About this Blogs Pujapath bratkotha puja santi ayurved traditional culture food helth tantra mantra joga ke bareme jankari diya jaega is blog me ঈশ্বর আরাধনা ভগবত শক্তি অনূসনধান ও প্রশিক্ষণ পূজাপাঠ, ব্রতকথা, শান্তি,আয়ুর্বেদ,তন্ত্র মন্ত্র যন্ত্র,যোগা ও হেল্থ বিষয়ে জানকারি দেওয়া হবে। manbod
Translate
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
বট সাবিত্রীর ব্রতকথা 26
বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
সাবিত্রী চতুর্দশী ব্রতকথা Bat Sabitri Bratokotha
ব্রত কথা
বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
সোমবার, ১২ মে, ২০২৫
সত্যনারায়ণ ব্রতকথা satyanarayan bratokotha-
সত্যনারায়ণ ব্রতকথা
সত্যনারায়ণ পূজার নিয়ম
এই ব্রতের কোন তিথি নক্ষত্রের নিষেধ নেই। যে কোন ব্যক্তি প্রদোষকালে এই ব্রত করতে পারেন। নারী-পুরুষ, কুমার-কুমারী নির্বিশেষে এই ব্রত করতে পারে। পূর্ণিমা বা সংক্রান্তি এই ব্রতের সঠিক দিন। উপবাস থেকে এই ব্রত করতে হয়।
সত্যনারায়ণ পূজার উপকরণ / সত্যনারায়ণ পূজার ফর্দ
ঘট, আমডালি, ডাব, কলা, সিঁদুর, গামছা, গঙ্গামাটি, ধান, বসার জন্য পিঁড়ে, বস্ত্র, তীরকাঠি, পান, সন্দেশ বা বাতাস, দুধ, ফুলের মালা, তিল, হরতকি, ফুল-দূর্বা ঘাস, বেলপাতা, তুলসীপাতা, ধুপ বা ধূপকাঠি, দধি, গব্যঘৃত, শিন্নির সামগ্রী, পাঁচ প্রকার ফল, ইত্যাদি।
ধ্যান-
জগদ্ধিতায় শ্রীকৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ ।।
সত্যনারায়ণ ব্রতকথা satyanarayan bratokotha-
সত্যনারায়ণ পদ করিয়া বন্দন।
ক্রমে ক্রমে বন্দিলাম যত সুরগন ।।
কলিকালে নারায়ন পূজার কারণ।
আবির্ভূত হইলেন মরতভুবন।।
দরিদ্র ব্রাহ্মণ এক মথুরায় ছিল!
না দেখে সুখের মুখ দুঃখে কাল যায়।।
একদিন সেই ব্রাহ্মণ নগর ভ্রমিয়া
কিছু না পাইয়া ভিক্ষা কাতর হইয়া।।
(হরি হরি বল -বোলহরি)🙏🙏🙏
সত্য সত্য সত্যপীর সর্ব্বসিদ্ধি দাতা।
বাঞ্ছা বড় বাড়িল বর্ণিব ব্রতকথা।।
রসাল রসিক-প্রিয় রামাই বিরাগে।
বৃন্দারক-বৃন্দাকে বন্দনা করি আগে।।
গুরুগণে গণেশ করিয়া প্রণিপাত।
বন্দ বহ্নি বিপ্র বিধি বিষ্ণু বিশ্বনাথ।।
ক্ষিতি লোটাইয়া বন্দ গুরুর রমণী |
পরম সাদরে বন্দ জনক জননী ||
ত্রি সাবিত্রী সিন্ধুপুত্রী সরস্বতী শিবা।
ত্রিসন্ধ্যা নক্ষত্র চন্দ্র সূর্য্য রাত্রি দিবা।।
কামাখ্যারে করি নতি ধর্ম্মরাজ সুতা।
সসর্প মনসা বন্দ মহেশের সুতা।।
অষ্ট বসু নবগ্রহ দশদিক্ পাল।
প্রণমিব পঞ্চানন পরম দয়াল||
প্রণমিব পরাত্পর নদের নিমাই
বীর ভদ্র নিত্যানন্দ শ্রী রূপ গোসাই ||
অপ্সরা কিন্নরী বন্দ ডাকিনী যোগিনী
ছয় রাগ ষড় ঋতু ছত্রিশ রাগিনী।।
অতঃপর বন্দিনু রহিম রাম রূপ।
ত্রিদশের নাথ বন্দ ভূবনের ভূপ।।
কোরান কেতাব আর কমলা সংহতি ।
সুবিখা পীরের পায় প্রচুর প্রণতি।।
অপর যতেক পীর বন্দ ষডকরে।
ফনিন্দ্র নগেন্দ্র ইন্দ্র কাঁপে যার ডরে।।
পরে সত্যপীর বন্দি কহে দ্বিজ রাম।
সাকিম বরদাবাটি যদুপুর গ্রাম ।।
জয় জয় সত্যপীর ,সনাতন দস্তগীর,
দেব দেব জগতের নাথ।|
কে জানে তােমার তত্ত্ব, তুমি রজঃ তুমি সত্ত্ব,
তােমার চরণে প্রণিপাত।।
সৰ্ব্বভূতে সৰ্বময়, চারু চরাচরে কয়,
চন্দ্রচূড় চিন্ত্য চিন্তামণি।।
পূৰ্বে হয়ে দশমূৰ্ত্তি,করিলে আপন কীর্তি,
সত্যপীর হইলে ইদানী ।।
ছয় দরশনে কয় ,এক ব্ৰহ্ম দুই নয়,
অন্য অন্য ভিন্ন ভিন্ন নাম||
কলিতে যবন দুষ্ট, হিন্দুকে করিল নষ্ট,
দেখিয়া রহিম হইলা রাম।।
ব্রাহ্মণেরে করে ভেদ,ঘুচালে মনের খেদ,
