Translate

manbodh লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
manbodh লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

বট সাবিত্রীর ব্রতকথা 26

  
 
 
 

বট সাবিত্রীর  ব্রতকথা - 

 

 
বহু প্রাচীন কালে মদ্রদেশে অশ্বপতি নামে এক রাজা ছিল।এই রাজার পুন‍্যের ফলে একদিন দেবর্ষি নারদ তার রাজসভায় এসে উপস্থিত হলেন।সে সময় রাজা অশ্বপতি খুব চিন্তিত ছিলেন।নারদ রাজাকে তার চিন্তার কারন জিজ্ঞাসা  করলেন। রাজা বলিলেন আজ কিছুদিন হলো মন্ত্রী ও সৈন‍্য সামন্তদের সঙ্গে দিয়ে দেশ ভ্রমণে পাঠিয়েছিলাম  কিন্তুু কোনো খবর  না পাওয়ায় খুব চিন্তা হচ্ছে।নারদ তখন বললেন কিন্তু ু মা সাবিত্রীর  বিয়ের  কি ব‍্যবস্থা করলেন মহারাজ রাজা অশ্বপতি দীর্ঘ নিশ্বাশ ফেলে বলল  সাবিত্রীকে  বিয়ে  করার জন‍্য অনেক দেশের অনেক রাজপুত্র এসেছিল  কিন্তু সাবিত্রীকে  দেখার পর কেউ তাকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করতে সাহস  করলেন না। সকলেই ফিরে  গেলেন। নারদ বললেন তাতো হবারই কথা মহারাজ  তোমার কি  মনে যে কোন দেবীশক্তি থেকে  সাবিত্রীর  জন্ম   রাজা বললেন হ‍্যাঁ মনে তো আছে দেবর্ষি জৈষ্ট‍্য মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে ব্রত করে আমি সাবিত্রীকে  পেয়েছি। এমন সময় মন্ত্রী  রাজসভায় এসে রাজাকে জানালেন  যে মা সাবিত্রী ফিরে এসেছেন। মন্ত্রী বললেন দেবর্ষি আমরা বহু দেশ আর বহু নগর পরিভ্রমন করে এসেছি।বহুরাজা মহারাজা মা সাবিত্রীকে  দেখে  খুবই মুগ্ধ হয়েছেন কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়  এই যে মা সাবিত্রীর  বর সহজে কোথাও খুজে  পাওয়া যায়নি।শেষে অন্ধ রাজা দ‍্যুমৎসেন তার রাজ‍্য হারিয়ে যে বনে বাস করছেন আমরা সেখানে  গিয়ে  উপস্থিত  হই। মা সাবিত্রী রাজরানীর কাছে আদর পেয়ে খুবই  মুগ্ধ হন আর শেষে তাদের  এক মাত্র ছেলে  সত‍্যবানকে তার স্বামী  হিসাবে মনোনীত  করেছেন।  নারদ মন্ত্রীর শেষ কথাটা শুনে  চিন্তিত  হয়ে  উঠলেন এবং বলেলেন  মা সাবিত্রী ভাল কাজ করেনি। সত‍্যবান রাজপুত্র হলে কি হবে  তার আয়ু যে খুবই কম।সত‍্যবানের সঙ্গে  বিয়ে হলে  এক বচ্ছর পরেই সাবিত্রীকে বিধবা হতে হবে। রাজা অশ্বপতি নারদের এই কথা শুনে তখনই  সাবিত্রীকে সভায়  ডেকে  আনলেন এবং বললেন মা সাবিত্রী তুমি তোমার মত পরিবর্তন করো মা। দেবর্ষির মুখে শুনলাম যে সত‍্যবানের আয়ু খুবই কম।তার হাতে তোমাকে বিয়ে দিলে  বৈধব‍্য যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে  আমি তা দেখতে পারবো না তুমি তোমার মত পরিবর্তন  কর মা।রাজার মুখে এই কথা শুনে সাবিত্রী শিউরে উঠলো  আর  অপলক চোখে রাজার দিকে চেয়ে রইল। রাজা তখন সাবিত্রীকে বুঝিয়ে বললেন মা তুমি তো সত‍্যবানকে শুধু  মনে মনেই স্বামী  বলে  মনোনীত করেছ।তোমার এই মত পরিবর্তন করতে ভাববার কি আছে মা বিয়ে স্থির  হয়েও তো অনেক সময় ভেঙে যায়।সাবিত্রী বলল বাবা আপনি নিজে আমাকে আমার মনোমত স্বামী বেছে নেবার অনুমতি দিয়েছেন। সেই মতো আমি সত‍্যবানকে বেছে নিয়ে তাকেই মনে মনে স্বামী বলে স্বীকার করে নিয়েছি   এখন অন্য কাওকে বরন করলে আমাকে দ্বিচারিনী হতে হবে  না কী?রাজা অশ্বপতি সাবিত্রীর এই কথা শুনে আর কোনো কথা বলতে  পারলেন না। দেবর্ষি নারদ তখন বললেন  বৃথা চিন্তা করে লাভ নেই রাজা  তুমি সত‍্যবানের সঙ্গেই সাবিত্রীর বিয়ে দাও। আমি সাবিত্রীর কুষ্টি দেখেছি তাতে সাবিত্রীর বৈধব‍্য যোগ নেই।অথচ সত‍্যবানের অকালমৃত্যুর যোগ  রয়েছে।এটাও আমি জানি হয়তো এরমধ‍্যে কিছু রহস্য  আছে। যায় হোক এই বিয়েতে মত দেওয়া ছাড়া তোমার আর কোনো গতান্তর নেই।রাজা অশ্বপতি নারদের কথা ঠেলতে পারলেন নাই। রাজা দমুৎসেনের সঙ্গে দেখা করে  সত‍্যবানের সঙ্গেই সাবিত্রীর বিয়ে দিয়ে দিলেন। রাজা দমুৎসেন ও রানী সাবিত্রীকে  বউ পেয়ে খুবই খুসি ও আনন্দিত  হলেন।সাবিত্রীও খুব যত্নের সঙ্গে শ্বশুর শাশুড়ির সেবা করতে লাগল। এই করে ক্রমে এক বছর পুর্ন হতে চলল।সাবিত্রী সারা বছর ধরে দিন গুনে আসছিল। এখন বছর পুর্ন হবার তিন দিন আগে শ্বশুর শাশুড়ির কাছে অনুমতি নিয়ে সাবিত্রী  ব্রতের উপোস করতে আরম্ভ করল।যে দিন  এক বছর পুর্ন হবে সেই দিন পড়ল জৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি। 💖
