়ে ফিরে গেল যমরাজের কছে এবংবলল  প্রভু এক দেবী মৃতদেহ কোলে নিয়ে বসে আছে গভীর জঙ্গলের মাঝে।
 এই বার্তা শুনে যমরাজ নিজে গিয়ে উপস্থিত হলেন এবং সাবিত্রীকে বলল 
দেবী তোমার স্বামী মৃত।এখন আমি তোমার স্বামীর প্রানপুরুষটি নিতে এসেছি। তুমি  সত‍্যবানের দেহটা মাটিতে  রেখে বাড়ি ফিরে  যাও আমি এর প্রানটি নিয়ে চলে যায়।সাবিত্রী দেহটা মাটিতে  রেখে সরে দাঁড়াল যমরাজ সত‍্যবানের প্রানটি নিয়ে দক্ষিণ  দিকে  চলতে লাগল।কিছদুর যাওয়ার পর যমরাজ দেখলযে সাবিত্রীও তার পেছনে পেছনে আসছে,তা দেখে যমরাজ বলিল হে দেবী তুমি আমার সহিত কোথায়  চলিয়াছ।🙏
ধর্মরাজ যমের কথা শুনিয়া সাবিত্রী বলল আমার স্বামী কে যেখানে নিয়ে যাবেন  আমিও  সেখানে যাইব।  কারণ পতিই সতির ধর্ম ও আশ্রয়  আপনি ধর্মরাজ নিশ্চই এই কথাটি জানেন। ধর্মরাজ যম কথাটি শুনে লজ্জিত বোধ করলেন। যম সাবিত্রীকে বলল সতী তুমি তিনটি বর চাও । সত‍্যবানের জীবন  ছাড়া।  আমি সেই  বর তোমাই দেব। সাবিত্রি বলল আপনি যদি সত্তি আমার উপর  সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন তাহলে এই বর দেন যেন (1) আমার অন্ধশ্বশুর আর অন্ধ শাশুড়ি তাদের  দুই চোখের দৃষ্টি যেন  ফিরে পায়।
(2) আমার শশুর মশাই যেন তার রাজ‍্য পুনপ্রাপ্ত করেন(3)আমার পিতার একশোটা পুত্র লাভ হউক।
তথাস্ত বলিয়া ধর্মরাজ যম গমন করিলেন।
 এদিকে সাবিত্রী ও যমের পেছনে পেছনে গমন করিতে লাগিল অবশেষে বৈতরণী নদীর তীরে  উপস্থিত হইল  যম সাবিত্রীকে দেখিয়া বিস্মৃত হয়ে গেল।ধর্মরাজ যম বলিল দেবী তুমি এখনো পর্যন্ত আমার সঙ্গে।সাবিত্রি পুনরায় ধর্মরাজের স্তব করিলেন। ধর্মরাজ সন্তুষ্ট হয়ে বলল। তুমি আরো একটু বর চাও।
সাবিত্রী বলিল -আমাকে এইবর দিন যেন সত‍্যবানের ঔরসে আমার এক শটি পুত্র লাভ হয়। যমরাজ তথাস্তু বলিয়া তাড়াতাড়ি চলিতে লাগলো এবং খুব তাড়াতাড়ি বৈতরনীর তীরে এসে উপস্থিত হল।
পেছনে সাবিত্রীকে দেখে চমকে উঠলো
যমরাজ সাবিত্রী কে বলল মানুষ এখান পর্যন্ত আসতে পারে না তুমি কি করে এলে? সাবিত্রী বলল যে ধর্মরাজের আশ্রয় নিয়েছে সে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে যেতে পারেনা।কিন্তু আমি একটা কথা জানার জন্য এতদূর পর্যন্ত আপনার সাথে এসেছি আপনি আমায় শত পুত্রের জননী হওয়ার বর দিয়েছেন অথচ আমার স্বামীকে নিয়ে চলে যাচ্ছেন ধর্মরাজও কি ধর্ম কথা ভুলে গেছেন। সাবিত্রীর কথা  শুনে ধর্মরাজ লজ্জিত  হয়ে সত্যবানের প্রাণপুরুষকে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর সাবিত্রী সত্যবান এর প্রাণপুরুষ নিয়ে ফিরে এসে সত্যবানের জীবন দান করলেন। সত্যবান ঘুমের থেকে উঠে বসে সাবিত্রী কে বলল চলো আমরা বাড়ি ফিরে যাই।এদিকে শশুর শাশুড়ি দুজনায় সকালে উঠে চোখে দেখতে পায়। এবং সকাল হয়েছে দেখে সাবিত্রী সত্যবান কে না দেখতে পেয়ে চিন্তা করছিল এমন সময় সাবিত্রী সত্যবান এসে উপস্থিত হল তাদের সামনে। এদিকে মন্ত্রীসৈন‍্যসামন্ত নিয়ে রাজার কাছে এসে উপস্থিত হলো আবার রাজা নিজের রাজত্বে ফিরে গেলেন। সত্যবানকে রাজ সিংহাসনে বসিয়ে আনন্দে দিন জাপন করতে লাগলেন।
সাবিত্রী সত‍্যবানের জয় হোক।
বলো বলো সাবিত্রী সত্যবান কি জয়।

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

সাবিত্রী চতুর্দশী ব্রতকথা Bat Sabitri Bratokotha

ব্রত কথা 

মদ্র দেশে এক রাজা ছিলেন।সে দেশের রাজার নাম অশ্বপতি।বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত কোন পুত্রাদি না হওয়ায় রাজা অশ্বপতি পত্নীসহ সাবিত্রী দেবীর আরাধনা করতে লাগলেন।
14 বছর  ব্রত করার পর ব্রত উদযাপন করলেন।
দেবী সন্তুষ্ট হয়ে রাজাকে আশীর্বাদ করল যে সর্বগুণ সম্পন্ন কন্যা তার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করবে।এই বর দিয়ে দেবী সাবিত্রী অন্তর্ধান হলেন।
যথাসময়ে রানী একটি সুকন্যা কে জন্ম দিলেন।তার নাম রাখলেন সাবিত্রী।
সাবিত্রী দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর পূর্ণিমার চাঁদের মত বড় হতে লাগল।
রাজা অস্ত্রপাতি বিবাহযোগ্য কন্যাকে দেখে বিবাহের জন্য উপযুক্ত বর খুঁজতে চারিদিকে খবর পাঠালেন।
কোন পাত্রের সন্ধান না আসায় সাবিত্রী সখীদের সঙ্গে বরের সন্ধানে দেশ ভ্রমণে বের হলেন।
গ্রাম শহর বিভিন্ন দেশ ঘুরে এক বনে গিয়া উপস্থিত হল।
 এদিকে সেই বনে সালভো দেশের রাজা রাজ্য হারিয়ে বনে বসবাস করতেন। রাজার নাম ছিল দ্যুমৎসেন। 
সাবিত্রী এখানে গিয়ে উপস্থিত হল। রাজা রানীর খুব আদর পেয়ে সেখানে রইল।সেখানে রাজার ছেলে সত্যবান কে দেখতে পেল। সেই দেখাতেই সাবিত্রী মনে মনে সত্যবান কে নিজের মন মত স্বামী হিসাবে বেছে নিয়ে নিজের রাজ্যে ফিরে গেলেন।
দৈবযোগে মহামুনি নারদ রাজা অশ্বপতির সহিত সাক্ষাৎ  করছিলেন সেসময়। সাবিত্রী ও এসে উপস্থিত হলো রাজবাড়ীতে রাজা  সাবিত্রী কে  ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কোন কোন দেশ ঘুরে এলে। 
সাবিত্রী বলল আমি অনেক দেশ ও নগর ঘুরে এসে উপস্থিত হলাম একটি বনে সেখানে উপস্থিত  রাজা দ্যুমৎসেনের ছেলে সত্যবান আমি মনে মনে পতিরুপে বরন করেছি। 
দেবর্শি নারদ কথাটি শুনে রাজা কে বলল  সাবিত্রী ভালো কাজ করেনি।আমি জানি সত্যবান এর আয়ু  খুবই কম। বিয়ের এক বছর পর সত্যবান  মারা যাবে।এবং রাজ্য হারা দ্যুমৎসেন ও তার স্ত্রী দুজনে অন্ধ।নারদ এর এই কথা শুনে রাজা সাবিত্রী কে বলল মা তুমি তো কেবল সত্যবান কে মনে মনে স্বামী হিসাবে বরণ করেছ।
আমি এটা দেখতে পারবোনা তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করো।
সাবিত্রী বলল বাবা আমি আপনার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নিজের মনমতো পাত্র বেছে নিয়েছি এখন যদি অন্য পাত্রে বিয়ে করি তাহলে আমাকে দ্বিচারিণী বলবে সবাই।
 নারদ কথাটি শুনে  রাজা কে বলল রাজন আপনি সত্যবান এর সঙ্গে সাবিত্রীর বিবাহ  দিয়ে দাও। আমি দেখছি সত্যবানের অকাল মৃত্যু যোগ আছে কিন্তু সাবিত্রীর বৈধব্য যৌগ নেই।
হয়তো এর মধ্যে ভগবানের কিছুলীলা লুকিয়ে আছে। 
 নারদ এর কথা শুনে রাজা  খুব ঘটা করে সাবিত্রী সত্যবান এর বিয়ে দিয়েদিলেন।
সাবিত্রী ও অন্ধ শশুর  এবং শাউড়ি কে খুব যত্ন করতে লাগলো খুব আনন্দের সঙ্গে দিনগুলো পার হচ্ছিল কিন্তু নারদের কথাটি তার মনের মধ্যে রইল।
সাবিত্রী দিন গুনে গুনে যাচ্ছিল যেদিন এক বছর পূর্ণ হবে তার তিনদিন পূর্বে শ্বশুর-শাশুড়ির কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সাবিত্রী চতুর্দশী ব্রত করার জন্য প্রস্তুতি নিলেন।যেদিন এক বছর পূর্ণ হবে সেদিন  ছিল  সাবিত্রী চতুর্দশী ব্রত।
 শ্বশুর-শাশুড়িকে অনেক বোঝানোর পর সত্যবান এর সঙ্গে সাবিত্রি বনে  যাওয়ার জন্য অনুমতি পেল।
 কাঠ সংগ্রহের জন্য সাবিত্রী সত্যবান বনে গিয়ে উপস্থিত হল। সত্যবান গাছের উপর থেকে কাঠ  কেটে কেটে নিচে ফেলতে লাগলো সাবিত্রী সেগুলি কুড়িয়ে ঝুড়িতে  রাখতে  লাগলো।
 এমন সময় সত্যবান চিৎকার করে উঠলো সাবিত্রী আমার মাথায় ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে আমাকে ধরো বলতে বলতে সত্যবান নিচে পড়ে মারা গেল। 
এই দিনটি ছিল কৃষ্ণচতুর্দশী সাবিত্রী সত্যবান এর দেহটি কোলে নিয়ে সাবিত্রী দেবীকে ডাকতে লাগলো।
এদিকে সন্ধ্যা হয়ে গেল চারিদিকে  ঘন অন্ধকারে ছেয়ে গেল। যমরাজ এসে  উপস্থিত হল। সাবিত্রী কে বললো তুমি সরে দাঁড়াও সত্যবান এর মৃত্যু হয়েছে আমি সত্যবান এর প্রাণপুরুষ টিকে নিএ চলে যায়। 
সাবিত্রী সরে দাঁড়ালো যমরাজ প্রাণপুরুষ কে নিয়ে দক্ষিণ দিকের পথে চলতে লাগলো  সাবিত্রীও যমরাজের পেছনে পেছনে চলতে লাগলো।কিছুক্ষণ পরে যমরাজ দেখল সাবিত্রীও তার পেছনে পেছনে আসছে।
তাই দেখে যমরাজ সাবিত্রী কে বলল তুমি আমার সঙ্গে আসছ কেন 
সাবিত্রী বলল আমার স্বামী কে যেখানে নিয়ে যাবেন  আমিও  সেখানে যাইব।  কারণ পতিই সতির ধর্ম ও আশ্রয়  আপনি ধর্মরাজ নিশ্চই এই কথাটি জানেন। ধর্মরাজ যম কথাটি শুনে লজ্জিত বোধ করলেন। যম সাবিত্রীকে বলল সতী তুমি তিনটি বর চাও । সত‍্যবানের জীবন  ছাড়া।  আমি সেই  বর তোমাই দেব। সাবিত্রি বলল আপনি যদি সত্তি আমার উপর  সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন তাহলে এই বর দেন যেন (1) আমার অন্ধশ্বশুর আর অন্ধ শাশুড়ি তাদের  দুই চোখের দৃষ্টি যেন  ফিরে পায়।
(2) আমার শশুর মশাই যেন তার রাজ‍্য পুনপ্রাপ্ত করেন(3)আমার পিতার একশোটা পুত্র লাভ হউক।
তথাস্ত বলিয়া ধর্মরাজ যম গমন করিলেন।
 এদিকে সাবিত্রী ও যমের পেছনে পেছনে গমন করিতে লাগিল অবশেষে বৈতরণী নদীর তীরে  উপস্থিত হইল  যম সাবিত্রীকে দেখিয়া বিস্মৃত হয়ে গেল।ধর্মরাজ যম বলিল দেবী তুমি এখনো পর্যন্ত আমার সঙ্গে।সাবিত্রি পুনরায় ধর্মরাজের স্তব করিলেন। ধর্মরাজ সন্তুষ্ট হয়ে বলল। তুমি আরো একটু বর চাও।
সাবিত্রী বলিল -আমাকে এইবর দিন যেন সত‍্যবানের ঔরসে আমার এক শটি পুত্র লাভ হয়। যমরাজ তথাস্তু বলিয়া তাড়াতাড়ি চলিতে লাগলো এবং খুব তাড়াতাড়ি বৈতরনীর তীরে এসে উপস্থিত হল।
পেছনে সাবিত্রীকে দেখে চমকে উঠলো
যমরাজ সাবিত্রী কে বলল মানুষ এখান পর্যন্ত আসতে পারে না তুমি কি করে এলে? সাবিত্রী বলল যে ধর্মরাজের আশ্রয় নিয়েছে সে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে যেতে পারেনা।কিন্তু আমি একটা কথা জানার জন্য এতদূর পর্যন্ত আপনার সাথে এসেছি আপনি আমায় শত পুত্রের জননী হওয়ার বর দিয়েছেন অথচ আমার স্বামীকে নিয়ে চলে যাচ্ছেন ধর্মরাজও কি ধর্ম কথা ভুলে গেছেন। সাবিত্রীর কথা  শুনে ধর্মরাজ লজ্জিত  হয়ে সত্যবানের প্রাণপুরুষকে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর সাবিত্রী সত্যবান এর প্রাণপুরুষ নিয়ে ফিরে এসে সত্যবানের জীবন দান করলেন। সত্যবান ঘুমের থেকে উঠে বসে সাবিত্রী কে বলল চলো আমরা বাড়ি ফিরে যাই।এদিকে শশুর শাশুড়ি দুজনায় সকালে উঠে চোখে দেখতে পায়। এবং সকাল হয়েছে দেখে সাবিত্রী সত্যবান কে না দেখতে পেয়ে চিন্তা করছিল এমন সময় সাবিত্রী সত্যবান এসে উপস্থিত হল তাদের সামনে। এদিকে মন্ত্রীসৈন‍্যসামন্ত নিয়ে রাজার কাছে এসে উপস্থিত হলো আবার রাজা নিজের রাজত্বে ফিরে গেলেন। সত্যবানকে রাজ সিংহাসনে বসিয়ে আনন্দে দিন জাপন করতে লাগলেন।