রক্ষা কৈলে সৃষ্টি আপনার।।
এক চিত্তে অল্প ধনে,যে তােমারে সির্ণি মানে,
হাসিল্ করহ কাম তার।।
দরিদ্র দ্বিজের কাছে,পূর্বকালে সত্য আছে,
ভক্তবাক্য পালিবা আপনি||
নায়কের হয়ে তুষ্ট ,সির্নিতে করহ দৃষ্ঠ,
সুনহ আপন ব্রতবানী।।
তোমার অর্চনা যথা, দুঃখের বিনাশ তথা ,
গায় যে গাওয়াই যেবা শুনে||
তুমি রক্ষা করো তারে,মাহামারে মহাঘোরে,
মহারনে বনে রিপুস্থানে||
দৃড ভক্তি হইল যার,পাতক না থাকে তার,
মনোরথ সিদ্ধ হাতে হাতে||
কহে দ্বিজ রাম ইশ্বর,বুঝি কার্য্য কর নর,
হরি বল পীরের পিরীতে।।
সর্বলোক শুন শুন সর্বলোক শুন্|
সত্যপীরে স্মরিয়া সিনির্তে দেহ মন||
প্রবাল প্রতাপ পীর পাপ তাপ হারী|
যেরুপে জাহির তাহা নিবেদন করি||
দিল্লির দক্ষিণ দেশ মথুরেশপুর|
তাহেএক বিপ্র ছিল বড়ই বিদুর||
খাইতে না মিলে অন্ন চালে নাই খড়|
তেঁই প্রভু পীরপুত্র তার পদে গড়||
আপনি অত্যন্ত যতি সতী সীমন্তনী|
দামোদরে দৃড় ভক্তি দিবস রজনী ||
লঙ্ঘন বঞ্ছন কভু ভিক্ষায় ভক্ষন|
কৃষ্ণসখা সুদামার সকলি লক্ষন||
আপনি রেবতীপ্রিয় ততোধিক প্রিয়া|
আত্ম উপবাসি অন্ন অন্য জনে দিয়া||
জঠরের জ্বলনে যখন প্রান যায়|
তখন মগন মন গোবিন্দের পায়||
কতদিনে কৃষ্ণ পাব ভাবে দিবারাতি|
বান্ধিল প্রেমের পাশে অখিলের পতি||
তবেপ্রভু দয়া কৈল ব্রাহ্মনের সঙ্গ|
কদাচিত ভজনে ভক্তির নাহি ভঙ্গ||
নানারুপে বিড়ম্বিয়া হারিলেন হরি|
ভক্ত বটে কিরুপে ইহারে কৃপাকরি||
ভিক্ষা ভঙ্গি ভক্তি বুঝি ভ্রমে সাথে সাথে|
প্রভুহয়ে প্রশ্চাতে প্রত্যক্ষ হৈলা পথে||
ব্রাক্ষন ভিক্ষায় যেতে তাতে কৈল মায়া|
যত যত দাতা জীবে হরিলেন দয়া||
ঘরেঘরে ফিরে দ্বিজ ডাকে কলস্বনে|
কেহঘরে থাকে কেহ থাকিয়া না শুনে||
কেহ বলে ফিরে মাগ প্রসবিছে নারী |
কেহবলে নিত্ত কি তোমার ধার ধারি||
কেহগালি দেয় কেহবলে দুর দুর|
মারিতে চলিল কেহ হইয়া নিষ্ঠুর||
প্রতিগৃহে ভ্রমি ভিক্ষা না পেয়ে নগরে|
দাতাকৃষ্ণ কোথা বলি ডাকে উচ্চঃস্বরে||
বাটি বাটে গিয়া মাঠে অপরাহ্ন কালে|
বিষাদে বসিল বিপ্র বটবৃক্ষ তলে||
কি করিব আশ্বাস নিশ্বাস ঘন ছাড়ে|
ছল ছল চক্ষে জল টস টস পড়ে||
ধৈরজ না ধরে দ্বিজ ধৈরজ না ধরে|
বাড়িল বিবেক বড় ব্রাহ্মনীর তরে||
বুভুক্ষিতা বনিতা বাটীতে বাট চেয়ে|
কেন কৃষ্ণ হেন কৈলে দীনবন্ধু হয়ে||
সত্ত্বগুনে সবার পালন কর্তা তুমি|
অবনীতে অপাল্য অধম মাত্র আমি ||
মাগিলে না মিলে ভিক্ষা রিক্ত হস্তে যাই|
পুর্বকৃত পাপে এত মনস্তাপ পাই||
এ পাপ শরীর আর না রাখিব আমি |
পরলোকে প্রভু পরিত্রান কর তুমি ||
পতিত জনারে যদি দয়া না করিবে|
জগন্নাথ নাম তব কেমনে ধরিবে||
আপনাতে অধমতা হৈল নিজ ভ্রম|
তিতিক্ষাতে তনুত্যাগে কৈল উপক্রম||
দাসে দুঃখী দখি দামোদরে হৈল দয়া|
সব্বর্দা প্রতক্ষ হব দিব পদছায়া||
ফকিরে ফকিরে উরে নব ঘনশ্যাম|
হুকম মাফিক হদ্দ বিরচিল রাম||
দ্বিজবরে দিতে বর, কলি হেতু সত্বর ,
শ্রীমাধব হইলেন পীর||
ফকিরের সাজে, জগতে বিরাজে,
অদ্ভুত শ্রীকৃষ্ণ শরীর ||
যুবত্ব বয়েস- সুবেশ মহেশ,
বিধুমুখে মধুরম হাসি||
মস্তক উপর -পাগ মনোহর,
নানা ভরন বিলাসী||
বড় বড় কৌড়ি- গ্রন্থিত গুধড়ি,
বাঘছাল থালি শাল দন্ড||
প্রবাল তাড়ি ফল- মুকতা ঝলমল,
মালা মঞ্জিল চন্ড||
ঘন্টা রুণ রুণ- জিকির ঘন ঘন,
ঝন ঝন জিঞ্জির শব্দ||
রামেশ্বর বলে- বসিয়া তরুতলে ,
ব্রাহ্মণ হইল স্তব্ধ||
কপটে দয়াল কহে দিজ্বরে তখন।
ফকিরের আশীর্বাদ করহ গ্রহণ।।
তুমি বত্স জ্ঞানী দেখি ধর্মাত্মা তোমারে।
ক্ষুদায় কাতর কিছু খাওয়াও আমারে।।