যখন সত‍্যবান কাষ্ট আনিবার জন‍্য বনে গমন করিবার জন‍্য উদ‍্যৎ হইল তখন সাবিত্রী শশুর ও শাশুড়িকে বুঝাইয়া স্বামীর  সহিত সাবিত্রিও বনে গমন করিল । বনে গিয়ে সত‍্যবান কাঠ সংগ্রহ  করিতে লগিল  
হটাৎ সত‍্যবানের মাথায়  অসহ‍্য যন্ত্রণা হতে লাগল।সত‍্যবান সাবিত্রীকে বলল  
সাবিত্রী আমার মাথায় অসহ‍্য যন্ত্রণা  হচ্ছে  আমাকে ধর।
বলতে বলতে সত‍্যবানের শরীর ঠান্ডা হতে লগল সাবিত্রী সত‍্যবানের মস্তক কোলের মধ‍্যে নিয়ে বসে পড়ল মাটিতে।
কখন  যে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল জানতেও পারল না। সেদিন  ছিল কৃষ্ণাচতুর্দশী তিথি।
একাকিনী সাবিত্রী সত‍্যবানের দেহ কোলে নিয়ে মাসাবিত্রী দেবীকে স্মরন করতে লাগিল। যমদুতেরা এসে সতীসাবিত্রী দেখে ভীত হয়ে ফিরে গেল যমরাজের কছে এবংবলল  প্রভু এক দেবী মৃতদেহ কোলে নিয়ে বসে আছে গভীর জঙ্গলের মাঝে।
 এই বার্তা শুনে যমরাজ নিজে গিয়ে উপস্থিত হলেন এবং সাবিত্রীকে বলল 
দেবী তোমার স্বামী মৃত।এখন আমি তোমার স্বামীর প্রানপুরুষটি নিতে এসেছি। তুমি  সত‍্যবানের দেহটা মাটিতে  রেখে বাড়ি ফিরে  যাও আমি এর প্রানটি নিয়ে চলে যায়।সাবিত্রী দেহটা মাটিতে  রেখে সরে দাঁড়াল যমরাজ সত‍্যবানের প্রানটি নিয়ে দক্ষিণ  দিকে  চলতে লাগল।কিছদুর যাওয়ার পর যমরাজ দেখলযে সাবিত্রীও তার পেছনে পেছনে আসছে,তা দেখে যমরাজ বলিল হে দেবী তুমি আমার সহিত কোথায়  চলিয়াছ।🙏
ধর্মরাজ যমের কথা শুনিয়া সাবিত্রী বলল আমার স্বামী কে যেখানে নিয়ে যাবেন  আমিও  সেখানে যাইব।  কারণ পতিই সতির ধর্ম ও আশ্রয়  আপনি ধর্মরাজ নিশ্চই এই কথাটি জানেন। ধর্মরাজ যম কথাটি শুনে লজ্জিত বোধ করলেন। যম সাবিত্রীকে বলল সতী তুমি তিনটি বর চাও । সত‍্যবানের জীবন  ছাড়া।  আমি সেই  বর তোমাই দেব। সাবিত্রি বলল আপনি যদি সত্তি আমার উপর  সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন তাহলে এই বর দেন যেন (1) আমার অন্ধশ্বশুর আর অন্ধ শাশুড়ি তাদের  দুই চোখের দৃষ্টি যেন  ফিরে পায়।
(2) আমার শশুর মশাই যেন তার রাজ‍্য পুনপ্রাপ্ত করেন(3)আমার পিতার একশোটা পুত্র লাভ হউক।
তথাস্ত বলিয়া ধর্মরাজ যম গমন করিলেন।
 এদিকে সাবিত্রী ও যমের পেছনে পেছনে গমন করিতে লাগিল অবশেষে বৈতরণী নদীর তীরে  উপস্থিত হইল  যম সাবিত্রীকে দেখিয়া বিস্মৃত হয়ে গেল।ধর্মরাজ যম বলিল দেবী তুমি এখনো পর্যন্ত আমার সঙ্গে।সাবিত্রি পুনরায় ধর্মরাজের স্তব করিলেন। ধর্মরাজ সন্তুষ্ট হয়ে বলল। তুমি আরো একটু বর চাও।
সাবিত্রী বলিল -আমাকে এইবর দিন যেন সত‍্যবানের ঔরসে আমার এক শটি পুত্র লাভ হয়। যমরাজ তথাস্তু বলিয়া তাড়াতাড়ি চলিতে লাগলো এবং খুব তাড়াতাড়ি বৈতরনীর তীরে এসে উপস্থিত হল।
পেছনে সাবিত্রীকে দেখে চমকে উঠলো
যমরাজ সাবিত্রী কে বলল মানুষ এখান পর্যন্ত আসতে পারে না তুমি কি করে এলে? সাবিত্রী বলল যে ধর্মরাজের আশ্রয় নিয়েছে সে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে যেতে পারেনা।কিন্তু আমি একটা কথা জানার জন্য এতদূর পর্যন্ত আপনার সাথে এসেছি আপনি আমায় শত পুত্রের জননী হওয়ার বর দিয়েছেন অথচ আমার স্বামীকে নিয়ে চলে যাচ্ছেন ধর্মরাজও কি ধর্ম কথা ভুলে গেছেন। সাবিত্রীর কথা  শুনে ধর্মরাজ লজ্জিত  হয়ে সত্যবানের প্রাণপুরুষকে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর সাবিত্রী সত্যবান এর প্রাণপুরুষ নিয়ে ফিরে এসে সত্যবানের জীবন দান করলেন। সত্যবান ঘুমের থেকে উঠে বসে সাবিত্রী কে বলল চলো আমরা বাড়ি ফিরে যাই।এদিকে শশুর শাশুড়ি দুজনায় সকালে উঠে চোখে দেখতে পায়। এবং সকাল হয়েছে দেখে সাবিত্রী সত্যবান কে না দেখতে পেয়ে চিন্তা করছিল এমন সময় সাবিত্রী সত্যবান এসে উপস্থিত হল তাদের সামনে। এদিকে মন্ত্রীসৈন‍্যসামন্ত নিয়ে রাজার কাছে এসে উপস্থিত হলো আবার রাজা নিজের রাজত্বে ফিরে গেলেন। সত্যবানকে রাজ সিংহাসনে বসিয়ে আনন্দে দিন জাপন করতে লাগলেন।
সাবিত্রী সত‍্যবানের জয় হোক।
বলো বলো সাবিত্রী সত্যবান কি জয়।