                                   

Hanuman ji ki aarati

https://youtu.be/820cYGbXAIA

Bipattarini taga banana sikho

https://youtu.be/b6fcsvOlqrY

সোমবার, ১২ মে, ২০২৫

সত্যনারায়ণ ব্রতকথা satyanarayan bratokotha-


 সত্যনারায়ণ ব্রতকথা


সত্যনারায়ণ পূজার নিয়ম

এই ব্রতের কোন তিথি নক্ষত্রের নিষেধ নেই। যে কোন ব্যক্তি প্রদোষকালে এই ব্রত করতে পারেন। নারী-পুরুষ, কুমার-কুমারী নির্বিশেষে এই ব্রত করতে পারে। পূর্ণিমা বা সংক্রান্তি এই ব্রতের সঠিক দিন। উপবাস থেকে এই ব্রত করতে হয়।

সত্যনারায়ণ পূজার উপকরণ / সত্যনারায়ণ পূজার ফর্দ

ঘট, আমডালি, ডাব, কলা, সিঁদুর, গামছা, গঙ্গামাটি, ধান, বসার জন্য পিঁড়ে, বস্ত্র, তীরকাঠি, পান, সন্দেশ বা বাতাস, দুধ, ফুলের মালা, তিল, হরতকি, ফুল-দূর্বা ঘাস, বেলপাতা, তুলসীপাতা, ধুপ বা ধূপকাঠি, দধি, গব্যঘৃত, শিন্নির সামগ্রী, পাঁচ প্রকার ফল, ইত্যাদি।

ধ্যান-

ওঁ ধ্যায়ে সত্য গুণাতীতং গুণত্রয় সমন্বিতং। লোকনাথং ত্রিলোকেশং পীতাম্বর ধরং বিভুঃ। ইন্দি বরদল শ্যামং শঙ্খ চক্র গদাধরং। নারায়ণ চর্তুবাহুং শ্রীবৎস পদ ভূষিতং গোবিন্দং গোকুলানন্দং জগতং পিতরং গুরু।ভক্ত বাঞ্ছা কল্পতরু  ব্রহ্মদেয় পরী পুজিতম!

প্রণাম -নম ব্রহ্মণ্য দেবায় গো ব্রহ্মণ্য হিতায় চ।
জগদ্ধিতায় শ্রীকৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ ।।

 সত্যনারায়ণ ব্রতকথা satyanarayan bratokotha-

সত্যনারায়ণ পদ করিয়া বন্দন।

ক্রমে ক্রমে বন্দিলাম যত সুরগন ।।

কলিকালে নারায়ন পূজার কারণ।

আবির্ভূত হইলেন মরতভুবন।।

 দরিদ্র ব্রাহ্মণ এক মথুরায় ছিল!

না দেখে সুখের মুখ দুঃখে কাল যায়।।

একদিন সেই ব্রাহ্মণ নগর ভ্রমিয়া   

কিছু না পাইয়া ভিক্ষা কাতর হইয়া।।

বসিলেন তরুতলে বিষন্ন বদনে।  
রোদন করেন কত দুঃখ ভাবি মনে।।
দয়ালু  হইয়া চিত্তে সত্যনারায়ন।
ফকিরের  রূপধরী  দিল দরশন ।।  
বিপ্রেরে বলেন প্রভু সোন মহাশয়।       
কি হেতু রোদন করো বসিয়া ধরায়।।
(বিপ্র) কহে কি হবে বলিলে তোমায়। 
ফকির কহেন বিপ্র ক্ষতি কিবা তাই।।
দ্বিজ কয় নিত্য নিত্য ভিক্ষা মেগে খায়।
আজি নাই ভিক্ষামিলে দুঃখ চিন্তা তাই।। 
ফকির কহেন বিপ্র যাহ নিজপুর।
 আমারে পুজিলে হবে সব কষ্ট দূর ।।
বিপ্র কয় নিত্য পুঁজি শিলা নারায়ন।
তাহা বিনা করিব কি ম্লেচ্ছ  আচরণ।।
ফকির কহেন  হাসি শোনো বিপ্রবর।
বেদ বা কোরান কিছু নহে মতান্তর ।।
যেই রাম সেই রহিম নাম একি হয়।  
ত্রিলোকে নাহিকো দুই কোহিনু  নিশ্চয়।।
কহিতে  কহিতে কথা অখিলের নাথ।
শঙ্খ চক্র গদা পদ্মে সোভে চারি হাত।।
দেখিয়া ব্রাহ্মণ তবে পড়িলা ধরণী।   
কত মতে স্তুতিকরে গদ গদ বাণী।।
দেখিতে দেখিতে পুন  হয়েন ফকির ।
তাহা দেখি ব্রাহ্মণের  চক্ষু হয় স্থির।।
ব্রাহ্মণ বলেন প্রভু অর্চিব তোমায়।
পূজার প্রণালী কহ ধরি তব পায়।।
ফকির বলেন শুন শুন বিপ্রবর।        
যেমতে করিবে  পুজা কহি অত্পর।।   
গোধুম সওয়া সের করিবেক গুড়া।  
সুপারি সওয়া গণ্ডা পান রম্ভাছড়া।।
শর্করা সওয়া সের বা ইক্ষু গুড় দিবে। 
ক্ষীর কিম্বা দুধ সহ ভক্তিতে অর্চিবে।। 
এইসব বস্তু বিপ্র করি আয়োজন।
চারিদিকে বসিবেক  যত ভক্তগণ।। 
আমার গুনের কথা শুনিবে শ্রবনে। 
বিধানে পুজিবে বিপ্র পরম যতনে।। 
সত্যপীর কহি সবে মাথে দিবে হাত।  
নারায়ন বলি করিবেক প্রণিপাত 🙏।।