সমস্ত পৃথিবী দেখি সব মিথা জাল।
কেহ নাহি করে দান এক মুষ্ঠি চাল।।
বিপ্র বলে দেওআন ও কথা কহ কাকে।
মনস্তাপে মারীতে বসেছি ওই পাকে।।
কলি হইল প্রবল মাজিল ধর্ম পথ।
দেওয়ান কহে বাছা কহ টা কিমত।।
নিজ কষ্ট কহি বিপ্র করেন রোদন।
নারিলাম খাওয়াইতে আমি অভাজন।।
ধর মোর বসন অশন কর বেচে।
মৃতুকালে মোর ধর্ম মজাইবে মিছে।।
বিশ্বনাথ বিশ্বাস বুঝিয়া কন বাছা।
জগতেএরূপ কভি লোক নাহি সাচা।।
ভাল বাবা কেন তোমার মৃতু কাল কেন।
সুখ দু:খ আসে যাই দিব রাত্রি হেন।।
তোমার সকল কথা হইয়াছি জ্ঞাত।
কাপড় লইয়া এস আমার সাহিত।।
আমারে জানিবে তুমি সত্য সত্য পীর।
তব দুঃখ দুর আমি করিব ফকির।।
এরুপ বিধান কিছু বলিব তোমায়।
যাহার কারনে শেষে সিদ্ধিলাভ হয়।।
করিবেন তিনি র্সব্ব আশার পুরন।।
আপনি যাইয়াপীরে কর সির্নিদান।
সকলে করিবে তব আদেশ পালন।।
বাকসিদ্ধ হবে তুমিযারে যা বলিবে।
ভবিষ্যৎ বানী তব অবশ্য ফলিবে।।
সত্যপীর পদদ্বয় হৃদয়ে চিন্তিয়া।
শুদ্ধমনে বিধিমত ইহাকর গিয়া।।
দ্বিজ বলে যা কহিলে দেওয়ান মহাশয়।
যবনের কার্য্য সেত ব্রাহ্মনের নয়।।
ইষ্ট ছাড়ি অনিষ্ট ভজিব কেন অন্য।
মজাইব পরকাল ইহকাল জন্য।।
দেওয়ান কহেন শুন জ্ঞান বাত।
রাম রহিম দুই নাম ধরে এক সাথ।।
এত শুনি মনে মনে বিস্ময় ব্রাহ্মন।
আপাদ মস্তক তাঁর করে নিরীক্ষন।।
চকিতে চকিতে মুর্তি ধরেন অশেষ।
চক্ষুর নিমেষে হৈল ব্রাহ্মনের বেশ।।
নিদান বুঝিল প্রভু ভকত বৎসল।
ধরনীলোটায়ে পড়ে চরনকমল।।
পুলকে পুনির্ত তনু সকরুনে কয়।
ছাড় মায়া কর দয়া দেহ পরিচয়।।
হাসিতে হাসিতে প্রভু দ্বিজেকন তবে।
নিদানে আমার তুমি পরিচয় পাবে।।
বিধি মোর বড় ভাই মহেশ অনুজ।
শঙ্গচক্র গদাপদ্ম ধারী চতুর্ভুজ।।
কৃষ্ণকেলি মথনে কেশব মোর নাম।
মক্কায় রহিম আমি অযোধ্যায় রাম।।
পরাপর চরাচর আমি যে যাবন্ত।
সুরপুরে ইন্দ্র আমি পাতালে অনন্ত।।
ফকির হইনু আমি তোমার কারণ।
কলিতে সম্প্রতি বাছা সত্যনারায়ণ।।
দ্বিজবলে কহ যত সব বিপরীত।
পীরের সিনির্তে বা বিষ্ণুর কেন প্রীত।।
যেইপ্রভু পরমাত্মা সেই কেন পীর।
তুমি বা ফকির কেন ব্রাহ্মণ শরীর।।
প্রভু কন ভাল জিজ্ঞাসিলে দ্বীজ ধন্য।
সাধু সাধু বলি কৃষ্ণ কহে ব্রত জন্য।।
রাম বলে ভাল জিজ্ঞাসিলে শুন বলি।
মোক্ষ স্বর্গ মারা গেল কাল হৈল কলি।।
কলির মহিমা সাধু শুন শুন বলি।
পরীক্ষিত পতনে প্রবল হৈল কলি।।
একদিন সেই পরীক্ষিত ক্ষিতিনাথ।
মৃগয়াতে কলিক্রীড়া দেখিল সাক্ষাৎ।।
গো রুপ তরাসে ধর্ম কলিহৈল নর।
নির্ঘাত প্রহার করে গরুর উপর।।
তিন পা ভেঙ্গেছে গরুর এক পদ উবু।
সেই পায়ে নির্ঘাত প্রহার করে তবু।।
খড়্গ ধরি কাটিতে চলিল মহাবল।
ব্যক্ত হয়ে কহে কলি হাসে খল খল।।
শুনরে নির্বোধ আমি বধ্য নহি তোর।
ইহাতে ঈশ্বর দত্ত অধিকার মোর।।
গোরু নয় ধর্ম এই কলিকাল আমি।
বধিব ইহারে আমি কি করিবে তুমি।।
রাজা বলে কি বলিলেতব নাম কলি।
অল্প দিনে এখনি এতেক ঠাকুরালী।।
বঞ্ছাছিল ভালহৈল পইলাম দেখা।
দুর্জন দমন আমি সজ্জনের সখা।।
শুকমুখে শুনেছি তোমার বিবরণ।
কালব্যাধি প্রতি কৃষ্ণনাম রসায়ন।।
সতত ভারত কথা সভাতে আমার।
মোর অধিকারে কি তোমার অধিকার।।
এত শুনি কলি করিলেন হেট মাথা।
কহনৃপ আমার ভোগের স্থান কোথা।।
বাছিয়া ভুপতি চরি স্থান দিল তারে।
সূরা শুনা সুর্বনবনিক স্বর্নকারে।।
ধর্মের নিস্তার করি রাজা গেল ঘর।
সেই হৈতে ধর্ম ছাড়া এই চারি নর।।
এখন এমন দাতা পরিক্ষিত নাই।
ধর্ম নাশে কলির বিস্তর হৈল ঠাঁই।।
কতকাল করিবেক সব একাকার।
যবনাদি জাতিভেদ না থাকিবে আর ।।
আর কত অনীত হইল উপস্থিত।