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

সাবিত্রী চতুর্দশী ব্রতকথা Bat Sabitri Bratokotha

ব্রত কথা 

মদ্র দেশে এক রাজা ছিলেন।সে দেশের রাজার নাম অশ্বপতি।বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত কোন পুত্রাদি না হওয়ায় রাজা অশ্বপতি পত্নীসহ সাবিত্রী দেবীর আরাধনা করতে লাগলেন।
14 বছর  ব্রত করার পর ব্রত উদযাপন করলেন।
দেবী সন্তুষ্ট হয়ে রাজাকে আশীর্বাদ করল যে সর্বগুণ সম্পন্ন কন্যা তার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করবে।এই বর দিয়ে দেবী সাবিত্রী অন্তর্ধান হলেন।
যথাসময়ে রানী একটি সুকন্যা কে জন্ম দিলেন।তার নাম রাখলেন সাবিত্রী।
সাবিত্রী দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর পূর্ণিমার চাঁদের মত বড় হতে লাগল।
রাজা অস্ত্রপাতি বিবাহযোগ্য কন্যাকে দেখে বিবাহের জন্য উপযুক্ত বর খুঁজতে চারিদিকে খবর পাঠালেন।
কোন পাত্রের সন্ধান না আসায় সাবিত্রী সখীদের সঙ্গে বরের সন্ধানে দেশ ভ্রমণে বের হলেন।
গ্রাম শহর বিভিন্ন দেশ ঘুরে এক বনে গিয়া উপস্থিত হল।
 এদিকে সেই বনে সালভো দেশের রাজা রাজ্য হারিয়ে বনে বসবাস করতেন। রাজার নাম ছিল দ্যুমৎসেন। 
সাবিত্রী এখানে গিয়ে উপস্থিত হল। রাজা রানীর খুব আদর পেয়ে সেখানে রইল।সেখানে রাজার ছেলে সত্যবান কে দেখতে পেল। সেই দেখাতেই সাবিত্রী মনে মনে সত্যবান কে নিজের মন মত স্বামী হিসাবে বেছে নিয়ে নিজের রাজ্যে ফিরে গেলেন।
দৈবযোগে মহামুনি নারদ রাজা অশ্বপতির সহিত সাক্ষাৎ  করছিলেন সেসময়। সাবিত্রী ও এসে উপস্থিত হলো রাজবাড়ীতে রাজা  সাবিত্রী কে  ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কোন কোন দেশ ঘুরে এলে। 
সাবিত্রী বলল আমি অনেক দেশ ও নগর ঘুরে এসে উপস্থিত হলাম একটি বনে সেখানে উপস্থিত  রাজা দ্যুমৎসেনের ছেলে সত্যবান আমি মনে মনে পতিরুপে বরন করেছি। 
দেবর্শি নারদ কথাটি শুনে রাজা কে বলল  সাবিত্রী ভালো কাজ করেনি।আমি জানি সত্যবান এর আয়ু  খুবই কম। বিয়ের এক বছর পর সত্যবান  মারা যাবে।এবং রাজ্য হারা দ্যুমৎসেন ও তার স্ত্রী দুজনে অন্ধ।নারদ এর এই কথা শুনে রাজা সাবিত্রী কে বলল মা তুমি তো কেবল সত্যবান কে মনে মনে স্বামী হিসাবে বরণ করেছ।
আমি এটা দেখতে পারবোনা তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করো।
সাবিত্রী বলল বাবা আমি আপনার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নিজের মনমতো পাত্র বেছে নিয়েছি এখন যদি অন্য পাত্রে বিয়ে করি তাহলে আমাকে দ্বিচারিণী বলবে সবাই।
 নারদ কথাটি শুনে  রাজা কে বলল রাজন আপনি সত্যবান এর সঙ্গে সাবিত্রীর বিবাহ  দিয়ে দাও। আমি দেখছি সত্যবানের অকাল মৃত্যু যোগ আছে কিন্তু সাবিত্রীর বৈধব্য যৌগ নেই।
হয়তো এর মধ্যে ভগবানের কিছুলীলা লুকিয়ে আছে। 
 নারদ এর কথা শুনে রাজা  খুব ঘটা করে সাবিত্রী সত্যবান এর বিয়ে দিয়েদিলেন।
সাবিত্রী ও অন্ধ শশুর  এবং শাউড়ি কে খুব যত্ন করতে লাগলো খুব আনন্দের সঙ্গে দিনগুলো পার হচ্ছিল কিন্তু নারদের কথাটি তার মনের মধ্যে রইল।
সাবিত্রী দিন গুনে গুনে যাচ্ছিল যেদিন এক বছর পূর্ণ হবে তার তিনদিন পূর্বে শ্বশুর-শাশুড়ির কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সাবিত্রী চতুর্দশী ব্রত করার জন্য প্রস্তুতি নিলেন।যেদিন এক বছর পূর্ণ হবে সেদিন  ছিল  সাবিত্রী চতুর্দশী ব্রত।
 শ্বশুর-শাশুড়িকে অনেক বোঝানোর পর সত্যবান এর সঙ্গে সাবিত্রি বনে  যাওয়ার জন্য অনুমতি পেল।