(হরি হরি বল -বোলহরি)🙏🙏🙏

প্রসাদ লইবে যত্নে এইতো বিধান।      
এত কহি নারায়ন হন অন্তর্ধান ।।
শুনিভাবে গদগদ বিপ্র  পুলকিত। 
ভ্রমিতে ভ্রমিতে গৃহে হন উপনীত ।।
ব্রাহ্মণী শুনিয়া হন  হর্ষে নিমগন।   
সির্নি আদি করলেন যত আয়োজন।।
যথাবিধি অর্চিলেন  নারায়ন পদ। 
রাতারাতি হয় গৃহে অতুল সম্পদ ।।  
 ইহা দেখি গ্রামবাসী  কাঠুরিয়া গন।
ভক্তি করি ভিজবরে জিজ্ঞাসে তখন।।
শুনি দ্বিজ বলিলেন বিধান সমস্ত। 
কাঠুরিয়া গন শুনি হয় বড় ব্যস্ত ।। 
সির্নি আদি কৈল তারা  বিহীত প্রকারে।
সর্ব কষ্ট দূর হইল হর্স ঘরে ঘরে ।।
সদানন্দ নামে সাধু ছিল একজন।
কাঠুরের সুখ দেখি হয়ে হৃষ্টমন   ।।
জিঞ্জাসিয়া আদি অন্ত সকলি  জানিল।  
জানিয়া সাধুর হৃদেভক্তি জনমিল ।।
সাধু কহে অপ্রতুল নাহি অন্য ধনে। 
কন্যা নাই কষ্ট তাই চিনতি  মনে মনে।।
যদি মোর গৃহে এক জনমে তনয়া।  
পুজিব শ্রীসত‍্যপীরে সির্নি অগ্রে দিয়া।।
এত কহি গেল চলি সাধু অঙ্গী করি। 
কালেতে জনমে কন‍্যা পরমা সুন্দরী।। 
সির্নি দেওয়ার কথা সাধু যে ভুলিল। 
সুপাত্র দেখিয়া সাধু কন‍্যা বিবাহ দিল।।
কতকালে সাজাইয়া সাতখানি তরী।
জামাতা লইয়া সাধু যায় তাড়া তাড়ি।।
দক্ষিন পাটনে ছিল রাজা কলানিধি। 
সেই দেশে সদাগরে নামাইল বিধি।। 
 নৃপে সম্ভাসিয়া থাকে তরনী চাপিয়া।
বিপত্তি ঘটিল দেখ সিরনি না দিয়া।।
রাজার ভান্ডারে যত ধনাদি আছিল।  
নিশিমধ‍্যে সাধুর নৌকায়  পুর্ন হৈল ।।
চর মুখে শুনি রাজা ধরিয়া লইল।  
 জামাতা শ্বশুরে লয়ে কারায় পুরিল।।
রাজার আদেশে কোটাল মশানে লয়ে যাই। 
পাত্র অনুরোধে তারা দোঁহে প্রান পায় ।।
কারাগারে বন্দি তারা থাকে দুইজন।  
কি কহি দুঃখের কথা না হয় বর্ণন ।।
এখানে  সাধুর ভার্জিা আর তার সুতা। 
পতির বিলম্ব দেখি চিত্তে দুঃখ যুতা ।।   
 সর্বস্ব হইল নষ্ট পড়িল দুঃখতে।     
দাসিত্ব করিয়া রহে পরের গৃহেতে।।  
একদিন সাধুসুতা বেড়াইতে গিয়া।   
আনন্দিতা বিপ্রঘরে সিরনী দেখিয়া।।
বিশেষ জানিয়া তথ‍্য করিল মাননা। 
পিতা পতি উভে গৃহে আসে এ কামনা।।
তারপর গেল ঘরে সাধুর  তনয়া। 
সত‍্যনারায়নের তাহে জনমিল দয়া।।  
শ্বশুর জামাতা যথা বন্দি কারাগারে।
স্বপ্নে কন নারায়ন সেই নরবরে ।।      
শুন শুন ওহে রাজা আমার বচন।      
কলিকালে পুজ‍্য আমি সত‍্যনারায়ন।।   
সদাগর আর তার স্নেহের জামাই।   
বিনাদোষে বন্দি আছে দোষ কিছু নাই।।
রজনী প্রভাত হৈলে দুই সদাগরে।  
দশগুন ধন দিয়া তুসিবে সাদরে ।।      
বলিতে বলিতে হইল মোহন মুরতি।      
স্বপ্ন হেরি চমকিয়া উঠে  নরপতি ।।  
প্রাতকালে উঠি রাজা সবার গোচর।  
আনাইল কারা হইতে দুই সদাগর।।  
বসন ভুসন আর বহু ধন দিল।     
সাধুরে সন্তুষ্ট করি বিদায় করিল ।। 
দশগুন ধন লভি নায়ে দিল ভরা।   
দেশেতে যাইতে সাধু করিলেন ত্বরা।।
পুলকিত সর্বজন হর্ষ কোলাহল।    
নাহিজানে সত‍্যদেব করিলা মঙ্গল।। 
তবে সত‍্যদেব মন বুঝিতে সাধুর।     
ফকির  রুপেতে কন বচন মধুর।।  
ঘাটে বসি ভিক্ষা হেতু শুন সদাগর।  
কিছু ভিক্ষা দিয়া তুমি যাও নিজঘর।।
হইবে মঙ্গল তব আমি ঘরে যাই।   
কুশলে থাকহ তুমি শুন সাধু ভাই  ।।  
সাধু কহে তোমা দিলে কিবা ফল হবে। 
ক্ষমতা থাকিলে কেন কানি পরে রবে ।। 
তুষ ও অঙ্গার মাত্র আছে মোর নায়। 
চাহ যদি দিতে পারি জানাই তোমায় ।। 
শুনি কিছু না বলিল সত‍্যনারায়ন।
বসিয়া রহিলা ঘাটে মুদিয়া নয়ন।।       
কিছুদুর গিয়া হেরে শশুর জামাই।  
 তুষ ও অঙ্গার বিনা নায়ে কিছু  নাই ।। 
সাত নায়ে যত বস্তু সকলি অমনি।  
শশুর জামাই কান্দে শিরে কর হানি ।। 
জামাতা কহিল চিন্তে তাবে সাদাগরে।  
এ ঘটনা ঘটে ভিক্ষা না দিয়া ফকিরে।।
সে জন সামান‍্য নহে বুঝি অনুমানে।  
চল চল ধরি গিয়া তাহার চরনে।।  
এত শুনি সদাগর ফিরাইল তরী।     
পুনঃ সেই ঘাটে যায় অতি ত্বরা করি ।।
হেরিল ফকির তথা আছেন বসিয়া। 
দুজনে পড়িল গিয়া পদেতে ধরিয়া ।।
অপরাধ  ক্ষম প্রভু কর এবে দয়া।  
নরাধম হেরি দেহ চরনের ছায়া ।। 
হাসিয়া ফকির বলে নায়ে গিয়া চড়। 
কড়ার ভিক্ষারী আমি পদে কেন ধর ।।
কান্দিতে কান্দিতে তবে বলে দুইজন।
কুকর্ম করেছি ক্ষমা কর নারায়ন।।
 মানিয়া সিরনী ভুল হয়েছে আমার।  
অপরাধ  হইয়াছে পদেতে তোমার।। 
কহিলাম সত‍্য এই বলি দাড়াইয়ে। 
সওয়া সের স্বর্নের সির্নি দিব গিয়ে।।
সত‍্যনারায়ন তবে সদয় হইল।       
প্রনতি করিয়া  সাধু তরিতে চড়িল ।। 
উত্তরিল ঘাটে  সাধু হইল কোলাহল। 
 সাধুর গৃহিনী সুতা শুনি কৌতুহল ।। 
নৌকার  দ্রব‍্যাদি যত ঘরেতে লইয়া। 
সিরনি করিল সাধু পুলকে মজিয়া।।
প্রসাদ লইল সবে যুড়ি দুই পাণি।  
লইতে মাটিতে ফেলে সাধর নন্দিনী ।।
দেখি সত‍্যদেব তবে ক্রৌধিত হইল।  
জামাতা সহিত নৌকা সলিলে ডুবাল।।
তাহা দেখে সাধু করে ঘোর উচ্চনাদ। 
হায় হায় আকস্মাৎ হলো কিপ্রমাদ  ।। 
শুনি সাধু কন‍্যা যায় ডুবিয়া মরিতে।  
জননী না পারে তারে ধরিয়া রাখিতে ।। 
হেনকালে দৈববানী হৈল আচম্বিত।  
সিরনী ফেলিয়া সুতা কৈল বিপরীত ।।
ইহা শুনি সাধুসুতা তখনি উঠিয়া।     
মাটি হৈতে সির্নি তবে খাইল চাটিয়া।।
ভাসিল নৌকার  সহ সাধুর জামাই। 
 যত দ্রব‍্য আছে সব কিছু নড়ে নাই ।।
তরির যতেক বস্তু ভান্ডারেতে আনি।  
করিলেক সওয়া সের সোনার সির্নি ।।
স্বপ্নে বলিলেন প্রভু শুন সাধু কই।    
আটায় সন্তুষ্ট আমি সর্বক্ষন হই  ।। 
  স্বপ্নে শুনি সদাগর পরম আনন্দ।   
 আটার সিরনী কৈল সাধু সদানন্দ ।।     
এ কথা রটিল ক্রমে সবার আলয়। 
ভক্তিতে পুজিলে বাঞ্ছা আশু সিদ্ধ হয়।।
গুনকথা শুনিবেক হয়ে এক মন।   
 বিমনা হইলে রুষ্ট সত‍্যনারায়ন।।      
এক চিত্তেশুনে কিম্বা পুজে নারায়ন।
 ছুইতে না পারে তারে কদাচ শমন ।।
শঙ্করাচার্য‍্যের মত প্রবন্ধ প্রাচীন। 
 অতঃপর  বল সবে সত‍্যনারায়ন।।🙏🙏🙏
হরি হরি বল   বোলহরি🙏🙏🙏🙏🙏🙏
 ব্রতকথা মাহত্য-
কলির প্রথম তত্ত্ব ফকিরত্ব কায়া।
দ্বিতিয়ে দরিদ্র দ্বিজে
দিলে পদ ছায়া।।
তৃতীয়ে তৃবীধ লোকে
করিলে নিস্তার। 
চতুর্থে উৎকট কষ্ট
নষ্ট কাঠুরার।।
কন‍্যা জন‍্য মননে
পঞ্চমে পরাতপর।
সদানন্দ সধরে
সংকটে দিলে বর।।
পাশরনে প্রতিফল বন্ধন বিশেষে।
ষষ্ঠেতুষ্ট হয়েকষ্ট
দুর কৈলেশেষে।।
সপ্তমে সাধুর সনে 
পথে বিড়ম্বন।
অষ্টমে অবলার
অহংকার বিমোচন।।
কতঠাই ঠাকুরালী
করিয়া প্রচুর।
দরিদ্রের দুখঃকষ্ট 
কতকৈলে দুর।।
পুত্রার্থীরে পুত্রদিলে
ধনার্থীরে ধন।
দারার্থী সবাই সেবে তোমার  চরন।।
তোমারে যে পুজে তার
চর্তুবর্গ আগে।
কবুদ্ধী বন্ধনে মুক্ত
রোগী মুক্ত  রোগে।।
আপনি রচিলা প্রভূ
আপন কির্তন।
মোর দোষ ক্ষম নাথ
চরন স্মরন।।
নায়কে সন্তুষ্ট হও
গায়কে সু সর।
আসর সহিত নারায়ন
দেহবর।।
গ্রন্থ সাঙ্গ হইল
রচিল শিবরাম।
সবে হরিধ‍্যন্নিকর
মঞ্জুরা প্রনাম্।।
হরি হরি বল🙏🙏🙏
                          শ্রীরামেশ্বরী সত‍্যনারায়ন
                                  ব্রতকথা-