ব্রহ্ম ক্ষত্র বৈশ্য শুদ্র স্বর্ধম বর্জিত।।
পুন্য পথে কদাচিৎ আছে কোন নর।
পরদারে পরদ্রোহে প্রবৃত্ত বিস্তর।।
যে জন দুর্জন তার পুজা সর্ব ঠাঁই।
নিস্পৃহের অনাদর অন্ন জুটে নাই।।
সুজন সর্বদা নিন্দ্য দুর্জনের যশ।
বাপমায়ে তুচ্ছ জ্ঞান বনিতার বশ।।
পুত্র পিতা সদা দ্বন্ধ নাহি স্নেহভাব।
শাশুড়ি বধুতে দ্বন্ধ সতীনের ভাব।।
সংক্ষেপে কলির কথা মাহাত্ম্য নির্ণয়।
পড়েছ শুনেছ যত ব্রাহ্মণ তনয়।।
আর সিদ্ধি শুদ্ধি বুদ্ধি স্ফুর্তি নহে পাপে।
প্রভু হয়ে পীরত্ব পেলাম এই পাপে।।
নাম মাত্র প্রভেদ নৈবেদ্য মাত্র ভেদ।
পীর বলি না জানিবে না ছাড়িবে বেদ।।
প্রকারে অধর্মী জীবে করিতে উদ্ধার।
আইলাম এই স্থানে কর অঙ্গীকার।।
তুমি ভক্ত দৈবমুক্ত অনুরক্ত মোরে।
প্রকাশিয়া পথ পরিত্রান কর নরে।।
আজি হইতে আর ভিক্ষা না করহ তুমি।
হের ধর নবরত্ন দিয়া যাই আমি।।
প্রভু দিল রত্ন দ্বিজ যত্ন করি লয়।
রামেশ্বর নতি করি করপুটে কয়।।
কিবা দিব কার সির্ণি কার আবাহন।
কিবা ঋদ্ধি হয় সিদ্ধি মহিমা কেমন।।
সর্বশেষ উপদেশ বিশ্বনাথ বলে।
বান্ধিবে বিচিত্র বেদী মনরোম্য স্থলে।।
গোময়েতে সুন্দর সংস্কার করে স্থান।
আলিপনা আদি ধ্বজা পতাকা নিশান।।
বেদীতে স্থাপিয়া পীঠ তাহে দিবে বাস।
ছুরি কাটারি কিম্বা তাহে খড়্গ চন্দ্রহাস।।
তার চারি তরফে সুচারু চারি তীর।
তার মধ্যে অধিষ্ঠিত আমি সত্যপীর।।
পঞ্চদেব পুর্ব পুজা পঞ্চ উপচারে।
বিষ্ণু বিধি ধ্যান অদি জ্ঞান অনুসারে।।
উদ্মুখে বেড়িয়া বসিবে বন্ধুগনে।
সির্ণির দ্রব্যাদি বলি শুন সাবধানে।।
গুড় দুগ্ধ আটা রম্ভা ফল পান গুয়া।
সম্ভব বিভব মত সব সওয়া সওয়া।।
আবির্ভূত চতুষ্টয় করিয়া সংযোগ।
নমঃ সত্যপীরায় বলিয়া দিবে ভোগ।।
কাঁচায় এই মত মতান্তরে কহি পাকা।
আনা মাষা আদি করি কড়ি কিম্বা টাকা।।
সওয়া সংখ্যা মুল্য যদি মিষ্টান্ন হয়।
সর্মপিলে সত্যপীরে সর্বসিদ্ধি হয়।।
সঙ্কটে পড়িয়া যদি স্মরে সত্যপীর।
ত্রিভুবনে অব্যয় সে নির্ভয় শরীর।।
ব্রতের মাহাত্য শুনি বিপ্রের তনয়।
করপুট করি কহে করিয়া বিনয়।।
ঘুচিল সংশয় গ্রন্থি সির্নি দিব আমি।
যদি হরি বট চতুর্ভুজ হও তুমি।।
ভক্তের ভাষনে চতুর্ভুজ হন হরি।
শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম চতুর্ভুজধারী।।
মহা তেজোময় মুর্তি দেখি দ্বিজবর।
আনন্দ সাগরে যেন ডুবিল অন্তর।।
পুলকে প্রেমের সিন্ধু উথলিয়া উঠে।
অবাক হইয়া দ্বিজ রহে করপুটে।।
কত কষ্টে কহিল চরনে দিও স্থান।
স্বীকার করিয়া হরি হৈল অন্তর্ধান।।
প্রভু কৃষ্ণ করি কৈল অনেক রোদন।
হইল আকাশবানী যাহ নিকেতন।।
উদ্দেশে প্রনমি দ্বিজ চলে নিজধাম।
হুকুম মাফিক হদ্ বিরচিল রাম।।
হেথা বিষ্ণু গেলা বিষ্ণুশর্মার মন্দিরে |
বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৪
জন্মাষ্টমী ব্রতকথা Janmastami Brotokotha
কৃষ্ণজন্মাষ্টমী ব্রতকথা krishna Janmastami Brotokotha
জন্মাষ্টমী ব্রতকথা-
একদিন কুলো পুরহিত বশিষ্ঠ দেবকে রাজা দিলিপ জিজ্ঞাসা করলেন।
অনন্তর অন্যের অগোচরে নন্দালয়ে নন্দীর সূতিকাগৃহে প্রবেশ করিয়া যশোদার নিকট পুত্র দিয়া সদ্যপ্রসূত কন্যাটি লইয়া প্রস্থান করিলেন। মায়াময় শ্রী হরির মায়াতে কেহই ইয়ার কিছু জানিতে পারিল না। নিজে কারা গৃহে প্রবেশ করিয়া দেবকীর কোলে কন্যা রত্ন সমর্পন করলেন।
প্রভাতে লোক মুখে দেবকীর প্রসববার্তা শুনে কংস তৎক্ষণাৎ দেবকীর নিকট দুত প্রেরণ করিলেন। দুত অবিলম্বে মাতৃক্রোড় হইতে কন্যাটিকে লইয়া কংসের নিকট হাজির করিল।।