 কাঠ সংগ্রহের জন্য সাবিত্রী সত্যবান বনে গিয়ে উপস্থিত হল। সত্যবান গাছের উপর থেকে কাঠ  কেটে কেটে নিচে ফেলতে লাগলো সাবিত্রী সেগুলি কুড়িয়ে ঝুড়িতে  রাখতে  লাগলো।
 এমন সময় সত্যবান চিৎকার করে উঠলো সাবিত্রী আমার মাথায় ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে আমাকে ধরো বলতে বলতে সত্যবান নিচে পড়ে মারা গেল। 
এই দিনটি ছিল কৃষ্ণচতুর্দশী সাবিত্রী সত্যবান এর দেহটি কোলে নিয়ে সাবিত্রী দেবীকে ডাকতে লাগলো।
এদিকে সন্ধ্যা হয়ে গেল চারিদিকে  ঘন অন্ধকারে ছেয়ে গেল। যমরাজ এসে  উপস্থিত হল। সাবিত্রী কে বললো তুমি সরে দাঁড়াও সত্যবান এর মৃত্যু হয়েছে আমি সত্যবান এর প্রাণপুরুষ টিকে নিএ চলে যায়। 
সাবিত্রী সরে দাঁড়ালো যমরাজ প্রাণপুরুষ কে নিয়ে দক্ষিণ দিকের পথে চলতে লাগলো  সাবিত্রীও যমরাজের পেছনে পেছনে চলতে লাগলো।কিছুক্ষণ পরে যমরাজ দেখল সাবিত্রীও তার পেছনে পেছনে আসছে।
তাই দেখে যমরাজ সাবিত্রী কে বলল তুমি আমার সঙ্গে আসছ কেন 
সাবিত্রী বলল আমার স্বামী কে যেখানে নিয়ে যাবেন  আমিও  সেখানে যাইব।  কারণ পতিই সতির ধর্ম ও আশ্রয়  আপনি ধর্মরাজ নিশ্চই এই কথাটি জানেন। ধর্মরাজ যম কথাটি শুনে লজ্জিত বোধ করলেন। যম সাবিত্রীকে বলল সতী তুমি তিনটি বর চাও । সত‍্যবানের জীবন  ছাড়া।  আমি সেই  বর তোমাই দেব। সাবিত্রি বলল আপনি যদি সত্তি আমার উপর  সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন তাহলে এই বর দেন যেন (1) আমার অন্ধশ্বশুর আর অন্ধ শাশুড়ি তাদের  দুই চোখের দৃষ্টি যেন  ফিরে পায়।
(2) আমার শশুর মশাই যেন তার রাজ‍্য পুনপ্রাপ্ত করেন(3)আমার পিতার একশোটা পুত্র লাভ হউক।
তথাস্ত বলিয়া ধর্মরাজ যম গমন করিলেন।
 এদিকে সাবিত্রী ও যমের পেছনে পেছনে গমন করিতে লাগিল অবশেষে বৈতরণী নদীর তীরে  উপস্থিত হইল  যম সাবিত্রীকে দেখিয়া বিস্মৃত হয়ে গেল।ধর্মরাজ যম বলিল দেবী তুমি এখনো পর্যন্ত আমার সঙ্গে।সাবিত্রি পুনরায় ধর্মরাজের স্তব করিলেন। ধর্মরাজ সন্তুষ্ট হয়ে বলল। তুমি আরো একটু বর চাও।
সাবিত্রী বলিল -আমাকে এইবর দিন যেন সত‍্যবানের ঔরসে আমার এক শটি পুত্র লাভ হয়। যমরাজ তথাস্তু বলিয়া তাড়াতাড়ি চলিতে লাগলো এবং খুব তাড়াতাড়ি বৈতরনীর তীরে এসে উপস্থিত হল।
পেছনে সাবিত্রীকে দেখে চমকে উঠলো
যমরাজ সাবিত্রী কে বলল মানুষ এখান পর্যন্ত আসতে পারে না তুমি কি করে এলে? সাবিত্রী বলল যে ধর্মরাজের আশ্রয় নিয়েছে সে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে যেতে পারেনা।কিন্তু আমি একটা কথা জানার জন্য এতদূর পর্যন্ত আপনার সাথে এসেছি আপনি আমায় শত পুত্রের জননী হওয়ার বর দিয়েছেন অথচ আমার স্বামীকে নিয়ে চলে যাচ্ছেন ধর্মরাজও কি ধর্ম কথা ভুলে গেছেন। সাবিত্রীর কথা  শুনে ধর্মরাজ লজ্জিত  হয়ে সত্যবানের প্রাণপুরুষকে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর সাবিত্রী সত্যবান এর প্রাণপুরুষ নিয়ে ফিরে এসে সত্যবানের জীবন দান করলেন। সত্যবান ঘুমের থেকে উঠে বসে সাবিত্রী কে বলল চলো আমরা বাড়ি ফিরে যাই।এদিকে শশুর শাশুড়ি দুজনায় সকালে উঠে চোখে দেখতে পায়। এবং সকাল হয়েছে দেখে সাবিত্রী সত্যবান কে না দেখতে পেয়ে চিন্তা করছিল এমন সময় সাবিত্রী সত্যবান এসে উপস্থিত হল তাদের সামনে। এদিকে মন্ত্রীসৈন‍্যসামন্ত নিয়ে রাজার কাছে এসে উপস্থিত হলো আবার রাজা নিজের রাজত্বে ফিরে গেলেন। সত্যবানকে রাজ সিংহাসনে বসিয়ে আনন্দে দিন জাপন করতে লাগলেন।