সত্য সত্য সত্যপীর সর্ব্বসিদ্ধি দাতা।

বাঞ্ছা বড় বাড়িল বর্ণিব ব্রতকথা।।

রসাল রসিক-প্রিয় রামাই বিরাগে।

বৃন্দারক-বৃন্দাকে বন্দনা করি আগে।।

গুরুগণে গণেশ করিয়া প্রণিপাত।

বন্দ বহ্নি বিপ্র বিধি বিষ্ণু বিশ্বনাথ।।

ক্ষিতি লোটাইয়া বন্দ গুরুর রমণী |

পরম সাদরে বন্দ জনক জননী ||

ত্রি সাবিত্রী সিন্ধুপুত্রী সরস্বতী শিবা।

ত্রিসন্ধ্যা নক্ষত্র চন্দ্র সূর্য্য রাত্রি দিবা।।

কামাখ্যারে করি নতি ধর্ম্মরাজ সুতা।

সসর্প মনসা বন্দ মহেশের সুতা।।

অষ্ট বসু নবগ্রহ দশদিক্‌ পাল।

প্রণমিব পঞ্চানন পরম দয়াল||

প্রণমিব পরাত্পর নদের নিমাই 

বীর ভদ্র নিত্যানন্দ শ্রী রূপ গোসাই ||

অপ্সরা কিন্নরী বন্দ ডাকিনী যোগিনী 

ছয় রাগ ষড় ঋতু ছত্রিশ রাগিনী।।

অতঃপর বন্দিনু রহিম রাম রূপ।

 ত্রিদশের নাথ বন্দ ভূবনের ভূপ।।

 কোরান কেতাব আর কমলা সংহতি ।

সুবিখা পীরের পায় প্রচুর প্রণতি।। 

অপর যতেক পীর বন্দ ষডকরে।

 ফনিন্দ্র নগেন্দ্র ইন্দ্র কাঁপে যার ডরে।।

পরে সত্যপীর বন্দি কহে দ্বিজ রাম।

 সাকিম বরদাবাটি যদুপুর গ্রাম ।।

জয় জয় সত্যপীর ,সনাতন দস্তগীর, 

দেব দেব জগতের নাথ।|

 কে জানে তােমার তত্ত্ব, তুমি রজঃ তুমি সত্ত্ব,

 তােমার চরণে প্রণিপাত।।

 সৰ্ব্বভূতে সৰ্বময়, চারু চরাচরে কয়,

চন্দ্রচূড় চিন্ত্য চিন্তামণি।। 

পূৰ্বে হয়ে দশমূৰ্ত্তি,করিলে আপন কীর্তি,

সত্যপীর হইলে ইদানী ।।

ছয় দরশনে কয় ,এক ব্ৰহ্ম দুই নয়,

অন্য অন্য ভিন্ন ভিন্ন নাম||

 কলিতে যবন দুষ্ট, হিন্দুকে করিল নষ্ট,

দেখিয়া রহিম হইলা রাম।।

  ব্রাহ্মণেরে করে ভেদ,ঘুচালে মনের খেদ,

রক্ষা কৈলে সৃষ্টি আপনার।।

 এক চিত্তে অল্প ধনে,যে তােমারে সির্ণি মানে,

হাসিল্ করহ কাম তার।। 

দরিদ্র দ্বিজের কাছে,পূর্বকালে সত্য আছে,

ভক্তবাক্য পালিবা আপনি||

নায়কের হয়ে তুষ্ট ,সির্নিতে করহ দৃষ্ঠ,

সুনহ আপন ব্রতবানী।।

 তোমার অর্চনা যথা, দুঃখের বিনাশ তথা ,

গায় যে গাওয়াই যেবা শুনে||

তুমি রক্ষা করো তারে,মাহামারে মহাঘোরে,

মহারনে বনে রিপুস্থানে||

দৃড ভক্তি হইল যার,পাতক না থাকে তার,

মনোরথ সিদ্ধ হাতে হাতে||

কহে দ্বিজ রাম ইশ্বর,বুঝি কার্য্য কর নর,

হরি বল পীরের পিরীতে।।

 সর্বলোক শুন শুন সর্বলোক শুন্|

 সত্যপীরে স্মরিয়া সিনির্তে দেহ মন||

প্রবাল প্রতাপ পীর পাপ তাপ হারী|

 যেরুপে জাহির তাহা নিবেদন করি||

দিল্লির দক্ষিণ দেশ মথুরেশপুর|

তাহেএক বিপ্র ছিল বড়ই বিদুর||

খাইতে না মিলে অন্ন চালে নাই খড়|

তেঁই প্রভু পীরপুত্র তার পদে গড়||

আপনি অত্যন্ত যতি সতী সীমন্তনী|

দামোদরে দৃড় ভক্তি দিবস রজনী ||

লঙ্ঘন বঞ্ছন কভু ভিক্ষায় ভক্ষন|

কৃষ্ণসখা সুদামার সকলি লক্ষন||

আপনি রেবতীপ্রিয় ততোধিক প্রিয়া|

আত্ম উপবাসি অন্ন অন‍্য জনে দিয়া||

জঠরের জ্বলনে যখন প্রান যায়|

তখন মগন মন গোবিন্দের পায়||

কতদিনে কৃষ্ণ পাব ভাবে দিবারাতি|

বান্ধিল প্রেমের পাশে অখিলের পতি||

তবেপ্রভু দয়া কৈল ব্রাহ্মনের সঙ্গ|

কদাচিত ভজনে ভক্তির নাহি ভঙ্গ||

নানারুপে বিড়ম্বিয়া হারিলেন হরি|

ভক্ত বটে কিরুপে ইহারে কৃপাকরি||

ভিক্ষা ভঙ্গি  ভক্তি বুঝি ভ্রমে সাথে সাথে|

প্রভুহয়ে প্রশ্চাতে প্রত‍্যক্ষ হৈলা পথে||

ব্রাক্ষন ভিক্ষায় যেতে তাতে কৈল মায়া|

যত যত দাতা জীবে হরিলেন দয়া||

ঘরেঘরে ফিরে দ্বিজ ডাকে কলস্বনে|

কেহঘরে থাকে কেহ থাকিয়া না শুনে||

কেহ বলে ফিরে মাগ প্রসবিছে নারী |

কেহবলে নিত্ত কি তোমার ধার ধারি||

কেহগালি দেয় কেহবলে দুর দুর|

মারিতে চলিল কেহ হইয়া নিষ্ঠুর||

প্রতিগৃহে ভ্রমি ভিক্ষা না পেয়ে নগরে|

দাতাকৃষ্ণ কোথা বলি ডাকে উচ্চঃস্বরে||

বাটি বাটে গিয়া মাঠে অপরাহ্ন কালে|

বিষাদে বসিল বিপ্র বটবৃক্ষ তলে||

কি করিব আশ্বাস নিশ্বাস ঘন ছাড়ে|

ছল ছল চক্ষে জল টস টস পড়ে||

ধৈরজ না ধরে দ্বিজ ধৈরজ না ধরে|

বাড়িল বিবেক বড় ব্রাহ্মনীর তরে||

বুভুক্ষিতা বনিতা বাটীতে বাট চেয়ে|

কেন কৃষ্ণ হেন কৈলে দীনবন্ধু হয়ে||

সত্ত্বগুনে সবার পালন কর্তা তুমি|

অবনীতে অপাল‍্য অধম মাত্র আমি ||

মাগিলে না মিলে ভিক্ষা রিক্ত হস্তে যাই|

পুর্বকৃত পাপে এত মনস্তাপ পাই||

এ পাপ শরীর আর না রাখিব আমি |

পরলোকে প্রভু পরিত্রান কর তুমি ||

পতিত জনারে যদি দয়া না করিবে|

জগন্নাথ নাম তব কেমনে ধরিবে||

আপনাতে অধমতা হৈল নিজ ভ্রম|

তিতিক্ষাতে তনুত‍্যাগে কৈল উপক্রম||

দাসে দুঃখী দখি দামোদরে হৈল দয়া|

সব্বর্দা প্রতক্ষ হব দিব পদছায়া||

ফকিরে ফকিরে উরে নব ঘনশ‍্যাম|

হুকম মাফিক হদ্দ বিরচিল রাম||

দ্বিজবরে দিতে বর, কলি হেতু সত্বর ,

শ্রীমাধব হইলেন পীর||

ফকিরের সাজে, জগতে বিরাজে,

 অদ্ভুত শ্রীকৃষ্ণ শরীর ||

যুবত্ব বয়েস- সুবেশ মহেশ, 

বিধুমুখে মধুরম হাসি||

মস্তক উপর -পাগ মনোহর,

 নানা ভরন বিলাসী||

বড় বড় কৌড়ি- গ্রন্থিত গুধড়ি, 

বাঘছাল থালি শাল দন্ড||

প্রবাল তাড়ি ফল- মুকতা ঝলমল,

 মালা মঞ্জিল চন্ড||

ঘন্টা রুণ রুণ- জিকির ঘন ঘন, 

ঝন ঝন জিঞ্জির শব্দ||

রামেশ্বর বলে- বসিয়া তরুতলে ,

ব্রাহ্মণ  হইল স্তব্ধ||

কপটে দয়াল কহে দিজ্বরে তখন।

ফকিরের আশীর্বাদ করহ গ্রহণ।।

তুমি বত্‍স জ্ঞানী দেখি ধর্মাত্মা তোমারে।

ক্ষুদায় কাতর কিছু খাওয়াও আমারে।।

সমস্ত পৃথিবী দেখি সব মিথা জাল।

কেহ নাহি করে দান এক মুষ্ঠি চাল।।

বিপ্র বলে দেওআন  ও কথা কহ কাকে।

মনস্তাপে মারীতে বসেছি ওই পাকে।।

কলি হইল প্রবল মাজিল ধর্ম পথ।

দেওয়ান কহে বাছা কহ টা কিমত।।

নিজ কষ্ট কহি বিপ্র করেন রোদন।

 নারিলাম খাওয়াইতে আমি অভাজন।।

ধর মোর বসন অশন কর বেচে।

মৃতুকালে মোর ধর্ম মজাইবে মিছে।।

বিশ্বনাথ বিশ্বাস বুঝিয়া কন বাছা।

জগতেএরূপ কভি লোক নাহি সাচা।।

ভাল বাবা কেন তোমার মৃতু কাল কেন।

সুখ দু:খ আসে যাই দিব রাত্রি হেন।।

তোমার সকল কথা হইয়াছি জ্ঞাত।

কাপড় লইয়া এস আমার সাহিত।।

আমারে জানিবে তুমি সত‍্য সত‍্য পীর।

তব দুঃখ দুর আমি করিব ফকির।।

এরুপ বিধান কিছু বলিব তোমায়।

যাহার কারনে শেষে সিদ্ধিলাভ হয়।।

ত‍্যপীর পদ কৈলে একান্তে চিন্তন।

করিবেন তিনি র্সব্ব আশার পুরন।।   

আপনি যাইয়াপীরে কর সির্নিদান।

সকলে করিবে তব আদেশ পালন।।

বাকসিদ্ধ হবে তুমিযারে যা বলিবে।

ভবিষ্যৎ বানী তব অবশ‍্য ফলিবে।।

সত‍্যপীর পদদ্বয় হৃদয়ে চিন্তিয়া।

শুদ্ধমনে বিধিমত ইহাকর গিয়া।।

দ্বিজ বলে যা কহিলে দেওয়ান মহাশয়।

যবনের কার্য‍্য সেত ব্রাহ্মনের নয়।।

ইষ্ট ছাড়ি অনিষ্ট ভজিব কেন অন‍্য।

মজাইব পরকাল ইহকাল জন‍্য।।

দেওয়ান কহেন শুন জ্ঞান বাত।

রাম রহিম দুই নাম ধরে এক সাথ।।

এত শুনি মনে মনে বিস্ময় ব্রাহ্মন।

আপাদ মস্তক তাঁর করে নিরীক্ষন।।

চকিতে চকিতে মুর্তি ধরেন অশেষ।

চক্ষুর নিমেষে হৈল ব্রাহ্মনের বেশ।।

নিদান বুঝিল প্রভু ভকত বৎসল।

ধরনীলোটায়ে পড়ে চরনকমল।।

পুলকে পুনির্ত তনু সকরুনে কয়।

ছাড় মায়া কর দয়া দেহ পরিচয়।।

হাসিতে হাসিতে প্রভু দ্বিজেকন তবে।

নিদানে আমার তুমি  পরিচয় পাবে।।

বিধি মোর বড় ভাই মহেশ অনুজ।

শঙ্গচক্র গদাপদ্ম ধারী চতুর্ভুজ।।

কৃষ্ণকেলি মথনে কেশব মোর নাম।

মক্কায় রহিম আমি অযোধ্যায় রাম।।

পরাপর চরাচর আমি যে যাবন্ত।

সুরপুরে ইন্দ্র আমি পাতালে অনন্ত।।

ফকির হইনু আমি তোমার কারণ।

কলিতে সম্প্রতি বাছা সত‍্যনারায়ণ।।

দ্বিজবলে কহ যত সব বিপরীত।

পীরের সিনির্তে বা বিষ্ণুর কেন প্রীত।।

যেইপ্রভু পরমাত্মা সেই কেন পীর।

তুমি বা ফকির কেন ব্রাহ্মণ শরীর।।

প্রভু কন ভাল জিজ্ঞাসিলে দ্বীজ ধন‍্য।

সাধু সাধু বলি কৃষ্ণ কহে ব্রত জন্য।।

রাম বলে ভাল জিজ্ঞাসিলে শুন বলি।

মোক্ষ স্বর্গ মারা গেল কাল হৈল কলি।।

কলির মহিমা সাধু শুন শুন বলি।

 পরীক্ষিত পতনে প্রবল হৈল কলি।।

একদিন সেই পরীক্ষিত ক্ষিতিনাথ।

মৃগয়াতে কলিক্রীড়া দেখিল সাক্ষাৎ।।

গো রুপ তরাসে ধর্ম কলিহৈল নর।

নির্ঘাত প্রহার করে গরুর উপর।।

তিন পা ভেঙ্গেছে গরুর এক পদ উবু।

সেই পায়ে নির্ঘাত প্রহার করে তবু।।

খড়্গ ধরি কাটিতে চলিল মহাবল।

ব‍্যক্ত হয়ে কহে কলি হাসে খল খল।।

শুনরে নির্বোধ আমি বধ‍্য নহি তোর।

ইহাতে ঈশ্বর দত্ত অধিকার মোর।।

গোরু নয় ধর্ম এই কলিকাল আমি।

বধিব ইহারে আমি কি করিবে তুমি।।

রাজা বলে কি বলিলেতব নাম কলি।

অল্প দিনে এখনি এতেক ঠাকুরালী।।

বঞ্ছাছিল ভালহৈল পইলাম দেখা।

দুর্জন দমন আমি সজ্জনের সখা।।

শুকমুখে শুনেছি তোমার বিবরণ।