কন্যার ভুবন আলো রুপ দেখিয়া কংস মনে মনে ভীত হইলেন। কম্পিত স্বরে বলিলেন শীঘ্রই ইহাকে শিলায় নিক্ষেপ করিয়া প্রাণসংহার করো।
আদেশ মাত্র যেমনি সেই কন্যাটিকে শিলায় নিক্ষেপ করিতে উদ্যত হল অমনি যোগমায়া তার হস্ত হইতে নভোমার্গে গিয়ে নিজ মূর্তি ধারণ করিয়া বলিলেন।
শোন শোন ওরে কংস
তোরে বধিবারে।
বাড়িছেন নারায়ন
গোকুল নগরে।।
এই কথা বলিয়া দেবি ভগবতি অন্তর্ধান হলেন।
এদিকে শ্রী হরি নন্দালয়ে বাল্য জীবনের নানা রূপে বাল্যলীলা করিয়া যথাকালে মথুরায় গমনপূর্বক দুরাচার কংস কে বধ করলেন।
জগত নিষ্কণ্টক হইল।
বসুন্ধরা দুর্বিষহ ভার হইতে নিষ্কৃতি পাইল।
রাজন
আমি জন্মাষ্টমীর ব্রত কথা কীর্তন করিলাম। নর-নারীর সকলের এই ব্রত করা কর্তব্য।যিনি শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী তিথিতে এই ব্রত অনুষ্ঠান করেন তিনি ইহধামে অতুলৈশ্বর্য ও নানা সুখ ভোগ করে থাকেন।
অন্তিমে বৈকুণ্ঠধামে নিশ্চই স্থান প্রাপ্ত হন।
"হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণকৃষ্ণ হরেহরে"
"হরেরাম হরেরাম রামরাম হরেহরে"।।
🙏🙏🙏
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪
রাধাষ্টমী ব্রতকথা
সর্ব প্রথমে জেনে নেওয়া যাক যে রাধা অষ্টমী জন্মাষ্টমীর পরে করা হয়। জন্মাষ্টমীর ১৫ দিন পর রাধাষ্টমী ভাদ্র মাসে শুক্লপক্ষে অষ্টমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সর্ব প্রথমে জেনে নেওয়া যাক ব্রত করতে গেলে কি কি দ্রব্য লাগে।
ব্রতের দ্রব্য_
সর্বপ্রথমে শাড়ি একখানা
মধু পর্ক বাটি
আসন অঙ্গুরিয়
বিভিন্ন প্রকার নৈবেদ্য
ধুপ, দ্বীপ ,ধুনা, ফুল ,তুলসী, বেলপত্র, দূর্বা ,আর দক্ষিণ।
এই ব্রত করলে কি ফল পাওয়া যায়_
এই বৃহৎ ব্রত করলে নর নারী সর্বপ্রকার পাপ হইতে মুক্তি লাভ করে।
ব্রতকথা-
ঋষি সুনক মহামতি সুত কে জিজ্ঞাসা করলেন হে সুত অন্যান্য দেবতাদের উপাসনার চেয়ে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় শ্রেষ্ঠ বলে জানি আরো জানি তা অপেক্ষা শ্রীমতি রাধারানীর আরাধনা কৃষ্ণ আরাধনার থেকেও শ্রেষ্ঠ অতএব শ্রীরাধার অর্চনা আরাধনা বিষয়ে কোনো ব্রত কথা বলুন শুনতে ইচ্ছা হচ্ছে।
সুত বললেন_
আমি একটি গোপনীয় ব্রতের কথা বলছি শুনুন একদিন দেবর্ষি নারদ শ্রীকৃষ্ণের নিকটে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন ভগবান আপনার শ্রীমুখে অনেক অনেক ব্রতের কথা শুনেছি এখন শ্রীমতি রাধিকার জন্মদিনের ব্রত কথা শুনতে ইচ্ছা হচ্ছে।
শ্রীকৃষ্ণ বলিলেন_
দেবর্ষি তুমি আমার পরম ভক্ত সেজন্য তোমার কাছে বলছি । কোন এক সময় সূর্যদেব ত্রিলোক ভ্রমন করতে করতে নানা প্রকার ঐশ্বয দেখে মনে মনে তপস্যার সংকল্প করে মন্দার পর্বতের গুহায় কঠোর তপস্যা আরম্ভ করেন। ওই রূপে দীর্ঘদিন গত হল সূর্যের কঠোর তপস্যা আর পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় দেবতাদের ভয় ভীত হল ইন্দ্র দেবগন সহ আমার কাছে এসে সব কথা বললে আমি বললাম যে সূর্য থেকে তোমাদের কোন ভয় নাই আমি নিজে আমি এর ব্যবস্থা করছি। তোমরা নিজে নিজ স্থানে যাও আমি সূর্যদেবের কে তপস্য থেকে শান্ত করব। তারপর আমি সূর্যের কাছে গেলাম সূর্য আমাকে দেখে খুব আনন্দিত হল তিনি বললেন হে শ্রী হরি আপনার দর্শন পেয়ে আমার জন্ম ও তপস্যা, সার্থক হল যিনি সৃষ্টির ও সংহারের কর্তা, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর যাকে সব সময় চিন্তা করেন তাকে দর্শন করে আমি ধন্য হলাম। আমি সন্তুষ্ট হয়ে সূর্যকে বললাম হে দিবাকর তুমি