                                   

Hanuman ji ki aarati

https://youtu.be/820cYGbXAIA

Bipattarini taga banana sikho

https://youtu.be/b6fcsvOlqrY

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৪

জন্মাষ্টমী ব্রতকথা Janmastami Brotokotha

কৃষ্ণজন্মাষ্টমী ব্রতকথা krishna Janmastami Brotokotha

কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ব্রত বাংলার হিন্দুসমাজের আচরণীয় ব্রতগুলির অন্তর্গত একটি ব্রত। বাংলার বাঙালি হিন্দুঘরের (প্রধানত বৈষ্ণব মতাবলম্বী) পুরুষ ও মহিলারা জাগতিক মঙ্গলকামনায় এবং অশুভ-অকল্যাণ দূর করতে এই ব্রত পালন করেন। এটি ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষে জন্মাষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের পূজার অঙ্গ হিসাবে পালন করা হয়।
 

জন্মাষ্টমী ব্রতকথা-

একদিন কুলো পুরহিত বশিষ্ঠ দেবকে  রাজা দিলিপ জিজ্ঞাসা করলেন।

ভাগ্যবান শ্রীভগবান নারায়ন ভাদ্র মাসে কৃষ্ণপক্ষে অষ্টমী তিথিতে  মর্তধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন কেন।,
 আমাকে বিশেষ করিয়া বলুন।
 বৈশিষ্ট্য দেব বলল মহারাজ যে কারণে ভগবান বৈকুণ্ঠ হইতে মর্তে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন তাহা বলিতেছি শুনুন।

 এই সমগ্র পৃথিবীর অধিপতি ছিলেন অসুর রাজ কংস।
 তিনি মদগর্বে উন্মত্ত হইয়া বসুমতি কে প্রতারিত  করিতে লাগিলেন তাই বসুমতি কান্দিতে কান্দিতে কৈলাসে গিয়া মহেশ্বর কে সব কথা বলিলেন।
সৎ হৃদয় মহেশ্বর পৃথিবী ও দেবতাকে লইয়া  ব্রহ্মার নিকট উপস্থিত হইল এবং ব্রহ্মাকে সব কথা বলিলে ব্রহ্মা  সমস্ত কথা শুনে  দেবগণকে লইয়া ক্ষীরোদ সাগরের তীরে গিয়ে উপস্থিত হইলএবং ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করিতে লাগিলেন হে লক্ষীকান্ত আপনাকে নমস্কার আমরা আপনার শরণাগত আপনি আমাদের প্রার্থনা পূর্ণ করুন।
   এইভাবে সকলেই  বিষ্ণুর স্ত ব  করিতে  লাগিলেন এবং লক্ষীকান্ত আপনাকে নমস্কার আপনার শরণাগত আমরা আপনার কাছে  কৃপা পার্থী  আমাদের এই প্রার্থনা পূর্ণ করুন।
 এইভাবে স্তব  করিলে ভগবান বিষ্ণু স্ত বে তুষ্ট হয়ে ভগবান বিষ্ণু মধুর বাণীতে জিজ্ঞাস করলেন হে দেবগণ আজ তোমাদের মুখ মলিন দেখিতেছে কেন ব্রহ্মা বলিল যে হে  জগন্নাথ দুরাচার কংস মহাদেবের বরে দৃপ্ত হইয়া ধরা সতী কে প্রপিড়িত করিতেছে।
 আপনি দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করিয়া দুষ্ট কংস কে নিপাত করুন। 
ব্রহ্মার এই কথা শুনে ভগবান বিষ্ণু অধোবদনে চিন্তা করিয়া মহেশ্বর কে বলিল  যদি আমাকে মর্তে জন্মগ্রহণ নিতে হয় তা হইলে এক বছরের জন্য পার্বতী কে আমার সঙ্গে জন্মনিতে হইবে অনুমতি দেন।
তাহাই স্থির হইল।
 তিনি গোকুলে জন্ম নেবার পর একটি বচ্ছর থাকিয়া ফিরিয়া  আসিবেন।
 নিজে হরি আর পার্বতী উভয়ই মর্তধামে শুভ যাত্রা করলেন। দেবকীর গর্ভে হরি আর যশোদার গর্ভে পার্বতী জন্ম নিলেন।