কালব‍্যাধি প্রতি কৃষ্ণনাম রসায়ন।।

সতত ভারত কথা সভাতে আমার।

মোর অধিকারে কি তোমার অধিকার।।

এত শুনি কলি করিলেন হেট মাথা।

কহনৃপ আমার ভোগের স্থান কোথা।।

বাছিয়া ভুপতি চরি স্থান দিল তারে।

সূরা শুনা সুর্বনবনিক স্বর্নকারে।।

ধর্মের নিস্তার করি রাজা গেল ঘর।

সেই হৈতে ধর্ম ছাড়া এই চারি নর।।

এখন এমন দাতা পরিক্ষিত নাই।

ধর্ম নাশে কলির বিস্তর হৈল ঠাঁই।।

কতকাল করিবেক সব একাকার।

যবনাদি জাতিভেদ না থাকিবে আর ।।

আর কত অনীত হইল উপস্থিত।

ব্রহ্ম ক্ষত্র বৈশ‍্য শুদ্র স্বর্ধম বর্জিত।।

পুন‍্য পথে কদাচিৎ আছে কোন নর।

পরদারে পরদ্রোহে প্রবৃত্ত বিস্তর।।

যে জন দুর্জন তার পুজা সর্ব ঠাঁই।

নিস্পৃহের অনাদর অন্ন জুটে নাই।।

সুজন সর্বদা নিন্দ‍্য দুর্জনের যশ।

বাপমায়ে তুচ্ছ জ্ঞান বনিতার বশ।।

পুত্র পিতা সদা দ্বন্ধ নাহি স্নেহভাব।

শাশুড়ি বধুতে দ্বন্ধ সতীনের ভাব।।

সংক্ষেপে কলির কথা মাহাত্ম্য নির্ণয়।

পড়েছ শুনেছ যত ব্রাহ্মণ তনয়।।

আর সিদ্ধি শুদ্ধি বুদ্ধি স্ফুর্তি নহে পাপে।

প্রভু হয়ে পীরত্ব পেলাম এই পাপে।।

নাম মাত্র প্রভেদ নৈবেদ্য মাত্র ভেদ।

পীর বলি না জানিবে না ছাড়িবে বেদ।।

প্রকারে অধর্মী জীবে করিতে উদ্ধার।

আইলাম এই স্থানে কর অঙ্গীকার।।

তুমি ভক্ত দৈবমুক্ত অনুরক্ত মোরে।

প্রকাশিয়া পথ পরিত্রান কর নরে।।

আজি হইতে আর ভিক্ষা না করহ তুমি।

হের ধর নবরত্ন দিয়া যাই আমি।।

প্রভু দিল রত্ন দ্বিজ যত্ন করি লয়।

রামেশ্বর নতি করি করপুটে কয়।।

কিবা দিব কার সির্ণি কার আবাহন।

কিবা ঋদ্ধি হয় সিদ্ধি মহিমা কেমন।।

সর্বশেষ উপদেশ বিশ্বনাথ বলে।

বান্ধিবে বিচিত্র বেদী মনরোম‍্য স্থলে।।

গোময়েতে সুন্দর সংস্কার  করে স্থান।

আলিপনা আদি ধ্বজা পতাকা নিশান।।

বেদীতে স্থাপিয়া পীঠ তাহে দিবে বাস।

ছুরি কাটারি কিম্বা তাহে খড়্গ চন্দ্রহাস।।

তার চারি তরফে সুচারু চারি তীর।

তার মধ‍্যে অধিষ্ঠিত আমি সত‍্যপীর।।

পঞ্চদেব পুর্ব পুজা পঞ্চ উপচারে।

বিষ্ণু বিধি ধ‍্যান অদি জ্ঞান অনুসারে।।

উদ্মুখে বেড়িয়া বসিবে বন্ধুগনে।

সির্ণির দ্রব‍্যাদি বলি শুন সাবধানে।।

গুড় দুগ্ধ আটা রম্ভা ফল পান গুয়া।

সম্ভব বিভব মত সব সওয়া  সওয়া।।

আবির্ভূত  চতুষ্টয় করিয়া সংযোগ।

নমঃ সত‍্যপীরায় বলিয়া দিবে ভোগ।।

কাঁচায় এই মত মতান্তরে কহি পাকা।

আনা মাষা আদি করি কড়ি কিম্বা টাকা।।

সওয়া সংখ্যা মুল‍্য যদি মিষ্টান্ন হয়।

সর্মপিলে সত‍্যপীরে সর্বসিদ্ধি হয়।।

সঙ্কটে পড়িয়া যদি স্মরে সত‍্যপীর।

ত্রিভুবনে অব‍্যয় সে নির্ভয় শরীর।।

ব্রতের মাহাত‍্য শুনি বিপ্রের তনয়।

করপুট করি কহে করিয়া বিনয়।।

ঘুচিল সংশয় গ্রন্থি সির্নি দিব আমি।

যদি হরি বট চতুর্ভুজ হও তুমি।।

ভক্তের ভাষনে চতুর্ভুজ হন হরি।

শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম চতুর্ভুজধারী।।

মহা তেজোময় মুর্তি দেখি দ্বিজবর।

আনন্দ সাগরে যেন ডুবিল অন্তর।।

পুলকে প্রেমের সিন্ধু উথলিয়া উঠে।

অবাক হইয়া দ্বিজ রহে করপুটে।।

কত কষ্টে কহিল চরনে দিও স্থান।

স্বীকার করিয়া হরি হৈল অন্তর্ধান।।

প্রভু কৃষ্ণ করি কৈল অনেক রোদন। 

হইল আকাশবানী যাহ নিকেতন।।

উদ্দেশে প্রনমি দ্বিজ চলে নিজধাম।

হুকুম মাফিক হদ্ বিরচিল রাম।।

হেথা বিষ্ণু গেলা বিষ্ণুশর্মার মন্দিরে |







janmastami 2024

 এই বচ্ছর 26আগষ্ট

 জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান করনিয়।পরের দিন গোষ্ামী মতে নন্দোতসব পালন করাহবে।        

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৪

জন্মাষ্টমী ব্রতকথা Janmastami Brotokotha

কৃষ্ণজন্মাষ্টমী ব্রতকথা krishna Janmastami Brotokotha

কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ব্রত বাংলার হিন্দুসমাজের আচরণীয় ব্রতগুলির অন্তর্গত একটি ব্রত। বাংলার বাঙালি হিন্দুঘরের (প্রধানত বৈষ্ণব মতাবলম্বী) পুরুষ ও মহিলারা জাগতিক মঙ্গলকামনায় এবং অশুভ-অকল্যাণ দূর করতে এই ব্রত পালন করেন। এটি ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষে জন্মাষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের পূজার অঙ্গ হিসাবে পালন করা হয়।
 

জন্মাষ্টমী ব্রতকথা-

একদিন কুলো পুরহিত বশিষ্ঠ দেবকে  রাজা দিলিপ জিজ্ঞাসা করলেন।

ভাগ্যবান শ্রীভগবান নারায়ন ভাদ্র মাসে কৃষ্ণপক্ষে অষ্টমী তিথিতে  মর্তধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন কেন।,
 আমাকে বিশেষ করিয়া বলুন।
 বৈশিষ্ট্য দেব বলল মহারাজ যে কারণে ভগবান বৈকুণ্ঠ হইতে মর্তে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন তাহা বলিতেছি শুনুন।

 এই সমগ্র পৃথিবীর অধিপতি ছিলেন অসুর রাজ কংস।
 তিনি মদগর্বে উন্মত্ত হইয়া বসুমতি কে প্রতারিত  করিতে লাগিলেন তাই বসুমতি কান্দিতে কান্দিতে কৈলাসে গিয়া মহেশ্বর কে সব কথা বলিলেন।
সৎ হৃদয় মহেশ্বর পৃথিবী ও দেবতাকে লইয়া  ব্রহ্মার নিকট উপস্থিত হইল এবং ব্রহ্মাকে সব কথা বলিলে ব্রহ্মা  সমস্ত কথা শুনে  দেবগণকে লইয়া ক্ষীরোদ সাগরের তীরে গিয়ে উপস্থিত হইলএবং ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করিতে লাগিলেন হে লক্ষীকান্ত আপনাকে নমস্কার আমরা আপনার শরণাগত আপনি আমাদের প্রার্থনা পূর্ণ করুন।
   এইভাবে সকলেই  বিষ্ণুর স্ত ব  করিতে  লাগিলেন এবং লক্ষীকান্ত আপনাকে নমস্কার আপনার শরণাগত আমরা আপনার কাছে  কৃপা পার্থী  আমাদের এই প্রার্থনা পূর্ণ করুন।
 এইভাবে স্তব  করিলে ভগবান বিষ্ণু স্ত বে তুষ্ট হয়ে ভগবান বিষ্ণু মধুর বাণীতে জিজ্ঞাস করলেন হে দেবগণ আজ তোমাদের মুখ মলিন দেখিতেছে কেন ব্রহ্মা বলিল যে হে  জগন্নাথ দুরাচার কংস মহাদেবের বরে দৃপ্ত হইয়া ধরা সতী কে প্রপিড়িত করিতেছে।
 আপনি দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করিয়া দুষ্ট কংস কে নিপাত করুন। 
ব্রহ্মার এই কথা শুনে ভগবান বিষ্ণু অধোবদনে চিন্তা করিয়া মহেশ্বর কে বলিল  যদি আমাকে মর্তে জন্মগ্রহণ নিতে হয় তা হইলে এক বছরের জন্য পার্বতী কে আমার সঙ্গে জন্মনিতে হইবে অনুমতি দেন।
তাহাই স্থির হইল।
 তিনি গোকুলে জন্ম নেবার পর একটি বচ্ছর থাকিয়া ফিরিয়া  আসিবেন।
 নিজে হরি আর পার্বতী উভয়ই মর্তধামে শুভ যাত্রা করলেন। দেবকীর গর্ভে হরি আর যশোদার গর্ভে পার্বতী জন্ম নিলেন।


দশ মাস দশ দিন গর্ভে থাকার পর ভাদ্র মাসে কৃষ্ণ অষ্টমী তিথিতে রোহিনী নক্ষত্রে জন্মগ্রহণ নিলেন।
 তখন ঘোর অন্ধকার মুষলধারে বৃষ্টি পড়িতেছিল সেই সময় কংস কারাগারে দেবকি আবদ্ধ ছিলেন। 
ঠিক সেই সময় যশোদার গর্ভে পার্বতী জন্ম গ্রহণ করিলেন।
 নবজাতক শিশুর অলৌকিক রূপ দেখে বসুদেব ও দেবোকির বিস্ময়ের পরিসীমা রইল না।
তারা  সজল নেত্রে বলিতে লাগিল হে ভগবান কংস  ভয় হইতে আমাদের পরিত্রাণ করুন।
তখন আকাশবাণী হইল বসুদেব তুমি শিশুকে লইয়া বিরাট নগরে নন্দ গৃহে গমন করো।
  এই শিশুকে দিয়ে তাহার কন্যাকে লইয়া এস।কংস তাকে  বিনাশ করিতে সমর্থ হইবে না।
 দৈববাণী শ্রবণ করিয়া বসুদেব তখনই শিশুকে কোলে লইয়া যাত্রা করলেন। তিনি একাকী সেই অন্ধকার পথ বাহিয়া চলিলেন।
  ক্রমে যমুনার তীরে উপস্থিত হইল।
  যমুনা নদীর ভীষণ বন্যা দেখে ভেয় বেকুল হয়ে  উঠিলেন কিভাবে পারাপার করিবেন।
তীরে দাঁড়াইয়া সজল নেত্রে শিশুর মুখপদ্ম অবলোকন করিতে লাগিল।
তাহার হৃদয় বিচলিত হইয়া উঠিল।
   চিন্তামগ্ন বাসুদেবকে মায়াময় শ্রী হরি মায়াময় শৃগাল রুপ ধারণ করে পদব্রজে যমুনা নদী  পারাপারে গমন করিলেন।
তাই দেখে বসুদেবের মনে আসার সঞ্চার হইলো। সে মনে করিল আর চিন্তা কি এই মনে করিয়া  শিশু কোলে লইয়া যমুনা গর্ভে অবতরণ করিলেন এবং ধীরে ধীরে জলরাশি ভেদ করিয়া চলিতে লাগিল। মায়াময় হরি পিতাকে মায়ামুগ্ধ করিতে বাসনা হইল।
অর্ধপথে পিতার হস্ত হইতে নদী  গর্ভে নিপাতিত ও অদৃশ্য হলেন।
 বসুদেব নিজ বক্ষে আঘাত করিয়া বিলাপ করতে লাগলো বললো হে বিধাতা তোমার মনে কি এই ছিল। আর কত দিকে আমাকে বিড়ম্বিত করিবে। আমার প্রানের প্রান নিধিকে প্রত্যাপর্ন করিয়া আমার হৃদয় শীতল কর।
 নতুবা এই যমুনা গর্ভের জীবন ত্যাগ করিব। 
পিতার হৃদয়বেদনা হৃদয়াঙ্গম করিয়া  দয়াময়ের অন্তর বিচলিত হলো। আর তিনি জল গর্ভে জলক্রীড়া করিতে সমর্থ হইলেন না  তৎক্ষণাৎ পুনরায় আসিয়া পিতার ক্রোড়ে আসলেন।বসুদেবের আনন্দের সীমা রইল না তিনি ধীরে ধীরে শিবারুপিনীর প্রশ্চাতে প্রশ্চাতে পরপারে আসিয়া উপস্থিত হইলেন।