তপস্যায় সিদ্ধিলাভ করেছো এখন বর প্রার্থনা করো। তুমি আমার পরম ভক্ত সেজন্য তোমাকে দর্শন দিলাম এই কথা শুনে সূর্য বলল আমাকে একটি গুণবতী কন্যার বর দিন ,আপনি চিরদিন সেই কন্যাটির বশীভূত থাকবেন ,আর এছাড়া অন্য কোন ইচ্ছা আমার নেই। আমি তথাস্তু বলিয়া সান্তনা দিলাম। এই লোকে আমি একমাত্র শ্রী রাধিকার বশীভূত। শ্রীমতি রাধা এবং আমাতে কোন প্রকারভেদ নাই। আমি পৃথিবীর ভার কম করার জন্য বৃন্দাবনে নন্দলয়ে অবতীর্ণ হব। তুমিও সেখানে বৃষভানু নামে রাজা হয়ে জন্মগ্রহণ করবে, শ্রীমতি রাধা তোমার কন্যা রূপে অবতীর্ণ হবে, তারপর শ্রী হরি মথুরায় জন্মগ্রহণ করে নন্দলয়ে এলেন। সূর্যদেব বৈশকুলে জন্মগ্রহণ করে বৃষভানু রাজা হলেন,গোপকন্যা কীর্তিদার সঙ্গে তার বিবাহ হল এবং যথা কালে ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষে অষ্টমী তিথি বিশাখা নক্ষত্রে কীর্তিদার গর্ভে শ্রীমতি রাধিকার জন্মগ্রহণ হলো। গোপ ও গোপীরা আনন্দ উৎসবে মেতে উঠলো। আমার মায়ায় মুগ্ধ হয়ে রাধিকা আমাকেই পতিত্বে বরণ করতে ইচ্ছা করলো। যথা গেলে আয়ান ঘোষের সঙ্গে রাধিকার বিবাহ হলো ঠিক কিন্তু আমাকে পরম পুরুষ জ্ঞানে আমার সঙ্গে বিহার করতে লাগলো। শ্রীমতি রাধার এই জন্মদিনে গন্ধ, পুষ্প, ধুপ, দ্বীপ ,নৈবেদ্য ও বসন প্রসাধনী দারা শ্রীমতি রাধার পূজা করে নানা প্রকার মহোৎসব করতে হয়। রাধার সখী বৃন্দ গোপিকাবৃন্দ কীর্তিদা বৃষভানু প্রকৃতির পূজা করতে হয় তারপর ব্রত কথা শুনে সেদিন উপবাসী থেকে পরদিন বৈষ্ণবদের সঙ্গে পরান করতে হয়। রাধা নামের সঙ্গে কৃষ্ণ নাম যোগ করে জব করলে যাবতীয় মন্ত্র জপের ফল প্রাপ্ত হয়। আমার যেমন সন্তোষ হয় একবার রাধা নাম উচ্চারণ করলে, তার চেয়ে সহস্রগুন বেশি আমি সন্তোষ লাভ করি এই রাধা নামে ।
এই অনুষ্ঠানে মানুষ সর্ব দুঃখ দূর হয় পরম শান্তি লাভ করে ,ধনো অসরযে গৃহে পরিপূর্ণ হয় এবং সর্বস্থানে বিজয় লাভ হয়। ভক্তের কাছে এই ব্রথের কথা বললে সমস্ত অমঙ্গল দূর হয়ে যায় কিন্তু ভন্ড পাষণ্ড ভক্তিহীন নাস্তিকের কাছে প্রকাশ করলে অমঙ্গল হয় শ্রীকৃষ্ণের কাছে একথা শুনে নারদ মরতে প্রচার করলেন আর নিজেও পালন করতে লাগলো।
প্রেম প্রীতি ভালোবাসা পেতে হলে রাধা অষ্টমী ব্রত পালন করুন।
রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০২৪
হরিশ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত
ব্রতের দ্রব্য
ফুল, তুলসীপাতা, দূর্বা, আতপ চাল, কলা, মালা, আমপাতা, ঘট।
ব্রতের সময় বা কাল -
ব্রতের বিধান_
ব্রত কথা-
বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০২৪
চৈত্র লক্ষী পূজা ব্রতকথা
ব্রতকথা
চৈত্র মাসি শুক্ল পক্ষের বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর সঙ্গে নারায়ণের বৈকুন্ঠে বসে কথা হচ্ছিল। লক্ষ্মী বলল প্রভু চলো আজ বিমানে উঠে বেড়াতে যায়। যে কথা সেই কাজ সঙ্গে সঙ্গে রথে চড়ে দুজনে বেরিয়ে পড়লেন। নারায়ণ এক জায়গায় রথ থামিয়ে লক্ষীকে বলল আমরা এবার মর্তের দিকে যাব। যাওয়ার পরে তুমি উত্তর দিকে চেয়ো না আর রথ থেকেও নেমোনা । উত্তর দিকে ছিল তিল ফুলে ভরা একটা খেত। যেতে যেতে লক্ষ্মী ভাবলো এমন কি জিনিস ওদিকে আছে যে নারায়ণ আমাকে দেখতে বারণ করলেন। একবার চেয়েই দেখি না কি আছে। এই বলে লক্ষ্মী দেবী উত্তর দিকে চাইতেই তিল ফুলের ক্ষেত দেখতে পেলেন। ফুলগুলো এত সুন্দর যে দেখে লক্ষীর খুব লোভ হল। তিনি একবার তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নারায়ণকে খুব