দশ মাস দশ দিন গর্ভে থাকার পর ভাদ্র মাসে কৃষ্ণ অষ্টমী তিথিতে রোহিনী নক্ষত্রে জন্মগ্রহণ নিলেন।
 তখন ঘোর অন্ধকার মুষলধারে বৃষ্টি পড়িতেছিল সেই সময় কংস কারাগারে দেবকি আবদ্ধ ছিলেন। 
ঠিক সেই সময় যশোদার গর্ভে পার্বতী জন্ম গ্রহণ করিলেন।
 নবজাতক শিশুর অলৌকিক রূপ দেখে বসুদেব ও দেবোকির বিস্ময়ের পরিসীমা রইল না।
তারা  সজল নেত্রে বলিতে লাগিল হে ভগবান কংস  ভয় হইতে আমাদের পরিত্রাণ করুন।
তখন আকাশবাণী হইল বসুদেব তুমি শিশুকে লইয়া বিরাট নগরে নন্দ গৃহে গমন করো।
  এই শিশুকে দিয়ে তাহার কন্যাকে লইয়া এস।কংস তাকে  বিনাশ করিতে সমর্থ হইবে না।
 দৈববাণী শ্রবণ করিয়া বসুদেব তখনই শিশুকে কোলে লইয়া যাত্রা করলেন। তিনি একাকী সেই অন্ধকার পথ বাহিয়া চলিলেন।
  ক্রমে যমুনার তীরে উপস্থিত হইল।
  যমুনা নদীর ভীষণ বন্যা দেখে ভেয় বেকুল হয়ে  উঠিলেন কিভাবে পারাপার করিবেন।
তীরে দাঁড়াইয়া সজল নেত্রে শিশুর মুখপদ্ম অবলোকন করিতে লাগিল।
তাহার হৃদয় বিচলিত হইয়া উঠিল।
   চিন্তামগ্ন বাসুদেবকে মায়াময় শ্রী হরি মায়াময় শৃগাল রুপ ধারণ করে পদব্রজে যমুনা নদী  পারাপারে গমন করিলেন।
তাই দেখে বসুদেবের মনে আসার সঞ্চার হইলো। সে মনে করিল আর চিন্তা কি এই মনে করিয়া  শিশু কোলে লইয়া যমুনা গর্ভে অবতরণ করিলেন এবং ধীরে ধীরে জলরাশি ভেদ করিয়া চলিতে লাগিল। মায়াময় হরি পিতাকে মায়ামুগ্ধ করিতে বাসনা হইল।
অর্ধপথে পিতার হস্ত হইতে নদী  গর্ভে নিপাতিত ও অদৃশ্য হলেন।
 বসুদেব নিজ বক্ষে আঘাত করিয়া বিলাপ করতে লাগলো বললো হে বিধাতা তোমার মনে কি এই ছিল। আর কত দিকে আমাকে বিড়ম্বিত করিবে। আমার প্রানের প্রান নিধিকে প্রত্যাপর্ন করিয়া আমার হৃদয় শীতল কর।
 নতুবা এই যমুনা গর্ভের জীবন ত্যাগ করিব। 
পিতার হৃদয়বেদনা হৃদয়াঙ্গম করিয়া  দয়াময়ের অন্তর বিচলিত হলো। আর তিনি জল গর্ভে জলক্রীড়া করিতে সমর্থ হইলেন না  তৎক্ষণাৎ পুনরায় আসিয়া পিতার ক্রোড়ে আসলেন।বসুদেবের আনন্দের সীমা রইল না তিনি ধীরে ধীরে শিবারুপিনীর প্রশ্চাতে প্রশ্চাতে পরপারে আসিয়া উপস্থিত হইলেন।

 অনন্তর অন্যের অগোচরে  নন্দালয়ে নন্দীর সূতিকাগৃহে প্রবেশ করিয়া যশোদার নিকট পুত্র দিয়া সদ্যপ্রসূত কন্যাটি লইয়া প্রস্থান করিলেন। মায়াময় শ্রী হরির মায়াতে কেহই ইয়ার কিছু জানিতে পারিল না। নিজে কারা গৃহে প্রবেশ করিয়া দেবকীর কোলে কন্যা রত্ন সমর্পন করলেন।
 প্রভাতে লোক মুখে দেবকীর প্রসববার্তা শুনে কংস তৎক্ষণাৎ দেবকীর নিকট দুত প্রেরণ করিলেন। দুত অবিলম্বে  মাতৃক্রোড় হইতে কন্যাটিকে লইয়া কংসের নিকট হাজির করিল।।
কন্যার ভুবন আলো রুপ দেখিয়া কংস মনে মনে ভীত হইলেন।  কম্পিত স্বরে বলিলেন শীঘ্রই ইহাকে শিলায় নিক্ষেপ করিয়া প্রাণসংহার করো।
 আদেশ মাত্র যেমনি সেই কন্যাটিকে শিলায় নিক্ষেপ করিতে উদ্যত হল অমনি যোগমায়া তার হস্ত হইতে নভোমার্গে গিয়ে নিজ মূর্তি ধারণ করিয়া বলিলেন।
শোন শোন ওরে কংস 
                   তোরে বধিবারে।
বাড়িছেন নারায়ন
                   গোকুল নগরে।।
 এই কথা বলিয়া দেবি ভগবতি অন্তর্ধান হলেন। 
এদিকে শ্রী হরি নন্দালয়ে বাল্য জীবনের নানা রূপে বাল্যলীলা করিয়া যথাকালে মথুরায় গমনপূর্বক দুরাচার কংস কে বধ করলেন।
জগত নিষ্কণ্টক হইল।
বসুন্ধরা দুর্বিষহ ভার হইতে নিষ্কৃতি পাইল।
রাজন
 আমি জন্মাষ্টমীর ব্রত কথা কীর্তন করিলাম। নর-নারীর সকলের এই ব্রত করা কর্তব্য।যিনি শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী তিথিতে এই ব্রত অনুষ্ঠান করেন তিনি ইহধামে  অতুলৈশ্বর্য ও নানা সুখ ভোগ করে থাকেন। 
অন্তিমে বৈকুণ্ঠধামে নিশ্চই স্থান প্রাপ্ত হন।
"হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণকৃষ্ণ হরেহরে"
"হরেরাম হরেরাম রামরাম হরেহরে"।।
🙏🙏🙏

রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০২৪

হরিশ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত

 ব্রতের দ্রব্য

ফুল, তুলসীপাতা, দূর্বা, আতপ চাল, কলা, মালা, আমপাতা, ঘট।

ব্রতের সময় বা কাল -

বৈশাখ মাসে প্রতি মঙ্গলবার এই ব্রত পালন করতে হবে। সধবা ও বিধবা এরা সকলে এই ব্রত পালন করতে পারে।

ব্রতের বিধান_

বৈশাখ মাসের শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের মঙ্গলবারে যথারীতি মঙ্গলচন্ডীর পূজা করে এই ব্রত পালন করতে হয়।