 অনন্তর অন্যের অগোচরে  নন্দালয়ে নন্দীর সূতিকাগৃহে প্রবেশ করিয়া যশোদার নিকট পুত্র দিয়া সদ্যপ্রসূত কন্যাটি লইয়া প্রস্থান করিলেন। মায়াময় শ্রী হরির মায়াতে কেহই ইয়ার কিছু জানিতে পারিল না। নিজে কারা গৃহে প্রবেশ করিয়া দেবকীর কোলে কন্যা রত্ন সমর্পন করলেন।
 প্রভাতে লোক মুখে দেবকীর প্রসববার্তা শুনে কংস তৎক্ষণাৎ দেবকীর নিকট দুত প্রেরণ করিলেন। দুত অবিলম্বে  মাতৃক্রোড় হইতে কন্যাটিকে লইয়া কংসের নিকট হাজির করিল।।
কন্যার ভুবন আলো রুপ দেখিয়া কংস মনে মনে ভীত হইলেন।  কম্পিত স্বরে বলিলেন শীঘ্রই ইহাকে শিলায় নিক্ষেপ করিয়া প্রাণসংহার করো।
 আদেশ মাত্র যেমনি সেই কন্যাটিকে শিলায় নিক্ষেপ করিতে উদ্যত হল অমনি যোগমায়া তার হস্ত হইতে নভোমার্গে গিয়ে নিজ মূর্তি ধারণ করিয়া বলিলেন।
শোন শোন ওরে কংস 
                   তোরে বধিবারে।
বাড়িছেন নারায়ন
                   গোকুল নগরে।।
 এই কথা বলিয়া দেবি ভগবতি অন্তর্ধান হলেন। 
এদিকে শ্রী হরি নন্দালয়ে বাল্য জীবনের নানা রূপে বাল্যলীলা করিয়া যথাকালে মথুরায় গমনপূর্বক দুরাচার কংস কে বধ করলেন।
জগত নিষ্কণ্টক হইল।
বসুন্ধরা দুর্বিষহ ভার হইতে নিষ্কৃতি পাইল।
রাজন
 আমি জন্মাষ্টমীর ব্রত কথা কীর্তন করিলাম। নর-নারীর সকলের এই ব্রত করা কর্তব্য।যিনি শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী তিথিতে এই ব্রত অনুষ্ঠান করেন তিনি ইহধামে  অতুলৈশ্বর্য ও নানা সুখ ভোগ করে থাকেন। 
অন্তিমে বৈকুণ্ঠধামে নিশ্চই স্থান প্রাপ্ত হন।
"হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণকৃষ্ণ হরেহরে"
"হরেরাম হরেরাম রামরাম হরেহরে"।।
🙏🙏🙏

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

রাধাষ্টমী ব্রতকথা

 সর্ব প্রথমে জেনে নেওয়া যাক যে রাধা অষ্টমী জন্মাষ্টমীর পরে করা হয়। জন্মাষ্টমীর ১৫ দিন পর রাধাষ্টমী ভাদ্র মাসে শুক্লপক্ষে অষ্টমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সর্ব প্রথমে জেনে নেওয়া যাক ব্রত করতে গেলে কি কি দ্রব্য লাগে।

ব্রতের দ্রব্য_

সর্বপ্রথমে শাড়ি একখানা

মধু পর্ক বাটি

 আসন অঙ্গুরিয়

বিভিন্ন প্রকার নৈবেদ্য

 ধুপ, দ্বীপ ,ধুনা, ফুল ,তুলসী, বেলপত্র, দূর্বা ,আর দক্ষিণ।

এই ব্রত করলে কি ফল পাওয়া যায়_

এই বৃহৎ ব্রত করলে নর নারী সর্বপ্রকার পাপ হইতে মুক্তি লাভ করে।

ব্রতকথা-

ঋষি সুনক মহামতি সুত কে জিজ্ঞাসা করলেন হে সুত অন্যান্য দেবতাদের উপাসনার চেয়ে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় শ্রেষ্ঠ বলে জানি আরো জানি তা অপেক্ষা শ্রীমতি রাধারানীর আরাধনা কৃষ্ণ আরাধনার থেকেও শ্রেষ্ঠ অতএব শ্রীরাধার অর্চনা আরাধনা বিষয়ে কোনো ব্রত কথা বলুন শুনতে ইচ্ছা হচ্ছে।

সুত বললেন_

আমি একটি গোপনীয় ব্রতের কথা বলছি শুনুন একদিন দেবর্ষি নারদ শ্রীকৃষ্ণের নিকটে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন ভগবান আপনার শ্রীমুখে অনেক অনেক ব্রতের কথা শুনেছি এখন শ্রীমতি রাধিকার জন্মদিনের ব্রত কথা শুনতে ইচ্ছা হচ্ছে।

শ্রীকৃষ্ণ বলিলেন_

দেবর্ষি তুমি আমার পরম ভক্ত সেজন্য তোমার কাছে বলছি । কোন এক সময় সূর্যদেব ত্রিলোক ভ্রমন করতে করতে নানা প্রকার ঐশ্বয দেখে মনে মনে তপস্যার সংকল্প করে মন্দার পর্বতের গুহায় কঠোর তপস্যা আরম্ভ করেন। ওই রূপে দীর্ঘদিন গত হল সূর্যের কঠোর তপস্যা আর পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় দেবতাদের ভয় ভীত হল ইন্দ্র দেবগন সহ আমার কাছে এসে সব কথা বললে আমি বললাম যে সূর্য থেকে তোমাদের কোন ভয় নাই আমি নিজে আমি এর ব্যবস্থা করছি। তোমরা নিজে নিজ স্থানে যাও আমি সূর্যদেবের কে তপস্য থেকে শান্ত করব। তারপর আমি সূর্যের কাছে গেলাম সূর্য আমাকে দেখে খুব আনন্দিত হল তিনি বললেন হে শ্রী হরি আপনার দর্শন পেয়ে আমার জন্ম ও তপস্যা, সার্থক হল যিনি সৃষ্টির  ও সংহারের কর্তা, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর যাকে সব সময় চিন্তা করেন তাকে দর্শন করে আমি ধন্য হলাম। আমি সন্তুষ্ট হয়ে সূর্যকে বললাম হে দিবাকর তুমি তপস্যায় সিদ্ধিলাভ করেছো এখন বর প্রার্থনা করো। তুমি আমার পরম ভক্ত সেজন্য তোমাকে দর্শন দিলাম এই কথা শুনে সূর্য বলল আমাকে একটি গুণবতী কন্যার বর দিন ,আপনি চিরদিন সেই কন্যাটির বশীভূত থাকবেন ,আর এছাড়া অন্য কোন ইচ্ছা আমার নেই। আমি তথাস্তু বলিয়া সান্তনা দিলাম। এই লোকে আমি একমাত্র শ্রী রাধিকার বশীভূত। শ্রীমতি রাধা এবং আমাতে কোন প্রকারভেদ নাই। আমি পৃথিবীর ভার কম করার জন্য বৃন্দাবনে নন্দলয়ে অবতীর্ণ হব। তুমিও সেখানে বৃষভানু নামে রাজা হয়ে জন্মগ্রহণ করবে, শ্রীমতি রাধা তোমার কন্যা রূপে অবতীর্ণ হবে, তারপর শ্রী হরি মথুরায় জন্মগ্রহণ করে নন্দলয়ে এলেন। সূর্যদেব বৈশকুলে জন্মগ্রহণ করে বৃষভানু রাজা হলেন,গোপকন্যা কীর্তিদার সঙ্গে তার বিবাহ হল এবং যথা কালে ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষে অষ্টমী তিথি বিশাখা নক্ষত্রে কীর্তিদার গর্ভে শ্রীমতি রাধিকার জন্মগ্রহণ হলো। গোপ ও গোপীরা আনন্দ উৎসবে মেতে উঠলো। আমার মায়ায় মুগ্ধ হয়ে রাধিকা আমাকেই পতিত্বে বরণ করতে ইচ্ছা করলো। যথা গেলে আয়ান ঘোষের সঙ্গে রাধিকার বিবাহ হলো ঠিক কিন্তু আমাকে পরম পুরুষ জ্ঞানে আমার সঙ্গে বিহার করতে লাগলো। শ্রীমতি রাধার এই জন্মদিনে গন্ধ, পুষ্প, ধুপ, দ্বীপ ,নৈবেদ্য ও বসন প্রসাধনী দারা শ্রীমতি রাধার পূজা করে নানা প্রকার মহোৎসব করতে হয়। রাধার সখী বৃন্দ গোপিকাবৃন্দ কীর্তিদা বৃষভানু প্রকৃতির পূজা করতে হয় তারপর ব্রত কথা শুনে সেদিন উপবাসী থেকে পরদিন বৈষ্ণবদের সঙ্গে পরান করতে হয়। রাধা নামের সঙ্গে কৃষ্ণ নাম যোগ করে জব করলে যাবতীয় মন্ত্র জপের ফল প্রাপ্ত হয়। আমার যেমন সন্তোষ হয় একবার রাধা নাম উচ্চারণ করলে, তার চেয়ে সহস্রগুন বেশি আমি সন্তোষ লাভ করি এই রাধা নামে ।

এই অনুষ্ঠানে মানুষ সর্ব দুঃখ দূর হয় পরম শান্তি লাভ করে ,ধনো অসরযে গৃহে পরিপূর্ণ হয় এবং সর্বস্থানে বিজয় লাভ হয়। ভক্তের কাছে এই ব্রথের কথা বললে সমস্ত অমঙ্গল দূর হয়ে যায় কিন্তু ভন্ড পাষণ্ড ভক্তিহীন নাস্তিকের কাছে প্রকাশ করলে অমঙ্গল হয় শ্রীকৃষ্ণের কাছে একথা শুনে নারদ মরতে প্রচার করলেন আর নিজেও পালন করতে লাগলো।

প্রেম প্রীতি ভালোবাসা পেতে হলে রাধা অষ্টমী ব্রত পালন করুন।

রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০২৪

হরিশ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত

 ব্রতের দ্রব্য

ফুল, তুলসীপাতা, দূর্বা, আতপ চাল, কলা, মালা, আমপাতা, ঘট।

ব্রতের সময় বা কাল -

বৈশাখ মাসে প্রতি মঙ্গলবার এই ব্রত পালন করতে হবে। সধবা ও বিধবা এরা সকলে এই ব্রত পালন করতে পারে।

ব্রতের বিধান_

বৈশাখ মাসের শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের মঙ্গলবারে যথারীতি মঙ্গলচন্ডীর পূজা করে এই ব্রত পালন করতে হয়।