অনুনয় করতে লাগলেন । নারায়ন তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে নামার অনুমতি দিতে বাধ্য হলেন। এক গরিব ব্রাহ্মণ ছিল সেই ক্ষেতের মালিক। সে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে তার ক্ষেত থেকে যে ফুল তুলবে তাকে ১২ বছর তার সঙ্গে দাস বা দাসী হয়ে থাকতে হবে। নারায়ণ এ কথা জানতেন বলেই তিনি লক্ষীকে ওই ক্ষেতের দিকে চাইতে বারণ করেছিলেন । এদিকে লক্ষ্মী তিল ফুলের ক্ষেতে গিয়ে অনেক ফুল তুলে তার গয়না করে পরতে লাগলেন। লক্ষ্মী ফিরছেন না দেখে নারায়ন সেই খেতে গিয়ে হাজির হলেন। সেই সময় ক্ষেতের মালিক এসে উপস্থিত হলো। লক্ষ্মীকে ওইভাবে ফুল তুলতে দেখে বামুন লক্ষ্মীকে বলল যখন তুমি ক্ষেতের ফুল তুলেছ তখন আমার প্রতিজ্ঞা মত তোমাকে ১২ বছর আমার বাড়িতে দাসী হয়ে থাকতে হবে। তখন লক্ষী বাধ্য হয়ে বামুনের বাড়িতে দাসী হয়ে থাকতে রাজি হলেন। কিন্তু তিনি বামুনকে বললেন আমি তোমার সংসারে শুধু রান্না বান্নাই করব আর কিছু করবো না বামুন লক্ষ্মীর কথা স্বীকার করে নিল। নারায়ন তখন লক্ষীকে বললেন তোমায় তখনই বারণ করেছিলাম তুমি শুনলে না এখন কর্মফল ভোগ করো। আমি ১২ বছর পরে এসে তোমাকে নিয়ে যাব। নারায়ন রথ নিয়ে বৈকুন্ঠে ফিরে গেলেন। বামুন লক্ষীকে নিয়ে বামুনির কাছে হাজির হলো আর সব ব্যাপার বামনীকে জানিয়ে দিল। বামনি তখন প্রায় মাথায় হাত দিয়ে বলল কাজ না হয় একে দিয়ে করাবে। কিন্তু খাওয়াবে কেমন করে আমাদের অবস্থা তো এই। লক্ষ্মী রয়ে গেলেন বামুনের ঘরে, বাবুনের উপর তার কৃপা দুষ্টি পরল সঙ্গে সঙ্গে বামুনের ঘর ধন দৌলতে ভরে উঠলো, লক্ষ্মী দেবী রান্না করে নিজের খাবার ভাত তরকারি নিয়ে রোজ একটা ডালিম গাছের গোড়ায় পুঁতে রাখতেন। এটা কেউ জানতো না। এভাবে বারোটি বছর ধিরে ধীরে শেষ হয়ে গেল এরই মধ্যে এক গঙ্গা স্নানের যোগ সকলে গঙ্গা স্নান করতে যাওয়ার জন্য তৈরি হলো। বামুনি লক্ষীকে বলল কিগো মেয়ে এই যোগে তুমি গঙ্গা স্নান করবে না। লক্ষ্মী বলল না আমার গঙ্গায় নাইতে নাই। এই ৫ করা করি তুমি নিয়ে যাও স্নান করবার সময় গঙ্গায় ফেলে দিও। বামনি করিগুলো নিয়ে গিয়ে যে গঙ্গায় ফেলে দিল অমনি মা গঙ্গা নিজ মূর্তি ধরে দুহাত পেতে করি গুলো নিয়ে নিলেন। বামনি এবং সকলে দেখে একেবারে অবাক হয়ে গেল অমনি সময় ১২ বছর কেটে যাওয়ায় নারায়ন ও রথ নিয়ে বামুনের ঘরে এসে উপস্থিত হলো তিনি লক্ষীকে বললেন ১২ বছর পূর্ণ হয়েছিল কি এবার তুমি বইকী উঠে ফিরে চলো বৈকুন্ঠে। বামন ও আরো অনেকে এসে দেখল যে লক্ষী রথে চড়ে বসে আছেন লোককে তখন বামনকে বলল ঠাকুর আজ ১২ বছর পূর্ণ হয়েছে কাজেই আমি স্বর্গে চলে যাচ্ছি আমি লক্ষ্মী মরতে পূজা প্রচারের জন্য তোমার ঘরে এসে উঠেছিলাম। তোমরা আমাকে রোজ যা খেতে দিতে সেগুলো সব আমি ডালিম তলায় পুতে রেখেছি। সেগুলা তোমরা তুলে নিও। সেগুলো পেলে তোমাদের খুব সম্পদের অভাব থাকবে না। এই অবস্থায় ভাদ্র কার্তিক আর পৌষ মাসে যথা নিয়মে আমার পূজা করবে এই বলে তিনি রথে চেপে স্বর্গে চলে গেলেন। বামুনের মেজ বউ সেই কথা শুনে তাড়াতাড়ি গিয়ে ডালিমতলা ঘুরতে লাগলো সেই সময় একটা কেউটে সাপ হঠাৎ গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে তাকে কামড় দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। মেজ বউ মরণের কোলে ঢলে পড়লাম সে মা লক্ষ্মীকে দু চোখে দেখতে পারত না বামন বামুনী সেই গর্ত থেকে তখন অনেক ধনরত্ন ও হীরে মুক্তা পেল। তারপর থেকে তারা নিয়মিত ভাবে লক্ষ্মী পূজা করতে লাগলো তার কুঁড়েঘর ভেঙ্গে নতুন অট্টালিকা তৈরি করা হলো আর হাতি ঘোড়া দাস-দাসী নিয়ে জীবন অতিবাহিত করল মৃত্যুর পর ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণী বয়কন্ঠে গমন করল