ব্রত কথা-

এক গ্রামের গোয়ালা বউ সেই গ্রামেরই এক ব্রাহ্মনীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল এদের মধ্যে ভাবও খুব ছিল। প্রত্যেকবার বৈশাখ মাসে ব্রাহ্মণী হরিষ মঙ্গল চন্ডীর ব্রত করতেন। আর গোয়ালা বৌ তার ব্রত কথা শুনতো ।এইভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর গোয়ালা বৌয়ের এই ব্রথ করার ইচ্ছে হলো আর সে ব্রাহ্মণীকে জিজ্ঞাসা করল যে এই ব্রত করলে কি ফল হয়। ব্রাহ্মনী তার কথা শুনে বলল এই ব্রত করলে জীবনে কারোর চোখের জল পড়ে না। উল্টে তার সারা জীবন কেটে যায় খুব আনন্দে। গোয়ালা বইয়ের আনন্দ ধরে না ।সে ধরে বসলো ব্রাহ্মণীকে । আর বলল যে সেও এই ব্রত করতে চায়। ব্রাহ্মনী গোয়ালা স্ত্রীকে অনেক বোঝালেন, তিনি বললেন তুমি পারবে না সই ,এ ব্রত করা খুবই কঠিন। কিন্তু গোয়ালা বউ তার কোন কথাই শুনতে চাইলো না। শেষ পর্যন্ত বাম্মুনি বাধ্য হয়ে থাকে ব্রতের সব কথা বলে দিলেন। এরপর বৈশাখ মাস পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোয়ালা বউ এই হরিষ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত করতে আরম্ভ করে দিল। এইভাবে দুটো করার পরে মা মঙ্গলচন্ডী তার উপর কৃপা হল। আর সঙ্গে সঙ্গে ঐশ্বর্য, সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠল গোয়ালা বউয়ের সংসার। এর আগে গোয়ালা খুবই গরীব ছিল, এখন তার এত ধন দৌলত হওয়ার ফলে সে কেমন যেমন ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ল, সে আর সহ্য করতে পারল না, তার অবস্থার এই পরিবর্তন। এখন খানিক কাঁদবে ইচ্ছে হতে লাগলো তার। কিন্তু যার এত আনন্দ তার কান্না আসবে কেমন করে। শেষে গোয়ালাবোও আবার গিয়ে ব্রাহ্মণীকে ধরে বসলো আর বলল সই আমি আর এসব সহ্য করতে পারছি না ইচ্ছে হচ্ছে খুব খানিকটা কাঁদি তুমি আমায় বলে দাও কি করলে আমি খানিকটা কাঁদতে পারবো। গোয়ালা বইয়ের কথা শুনে ব্রাহ্মণী তো একেবারে আশ্চর্য হয়ে গেল, তিনি বলল যে  তুমি কাঁদবে এখন তোমার এমন সুখের সংসার হয়েছে । এত আনন্দ ভোগ করছ, এতে কাঁদতে আবার কেউ কি চায়। এযে হরিষ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত। এই ব্রত করার ফলে শুধু আনন্দই হয়, কান্নাকাটি এর কাছে আসতে পারে না। আমি তো আগেই বলেছি যে, এই ব্রত করা খুবই কঠিন তখন তুমি শুনলে না। এখন কাঁদতে চাইলে চলবে কেন বলো। গোয়ালা বইয়ের তখন প্রায় পাগলের মত অবস্থা। সে বলল আমি কাঁদতে না পারলে বাঁচবো না, তুমি বলে দাও কি করলে আমার কান্না আসবে সয়ের কথা শুনে ব্রাহ্মনী খুবই চিন্তিত হয়ে উঠলো কি বলবেন কিছু ভেবে পাচ্ছে না ,এমন সময় তার চোখে পড়ল একটু দূরে একটা চাষের ক্ষেত সেখানে অনেকগুলো লাউ আর কুমড়ো ফলে ছিল। সে বললো ওখানে ওই খেতে গিয়ে লাউ কুমড়োগুলোকে তুলে নাও আর গাছগুলোকে একেবারে ছিড়ে চুড়ে দাও তাহলে চাশার খুব রাগ হবে। তোমাকে খুব গালমন্দ দেবে। তাহলে তোমার কান্না আসবে ।সয়ের কথা শুনে গোয়ালা বো তখন এসে  ক্ষেতের ভেতরে ঢুকে গাছগুলো সব ছিড়ে ছুড়ে দিয়ে চলে এলো, কিন্তু এতে কাজের কাজ কিছু হলো না। বরং ফল উল্টো হলো মা মঙ্গলচন্ডীর দয়ায় গাছগুলো আবার সতেজ হয়ে উঠলো আর চাষাদেরও খুব আনন্দ হল। তারা গোয়ালা বইয়ের কাছে গিয়ে বলল মা তোমার হাতে ছোঁয়া লেগে আমাদের মরা গাছগুলো আবার জ্যান্ত হয়ে উঠলো তুমি মা সাক্ষাৎ লক্ষ্মী। এর ফলে গোয়ালা বউ কাদবার সুযোগেই পেল না। সে তার সবাইকে গিয়ে সব কথা জানাল। ব্রাহ্মণী বুঝলেন যে মা মঙ্গল চণ্ডীর দয়াতে এটা হয়েছে। তিনি তখন বলল দেখ সই ওই দূরে পাহাড়ের ধারে রাজার হাসিটা মরে পড়ে আছে। তুমি ওখানে গিয়ে হাতিটার গলা জড়িয়ে ধরে খুব কান্নাকাটি করো তাহলে রাজার লোকেরা ভাববে যে তুমি হাতের দাঁত চুরি করতে গেছো। তখন তারা তোমাকে খুব মারধর করবে আর তুমিও খুব কাঁদবার সুযোগ পাবে। কিন্তু এবারও কোন কাজ হলো না। গোয়ালা বোও হাতিটার গায়ে হাত দিতেই হাতিটা বেঁচে উঠল, তাই দেখে রাজার লোকরা একেবারে অবাক হয়ে গেল আর সব কথা রাজাকে গিয়ে জানালো। সব শুনে রাজা খুব খুশি হলেন আর গোয়ালা বউকে অনেক ধনরত্ন দিলেন। এবারও কোন কাজ হলো না দেখে ব্রাহ্মণী বুঝলেন যে এবারও মা মঙ্গলচন্ডী দয়া করেছেন। ব্রাহ্মণী তখন বলল দেখ সই এক কাজ করো কতগুলো বিষের নাড়ু তৈরি করে তোমার মেয়ের বাড়ি পাঠিয়ে দাও। তাহলে নাড়ু খেয়ে তারা সবাই মরে যাবে। আর তুমি তখন কাঁদতে পারবে। সইয়ের কথামতো গোয়াল বউ তাই করল কিন্তু মা মঙ্গলচন্ডীর জন্য বিষের নাড়ু অমৃত হয়ে গেল মেয়ের বাড়ির লোকেরা খেয়ে খুব খুশি হল। আর আরো কিছু নাড়ু পাঠাবার জন্য লিখে পাঠালো। এতেও যখন কাজ হলো না তখন বললেন যখন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না তখন তুমি মঙ্গলচন্ডীর ব্রত করা ছেড়ে দাও। গোয়ালবো মঙ্গলচন্ডীর ব্রতকথা ছেড়ে দিল এতে মা মঙ্গলচন্ডীর খুব বিরূপ হয়ে গেল। ক্রমে ক্রমে গোয়ালা বইয়ের স্বামী পুত্র দাস দাসী হাতি ঘোড়া ধনরত্ন সব চলে গেল। গোয়ালা বইয়ের সব চলে যাওয়ার ফলে এবার সে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। কান্না আর কিছুতেই থামাতে পারল না, শেষে ব্রাহ্মনীর  কাছে গিয়ে বলল সই আমি আর কাঁদতে পারছি না, যেমন করে পারো আমার কান্না থামিয়ে দাও। ব্রাহ্মণী তখন বলল তুমি তো কাঁদতেই চেয়েছিল সই, এখন কান্না থামাতে বললে কি হবে? যাক যা হবার হয়ে গেছে এখন বাড়ি গিয়ে মড়া গুলো জড়িয়ে ধরে খুব কাঁদো। আর তারপর সেগুলোকে খুব সাবধানে রেখে সামনের মঙ্গলবার থেকে আবার মা মঙ্গলচন্ডীর ব্রত করতে আরম্ভ করো। সেই কথা শুনে গোয়ালাবোও বাড়ি ফিরে এসে ব্রাহ্মনীর কথা মত সবই করল আর খুব কান্নাকাটি করার পর মা মঙ্গলচন্ডীর স্তব করতে লাগলো, তারপর মঙ্গলবার আসতেই সে খুব শুদ্ধভাবে পূজা এবং স্তব পাঠ করল, সবশেষে দুহাতে মার ঘট ধরে মাকে খুব ডাকতে লাগলো। এমন সময় সে শুনতে পেল, কে যেন বলছে আর কখনো এমন কাজ করিস নি। যা তোর আর কোন ভয় নেই এই ঘটের জল মড়া গুলার গায়ে ছিটিয়ে দে। তাহলে সবাই বেঁচে উঠবে। ঘটের জল ছিটিয়ে দেওয়ার ফলে গোয়ালা বইয়ের সবাই মা মঙ্গল চন্ডির দয়ায় বেচে উঠলো। আর তার আগের অবস্থা ফিরে এলো তখন খুব শুদ্ধাচারে মার ঘট টি তুলে রেখে ছুটে গেল ব্রাহ্মণের কাছে তাকে সব কথা জানালো আর তার পা ধরে আশীর্বাদ চেয়ে নিল। এই অবস্থার পরিবর্তনের ব্যাপার দেখে পাড়া প্রতিবেশী সবাই অবাক হয়ে গেল। আর গোয়াল বউকে ধন্য ধন্য করতে লাগলো।
হরিষ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত যে নারী করে ,
সব দুঃখ চোখের জল মা তার হরে।।

বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০২৪

চৈত্র লক্ষী পূজা ব্রতকথা

 

 ব্রতকথা

 চৈত্র মাসি শুক্ল পক্ষের বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর সঙ্গে নারায়ণের বৈকুন্ঠে বসে কথা হচ্ছিল। লক্ষ্মী বলল প্রভু চলো আজ বিমানে উঠে বেড়াতে যায়। যে কথা সেই কাজ সঙ্গে সঙ্গে রথে চড়ে দুজনে বেরিয়ে পড়লেন। নারায়ণ এক জায়গায় রথ থামিয়ে লক্ষীকে বলল আমরা এবার মর্তের দিকে যাব। যাওয়ার পরে তুমি উত্তর দিকে চেয়ো না আর রথ থেকেও নেমোনা । উত্তর দিকে ছিল তিল ফুলে ভরা একটা খেত। যেতে যেতে লক্ষ্মী ভাবলো এমন কি জিনিস ওদিকে আছে যে নারায়ণ আমাকে দেখতে বারণ করলেন। একবার চেয়েই দেখি না কি আছে। এই বলে লক্ষ্মী দেবী  উত্তর দিকে চাইতেই তিল  ফুলের ক্ষেত দেখতে পেলেন। ফুলগুলো এত সুন্দর যে দেখে লক্ষীর খুব লোভ হল। তিনি একবার তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নারায়ণকে খুব অনুনয় করতে লাগলেন । নারায়ন তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে নামার অনুমতি দিতে বাধ্য হলেন। এক গরিব ব্রাহ্মণ ছিল সেই ক্ষেতের মালিক। সে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে তার ক্ষেত থেকে যে ফুল তুলবে তাকে ১২ বছর তার সঙ্গে দাস বা দাসী হয়ে থাকতে হবে। নারায়ণ এ কথা জানতেন বলেই তিনি লক্ষীকে ওই ক্ষেতের দিকে চাইতে বারণ করেছিলেন । এদিকে লক্ষ্মী তিল ফুলের ক্ষেতে গিয়ে অনেক ফুল তুলে তার গয়না করে পরতে লাগলেন। লক্ষ্মী ফিরছেন না দেখে নারায়ন সেই খেতে গিয়ে হাজির হলেন। সেই সময় ক্ষেতের মালিক এসে উপস্থিত হলো। লক্ষ্মীকে ওইভাবে ফুল তুলতে দেখে বামুন লক্ষ্মীকে বলল যখন তুমি ক্ষেতের ফুল তুলেছ তখন আমার প্রতিজ্ঞা মত তোমাকে ১২ বছর আমার বাড়িতে দাসী হয়ে থাকতে হবে। তখন লক্ষী বাধ্য হয়ে বামুনের বাড়িতে দাসী হয়ে থাকতে রাজি হলেন। কিন্তু তিনি বামুনকে বললেন আমি তোমার সংসারে শুধু রান্না বান্নাই করব আর কিছু করবো না বামুন লক্ষ্মীর কথা স্বীকার করে নিল। নারায়ন তখন লক্ষীকে বললেন তোমায় তখনই বারণ করেছিলাম তুমি শুনলে না এখন কর্মফল ভোগ করো। আমি ১২ বছর পরে এসে তোমাকে নিয়ে যাব। নারায়ন রথ নিয়ে বৈকুন্ঠে ফিরে গেলেন। বামুন লক্ষীকে নিয়ে বামুনির কাছে হাজির হলো আর সব ব্যাপার বামনীকে জানিয়ে দিল। বামনি তখন প্রায় মাথায় হাত দিয়ে বলল কাজ না হয় একে দিয়ে করাবে। কিন্তু খাওয়াবে কেমন করে আমাদের অবস্থা তো এই। লক্ষ্মী রয়ে গেলেন বামুনের ঘরে, বাবুনের উপর তার কৃপা দুষ্টি পরল সঙ্গে সঙ্গে বামুনের ঘর ধন দৌলতে ভরে উঠলো, লক্ষ্মী দেবী রান্না করে নিজের খাবার ভাত তরকারি নিয়ে রোজ একটা ডালিম গাছের গোড়ায় পুঁতে রাখতেন। এটা কেউ জানতো না। এভাবে বারোটি বছর ধিরে ধীরে শেষ হয়ে গেল এরই মধ্যে এক গঙ্গা স্নানের যোগ সকলে গঙ্গা স্নান করতে যাওয়ার জন্য তৈরি হলো। বামুনি লক্ষীকে বলল কিগো মেয়ে এই যোগে তুমি গঙ্গা স্নান করবে না। লক্ষ্মী বলল না আমার গঙ্গায় নাইতে নাই। এই ৫ করা করি তুমি নিয়ে যাও স্নান করবার সময় গঙ্গায় ফেলে দিও। বামনি করিগুলো নিয়ে গিয়ে যে গঙ্গায় ফেলে দিল অমনি মা গঙ্গা নিজ মূর্তি ধরে দুহাত পেতে করি গুলো নিয়ে নিলেন। বামনি এবং সকলে দেখে একেবারে অবাক হয়ে গেল অমনি সময় ১২ বছর কেটে যাওয়ায় নারায়ন ও রথ নিয়ে বামুনের ঘরে এসে উপস্থিত হলো তিনি লক্ষীকে বললেন ১২ বছর পূর্ণ হয়েছিল কি এবার তুমি বইকী উঠে ফিরে চলো বৈকুন্ঠে। বামন ও আরো অনেকে এসে দেখল যে লক্ষী রথে চড়ে বসে আছেন লোককে তখন বামনকে বলল ঠাকুর আজ ১২ বছর পূর্ণ হয়েছে কাজেই আমি স্বর্গে চলে যাচ্ছি আমি লক্ষ্মী মরতে পূজা প্রচারের জন্য তোমার ঘরে এসে উঠেছিলাম। তোমরা আমাকে রোজ যা খেতে দিতে সেগুলো সব আমি ডালিম তলায় পুতে রেখেছি। সেগুলা তোমরা তুলে নিও। সেগুলো পেলে তোমাদের খুব সম্পদের অভাব থাকবে না। এই অবস্থায় ভাদ্র কার্তিক আর পৌষ মাসে যথা নিয়মে আমার পূজা করবে এই বলে তিনি রথে চেপে স্বর্গে চলে গেলেন। বামুনের মেজ বউ সেই কথা শুনে তাড়াতাড়ি গিয়ে ডালিমতলা ঘুরতে লাগলো সেই সময় একটা কেউটে সাপ হঠাৎ গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে তাকে কামড় দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। মেজ বউ মরণের কোলে ঢলে পড়লাম সে মা লক্ষ্মীকে দু চোখে দেখতে পারত না বামন বামুনী সেই গর্ত থেকে তখন অনেক ধনরত্ন ও হীরে মুক্তা পেল। তারপর থেকে তারা নিয়মিত ভাবে লক্ষ্মী পূজা করতে লাগলো তার কুঁড়েঘর ভেঙ্গে নতুন অট্টালিকা তৈরি করা হলো আর হাতি ঘোড়া দাস-দাসী নিয়ে জীবন অতিবাহিত করল মৃত্যুর পর ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণী বয়কন্ঠে গমন করল