যদি এই ব্রত কেউ করেন তাহলে তার ধন সম্পদের কোন কবি থাকে না সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করে এবং লক্ষ্মীর কৃপা পায়।
চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে বৃহস্পতিবার এ লক্ষী পূজা করতে হয়।
বুধবার, ২০ মার্চ, ২০২৪
ফল গোছানো ব্রত
একজন ব্রাহ্মণকে চৈত্র মাসের মহাবিশুভ সংক্রান্তির দিন একটি পৈতা একটি সুপারি ও কিছু দক্ষিণা দিয়ে প্রণাম করতে হবে সারা বৈশাখ মাস ধরে।
প্রতিদিন একজন করে ব্রাহ্মণকে বৈশাখ মাসের সংক্রান্তি পর্যন্ত এমনি ভাবে দিতে হবে। দ্বিতীয় বছরে সুপারি না দিয়ে তার বদলে কলা পৈতা মিষ্টি কিছু পয়সা দিয়ে ব্রাহ্মণকে প্রতিদিন সারা মাস ধরে প্রণাম করা কর্তব্য । তারপরের বছর তৃতীয় বছর কলার বদলে আম ও তার সঙ্গে পৈতে মিষ্টান্ন ও দক্ষিণা ব্রাহ্মণকে প্রণাম করে আসবে। তিনটি বছর কেটে যাওয়ার পর অর্থাৎ চতুর্থ বছরে আমের বদলে ডাব পৈতা পয়সা দিয়ে প্রণাম করার দরকার। সব শেষে মহা বিষুব সংক্রান্তিতে চারজন ব্রাহ্মণকে কাপড় ও চাদর দিতে হয়। তবে সামর্থ্য না থাকলে যাকে দিয়ে ব্রত নেওয়া হয়েছে তাকে ধুতি চাদর গামছা পাদুকা ছাতা পাংখা দেওয়ার রীতি। উদযাপনের সময় রুপার ডাব সোনার সুপারি সোনার কলা স্বর্ণকারের কাছ থেকে বানিয়ে দান করে ব্রত উদযাপন করতে হয়। যাকে দিয়ে ব্রত নেওয়া হয়েছে তিনি যদি উদযাপনের সময় কোন কারণবশত না থাকে তাহলে তার বংশের যে কোন ব্রাহ্মণকে খুব তৃপ্তি করে ভোজন করিয়ে এই জিনিস গুলি দান করিবেন
কখন এই ব্রত করিবেন--
চৈত্র মাসে মহা বিষুবসংক্রান্তিতে এই ব্রত নেওয়ার নিয়ম
এই ব্রত চার বছর পালন করতে হয়। আর চার বছর পরে বৈশাখ মাসের বিষ্ণুপদী সংক্রান্তিতে এই ব্রতের উদযাপন করার বিধি কেবলমাত্র বিবাহিত মহিলা রায় এই পালন করতে পারে।
বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
সুর্যাদিনবগ্রহ ধ্যান
বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০
গনেশের ধ্যান ও প্রনাম
ধ্যান _বক্রতুণ্ড মহাকায় কোটিসুর্য্য সমপ্রভ নির্বিঘ্নে কুরুমে দেব সর্বকার্য্য সুসর্বদা।
প্রনাম_একদণ্ড্য লম্বদর গৌরীপুত্র বিনায়ক বিগ্ন্যনাশ করোদেব হেরম্ব্য প্রনমামহং।
গুরুর ধ্যান মন্ত্র ও প্রনাম মন্ত্র
মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২০
debi duraji ki arati
সোমবার, ১৩ মে, ২০১৯
শনিবার, ৯ মার্চ, ২০১৯
বুধবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
বট সাবিত্রীর ব্রতকথা বট সাবিত্রীর ব্রতকথা - বহু প্রাচীন কালে মদ্রদেশে অশ্বপতি নামে এক রাজা ছিল।এই রাজার পুন্যের ফল...
-
সত্যনারায়ণ ব্রতকথা সত্যনারায়ণ পূজার নিয়ম এই ব্রতের কোন তিথি নক্ষত্রের নিষেধ নেই। যে কোন ব্যক্তি প্রদোষকালে এই ব্রত করতে পা...
-
কৃষ্ণজন্মাষ্টমী ব্রতকথা krishna Janmastami Brotokotha কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ব্রত বাংলার হিন্দুসমাজের আচরণীয় ব্রতগুলির অন্তর্গত একটি ব্রত । বাং...
-
ব্রতকথা চৈত্র মাসি শুক্ল পক্ষের বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর সঙ্গে নারায়ণের বৈকুন্ঠে বসে কথা হচ্ছিল। লক্ষ্মী বলল প্রভু চলো আজ বিমানে উঠে বেড়াত...