যদি এই ব্রত কেউ করেন তাহলে তার ধন সম্পদের কোন কবি থাকে না সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করে এবং লক্ষ্মীর কৃপা পায়।

চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে বৃহস্পতিবার এ লক্ষী পূজা করতে হয়।

বুধবার, ২০ মার্চ, ২০২৪

ফল গোছানো ব্রত

 একজন ব্রাহ্মণকে চৈত্র মাসের মহাবিশুভ সংক্রান্তির দিন একটি পৈতা একটি সুপারি ও কিছু দক্ষিণা দিয়ে প্রণাম করতে হবে সারা বৈশাখ মাস ধরে।

 প্রতিদিন একজন করে ব্রাহ্মণকে বৈশাখ মাসের সংক্রান্তি পর্যন্ত এমনি ভাবে দিতে হবে। দ্বিতীয় বছরে সুপারি না দিয়ে তার বদলে কলা পৈতা মিষ্টি কিছু পয়সা দিয়ে ব্রাহ্মণকে প্রতিদিন সারা মাস ধরে প্রণাম করা কর্তব্য । তারপরের বছর তৃতীয় বছর কলার বদলে আম ও তার সঙ্গে পৈতে মিষ্টান্ন ও দক্ষিণা ব্রাহ্মণকে প্রণাম করে আসবে। তিনটি বছর কেটে যাওয়ার পর অর্থাৎ চতুর্থ বছরে আমের বদলে ডাব পৈতা পয়সা দিয়ে প্রণাম করার দরকার। সব শেষে মহা বিষুব সংক্রান্তিতে চারজন ব্রাহ্মণকে কাপড় ও চাদর দিতে হয়। তবে সামর্থ্য না থাকলে যাকে দিয়ে ব্রত নেওয়া হয়েছে তাকে ধুতি চাদর গামছা পাদুকা ছাতা পাংখা দেওয়ার রীতি। উদযাপনের সময় রুপার ডাব সোনার সুপারি সোনার কলা স্বর্ণকারের কাছ থেকে বানিয়ে দান করে ব্রত উদযাপন করতে হয়। যাকে দিয়ে ব্রত নেওয়া হয়েছে তিনি যদি উদযাপনের সময় কোন কারণবশত না থাকে তাহলে তার বংশের যে কোন ব্রাহ্মণকে খুব তৃপ্তি করে ভোজন করিয়ে এই জিনিস গুলি দান করিবেন

কখন এই ব্রত করিবেন--

চৈত্র মাসে মহা বিষুবসংক্রান্তিতে এই ব্রত নেওয়ার নিয়ম 

এই ব্রত চার বছর পালন করতে হয়। আর চার বছর পরে বৈশাখ মাসের বিষ্ণুপদী সংক্রান্তিতে এই ব্রতের উদযাপন করার বিধি কেবলমাত্র বিবাহিত মহিলা রায় এই পালন করতে পারে।

বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সুর্যাদিনবগ্রহ ধ্যান

ওং ব্রহ্মা মুরারি ত্রিপুরান্ত কারি ভানু শশী ভুমি সুতবুধশ্চ গুরুশ্চ শুক্র শনি রাহু কেতু সর্বে গ্রহাণী শান্তির ভবতু।                      ওংসুয্য সোমঞ্জার কুঞ্জজীব ভ্রুগুক্রিয়া ভব কেতুরেতু প্রযছণ্ডি মময়ায়ু বলং গ্রহা।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০

গনেশের ধ্যান ও প্রনাম

ধ্যান _বক্রতুণ্ড মহাকায় কোটিসুর্য্য সমপ্রভ নির্বিঘ্নে কুরুমে দেব সর্বকার্য্য সুসর্বদা।                        

 প্রনাম_একদণ্ড্য লম্বদর গৌরীপুত্র বিনায়ক বিগ্ন্যনাশ করোদেব হেরম্ব্য প্রনমামহং।

গুরুর ধ্যান মন্ত্র ও প্রনাম মন্ত্র

ধ্যান._ঔংব্রহ্মানন্দ কেবল সুখাদাম কেবলই ধ্যান মূর্তিং  দ্বন্ধা তিতো গগনশদৃশ্যং কেবলৈ জ্ঞ্যানমুর্তিংশরনং প্রপদ্যে                                                প্রনাম_গুরুব্রহ্মা গুরুবিষ্ণু গুরুদেব মহেশ্মর শাখ্যাৎ গুরু পরমব্রহ্ম তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ

মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২০

debi duraji ki arati

Aarati durga mata ki
मांग सिंदूर बिराजत, टीको मृगमद को। उज्ज्वल से दोउ नैना, चंद्रबदन नीको।। जय अम्बे गौरी,…। कनक समान कलेवर, रक्ताम्बर राजै। रक्तपुष्प गल माला, कंठन पर साजै।। जय अम्बे गौरी,…। केहरि वाहन राजत, खड्ग खप्परधारी। सुर-नर मुनिजन सेवत, तिनके दुःखहारी।। जय अम्बे गौरी,…। कानन कुण्डल शोभित, नासाग्रे मोती। कोटिक चंद्र दिवाकर, राजत समज्योति।। जय अम्बे गौरी,…। शुम्भ निशुम्भ बिडारे, महिषासुर घाती। धूम्र विलोचन नैना, निशिदिन मदमाती।। जय अम्बे गौरी,…। चण्ड-मुण्ड संहारे, शौणित बीज हरे। मधु कैटभ दोउ मारे, सुर भयहीन करे।। जय अम्बे गौरी,…। ब्रह्माणी, रुद्राणी, तुम कमला रानी। आगम निगम बखानी, तुम शिव पटरानी।। जय अम्बे गौरी,…। चौंसठ योगिनि मंगल गावैं, नृत्य करत भैरू। बाजत ताल मृदंगा, अरू बाजत डमरू।। जय अम्बे गौरी,…। तुम ही जग की माता, तुम ही हो भरता। भक्तन की दुःख हरता, सुख सम्पत्ति करता।। जय अम्बे गौरी,…। भुजा चार अति शोभित, खड्ग खप्परधारी। मनवांछित फल पावत, सेवत नर नारी।। जय अम्बे गौरी,…। श्री मालकेतु में राजत, कोटि रतन ज्योति।। जय अम्बे गौरी,…। अम्बेजी की आरती जो कोई नर गावै। कहत शिवानंद स्वामी, सुख-सम्पत्ति पावै।। जय अम्बे गौरी,…।. जय अम्बे गौरी आरती | Jai Ambe Gauri Aarti Lyrics PDF Hindi
मांग सिंदूर बिराजत, टीको मृगमद को। उज्ज्वल से दोउ नैना, चंद्रबदन नीको।। जय अम्बे गौरी,…। कनक समान कलेवर, रक्ताम्बर राजै। रक्तपुष्प गल माला, कंठन पर साजै।। जय अम्बे गौरी,…। केहरि वाहन राजत, खड्ग खप्परधारी। सुर-नर मुनिजन सेवत, तिनके दुःखहारी।। जय अम्बे गौरी,…। कानन कुण्डल शोभित, नासाग्रे मोती। कोटिक चंद्र दिवाकर, राजत समज्योति।। जय अम्बे गौरी,…। शुम्भ निशुम्भ बिडारे, महिषासुर घाती। धूम्र विलोचन नैना, निशिदिन मदमाती।। जय अम्बे गौरी,…। चण्ड-मुण्ड संहारे, शौणित बीज हरे। मधु कैटभ दोउ मारे, सुर भयहीन करे।। जय अम्बे गौरी,…। ब्रह्माणी, रुद्राणी, तुम कमला रानी। आगम निगम बखानी, तुम शिव पटरानी।। जय अम्बे गौरी,…। चौंसठ योगिनि मंगल गावैं, नृत्य करत भैरू। बाजत ताल मृदंगा, अरू बाजत डमरू।। जय अम्बे गौरी,…। तुम ही जग की माता, तुम ही हो भरता। भक्तन की दुःख हरता, सुख सम्पत्ति करता।। जय अम्बे गौरी,…। भुजा चार अति शोभित, खड्ग खप्परधारी। मनवांछित फल पावत, सेवत नर नारी।। जय अम्बे गौरी,…। श्री मालकेतु में राजत, कोटि रतन ज्योति।। जय अम्बे गौरी,…। अम्बेजी की आरती जो कोई नर गावै। कहत शिवानंद स्वामी, सुख-सम्पत्ति पावै।। जय अम्बे गौरी,…।. जय अम्बे गौरी आरती | Jai Ambe Gauri Aarti Lyrics PDF Hindi
 
 
 
मांग सिंदूर बिराजत, टीको मृगमद को। उज्ज्वल से दोउ नैना, चंद्रबदन नीको।। जय अम्बे गौरी,…। कनक समान कलेवर, रक्ताम्बर राजै। रक्तपुष्प गल माला, कंठन पर साजै।। जय अम्बे गौरी,…। केहरि वाहन राजत, खड्ग खप्परधारी। सुर-नर मुनिजन सेवत, तिनके दुःखहारी।। जय अम्बे गौरी,…। कानन कुण्डल शोभित, नासाग्रे मोती। कोटिक चंद्र दिवाकर, राजत समज्योति।। जय अम्बे गौरी,…। शुम्भ निशुम्भ बिडारे, महिषासुर घाती। धूम्र विलोचन नैना, निशिदिन मदमाती।। जय अम्बे गौरी,…। चण्ड-मुण्ड संहारे, शौणित बीज हरे। मधु कैटभ दोउ मारे, सुर भयहीन करे।। जय अम्बे गौरी,…। ब्रह्माणी, रुद्राणी, तुम कमला रानी। आगम निगम बखानी, तुम शिव पटरानी।। जय अम्बे गौरी,…। चौंसठ योगिनि मंगल गावैं, नृत्य करत भैरू। बाजत ताल मृदंगा, अरू बाजत डमरू।। जय अम्बे गौरी,…। तुम ही जग की माता, तुम ही हो भरता। भक्तन की दुःख हरता, सुख सम्पत्ति करता।। जय अम्बे गौरी,…। भुजा चार अति शोभित, खड्ग खप्परधारी। मनवांछित फल पावत, सेवत नर नारी।। जय अम्बे गौरी,…। श्री मालकेतु में राजत, कोटि रतन ज्योति।। जय अम्बे गौरी,…। अम्बेजी की आरती जो कोई नर गावै। कहत शिवानंद स्वामी, सुख-सम्पत्ति पावै।। जय अम्बे गौरी,…।. जय अम्बे गौरी आरती | Jai Ambe Gauri Aarti Lyrics PDF Hindi
 
जय अम्बे गौरी, मैया जय श्यामा गौरी….. जय अम्बे गौरी, मैया जय श्यामा गौरी। तुमको निशदिन ध्यावत, हरि ब्रह्मा शिव री।। जय अम्बे गौरी,…।. जय अम्बे गौरी आरती | Jai Ambe Gauri Aarti Lyrics PDF Hindi
जय अम्बे गौरी, मैया जय श्यामा गौरी….. जय अम्बे गौरी, मैया जय श्यामा गौरी। तुमको निशदिन ध्यावत, हरि ब्रह्मा शिव री।। जय अम्बे गौरी,…।. जय अम्बे गौरी आरती | Jai Ambe Gauri Aarti Lyrics PDF Hindi

বট সাবিত্রীর  ব্রতকথা           বট সাবিত্রীর  ব্রতকথা -      বহু প্রাচীন কালে মদ্রদেশে অশ্বপতি নামে এক রাজা ছিল।এই রাজার পুন‍্যের ফল...