ব্রত কথা-

এক গ্রামের গোয়ালা বউ সেই গ্রামেরই এক ব্রাহ্মনীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল এদের মধ্যে ভাবও খুব ছিল। প্রত্যেকবার বৈশাখ মাসে ব্রাহ্মণী হরিষ মঙ্গল চন্ডীর ব্রত করতেন। আর গোয়ালা বৌ তার ব্রত কথা শুনতো ।এইভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর গোয়ালা বৌয়ের এই ব্রথ করার ইচ্ছে হলো আর সে ব্রাহ্মণীকে জিজ্ঞাসা করল যে এই ব্রত করলে কি ফল হয়। ব্রাহ্মনী তার কথা শুনে বলল এই ব্রত করলে জীবনে কারোর চোখের জল পড়ে না। উল্টে তার সারা জীবন কেটে যায় খুব আনন্দে। গোয়ালা বইয়ের আনন্দ ধরে না ।সে ধরে বসলো ব্রাহ্মণীকে । আর বলল যে সেও এই ব্রত করতে চায়। ব্রাহ্মনী গোয়ালা স্ত্রীকে অনেক বোঝালেন, তিনি বললেন তুমি পারবে না সই ,এ ব্রত করা খুবই কঠিন। কিন্তু গোয়ালা বউ তার কোন কথাই শুনতে চাইলো না। শেষ পর্যন্ত বাম্মুনি বাধ্য হয়ে থাকে ব্রতের সব কথা বলে দিলেন। এরপর বৈশাখ মাস পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোয়ালা বউ এই হরিষ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত করতে আরম্ভ করে দিল। এইভাবে দুটো করার পরে মা মঙ্গলচন্ডী তার উপর কৃপা হল। আর সঙ্গে সঙ্গে ঐশ্বর্য, সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠল গোয়ালা বউয়ের সংসার। এর আগে গোয়ালা খুবই গরীব ছিল, এখন তার এত ধন দৌলত হওয়ার ফলে সে কেমন যেমন ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ল, সে আর সহ্য করতে পারল না, তার অবস্থার এই পরিবর্তন। এখন খানিক কাঁদবে ইচ্ছে হতে লাগলো তার। কিন্তু যার এত আনন্দ তার কান্না আসবে কেমন করে। শেষে গোয়ালাবোও আবার গিয়ে ব্রাহ্মণীকে ধরে বসলো আর বলল সই আমি আর এসব সহ্য করতে পারছি না ইচ্ছে হচ্ছে খুব খানিকটা কাঁদি তুমি আমায় বলে দাও কি করলে আমি খানিকটা কাঁদতে পারবো। গোয়ালা বইয়ের কথা শুনে ব্রাহ্মণী তো একেবারে আশ্চর্য হয়ে গেল, তিনি বলল যে  তুমি কাঁদবে এখন তোমার এমন সুখের সংসার হয়েছে । এত আনন্দ ভোগ করছ, এতে কাঁদতে আবার কেউ কি চায়। এযে হরিষ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত। এই ব্রত করার ফলে শুধু আনন্দই হয়, কান্নাকাটি এর কাছে আসতে পারে না। আমি তো আগেই বলেছি যে, এই ব্রত করা খুবই কঠিন তখন তুমি শুনলে না। এখন কাঁদতে চাইলে চলবে কেন বলো। গোয়ালা বইয়ের তখন প্রায় পাগলের মত অবস্থা। সে বলল আমি কাঁদতে না পারলে বাঁচবো না, তুমি বলে দাও কি করলে আমার কান্না আসবে সয়ের কথা শুনে ব্রাহ্মনী খুবই চিন্তিত হয়ে উঠলো কি বলবেন কিছু ভেবে পাচ্ছে না ,এমন সময় তার চোখে পড়ল একটু দূরে একটা চাষের ক্ষেত সেখানে অনেকগুলো লাউ আর কুমড়ো ফলে ছিল। সে বললো ওখানে ওই খেতে গিয়ে লাউ কুমড়োগুলোকে তুলে নাও আর গাছগুলোকে একেবারে ছিড়ে চুড়ে দাও তাহলে চাশার খুব রাগ হবে। তোমাকে খুব গালমন্দ দেবে। তাহলে তোমার কান্না আসবে ।সয়ের কথা শুনে গোয়ালা বো তখন এসে  ক্ষেতের ভেতরে ঢুকে গাছগুলো সব ছিড়ে ছুড়ে দিয়ে চলে এলো, কিন্তু এতে কাজের কাজ কিছু হলো না। বরং ফল উল্টো হলো মা মঙ্গলচন্ডীর দয়ায় গাছগুলো আবার সতেজ হয়ে উঠলো আর চাষাদেরও খুব আনন্দ হল। তারা গোয়ালা বইয়ের কাছে গিয়ে বলল মা তোমার হাতে ছোঁয়া লেগে আমাদের মরা গাছগুলো আবার জ্যান্ত হয়ে উঠলো তুমি মা সাক্ষাৎ লক্ষ্মী। এর ফলে গোয়ালা বউ কাদবার সুযোগেই পেল না। সে তার সবাইকে গিয়ে সব কথা জানাল। ব্রাহ্মণী বুঝলেন যে মা মঙ্গল চণ্ডীর দয়াতে এটা হয়েছে। তিনি তখন বলল দেখ সই ওই দূরে পাহাড়ের ধারে রাজার হাসিটা মরে পড়ে আছে। তুমি ওখানে গিয়ে হাতিটার গলা জড়িয়ে ধরে খুব কান্নাকাটি করো তাহলে রাজার লোকেরা ভাববে যে তুমি হাতের দাঁত চুরি করতে গেছো। তখন তারা তোমাকে খুব মারধর করবে আর তুমিও খুব কাঁদবার সুযোগ পাবে। কিন্তু এবারও কোন কাজ হলো না। গোয়ালা বোও হাতিটার গায়ে হাত দিতেই হাতিটা বেঁচে উঠল, তাই দেখে রাজার লোকরা একেবারে অবাক হয়ে গেল আর সব কথা রাজাকে গিয়ে জানালো। সব শুনে রাজা খুব খুশি হলেন আর গোয়ালা বউকে অনেক ধনরত্ন দিলেন। এবারও কোন কাজ হলো না দেখে ব্রাহ্মণী বুঝলেন যে এবারও মা মঙ্গলচন্ডী দয়া করেছেন। ব্রাহ্মণী তখন বলল দেখ সই এক কাজ করো কতগুলো বিষের নাড়ু তৈরি করে তোমার মেয়ের বাড়ি পাঠিয়ে দাও। তাহলে নাড়ু খেয়ে তারা সবাই মরে যাবে। আর তুমি তখন কাঁদতে পারবে। সইয়ের কথামতো গোয়াল বউ তাই করল কিন্তু মা মঙ্গলচন্ডীর জন্য বিষের নাড়ু অমৃত হয়ে গেল মেয়ের বাড়ির লোকেরা খেয়ে খুব খুশি হল। আর আরো কিছু নাড়ু পাঠাবার জন্য লিখে পাঠালো। এতেও যখন কাজ হলো না তখন বললেন যখন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না তখন তুমি মঙ্গলচন্ডীর ব্রত করা ছেড়ে দাও। গোয়ালবো মঙ্গলচন্ডীর ব্রতকথা ছেড়ে দিল এতে মা মঙ্গলচন্ডীর খুব বিরূপ হয়ে গেল। ক্রমে ক্রমে গোয়ালা বইয়ের স্বামী পুত্র দাস দাসী হাতি ঘোড়া ধনরত্ন সব চলে গেল। গোয়ালা বইয়ের সব চলে যাওয়ার ফলে এবার সে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। কান্না আর কিছুতেই থামাতে পারল না, শেষে ব্রাহ্মনীর  কাছে গিয়ে বলল সই আমি আর কাঁদতে পারছি না, যেমন করে পারো আমার কান্না থামিয়ে দাও। ব্রাহ্মণী তখন বলল তুমি তো কাঁদতেই চেয়েছিল সই, এখন কান্না থামাতে বললে কি হবে? যাক যা হবার হয়ে গেছে এখন বাড়ি গিয়ে মড়া গুলো জড়িয়ে ধরে খুব কাঁদো। আর তারপর সেগুলোকে খুব সাবধানে রেখে সামনের মঙ্গলবার থেকে আবার মা মঙ্গলচন্ডীর ব্রত করতে আরম্ভ করো। সেই কথা শুনে গোয়ালাবোও বাড়ি ফিরে এসে ব্রাহ্মনীর কথা মত সবই করল আর খুব কান্নাকাটি করার পর মা মঙ্গলচন্ডীর স্তব করতে লাগলো, তারপর মঙ্গলবার আসতেই সে খুব শুদ্ধভাবে পূজা এবং স্তব পাঠ করল, সবশেষে দুহাতে মার ঘট ধরে মাকে খুব ডাকতে লাগলো। এমন সময় সে শুনতে পেল, কে যেন বলছে আর কখনো এমন কাজ করিস নি। যা তোর আর কোন ভয় নেই এই ঘটের জল মড়া গুলার গায়ে ছিটিয়ে দে। তাহলে সবাই বেঁচে উঠবে। ঘটের জল ছিটিয়ে দেওয়ার ফলে গোয়ালা বইয়ের সবাই মা মঙ্গল চন্ডির দয়ায় বেচে উঠলো। আর তার আগের অবস্থা ফিরে এলো তখন খুব শুদ্ধাচারে মার ঘট টি তুলে রেখে ছুটে গেল ব্রাহ্মণের কাছে তাকে সব কথা জানালো আর তার পা ধরে আশীর্বাদ চেয়ে নিল। এই অবস্থার পরিবর্তনের ব্যাপার দেখে পাড়া প্রতিবেশী সবাই অবাক হয়ে গেল। আর গোয়াল বউকে ধন্য ধন্য করতে লাগলো।
হরিষ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত যে নারী করে ,
সব দুঃখ চোখের জল মা তার হরে।।

বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সুর্যাদিনবগ্রহ ধ্যান

ওং ব্রহ্মা মুরারি ত্রিপুরান্ত কারি ভানু শশী ভুমি সুতবুধশ্চ গুরুশ্চ শুক্র শনি রাহু কেতু সর্বে গ্রহাণী শান্তির ভবতু।                      ওংসুয্য সোমঞ্জার কুঞ্জজীব ভ্রুগুক্রিয়া ভব কেতুরেতু প্রযছণ্ডি মময়ায়ু বলং গ্রহা।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০

গনেশের ধ্যান ও প্রনাম

ধ্যান _বক্রতুণ্ড মহাকায় কোটিসুর্য্য সমপ্রভ নির্বিঘ্নে কুরুমে দেব সর্বকার্য্য সুসর্বদা।                        

 প্রনাম_একদণ্ড্য লম্বদর গৌরীপুত্র বিনায়ক বিগ্ন্যনাশ করোদেব হেরম্ব্য প্রনমামহং।

গুরুর ধ্যান মন্ত্র ও প্রনাম মন্ত্র

ধ্যান._ঔংব্রহ্মানন্দ কেবল সুখাদাম কেবলই ধ্যান মূর্তিং  দ্বন্ধা তিতো গগনশদৃশ্যং কেবলৈ জ্ঞ্যানমুর্তিংশরনং প্রপদ্যে                                                প্রনাম_গুরুব্রহ্মা গুরুবিষ্ণু গুরুদেব মহেশ্মর শাখ্যাৎ গুরু পরমব্রহ্ম তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ

মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২০

debi duraji ki arati

Aarati durga mata ki
मांग सिंदूर बिराजत, टीको मृगमद को। उज्ज्वल से दोउ नैना, चंद्रबदन नीको।। जय अम्बे गौरी,…। कनक समान कलेवर, रक्ताम्बर राजै। रक्तपुष्प गल माला, कंठन पर साजै।। जय अम्बे गौरी,…। केहरि वाहन राजत, खड्ग खप्परधारी। सुर-नर मुनिजन सेवत, तिनके दुःखहारी।। जय अम्बे गौरी,…। कानन कुण्डल शोभित, नासाग्रे मोती। कोटिक चंद्र दिवाकर, राजत समज्योति।। जय अम्बे गौरी,…। शुम्भ निशुम्भ बिडारे, महिषासुर घाती। धूम्र विलोचन नैना, निशिदिन मदमाती।। जय अम्बे गौरी,…। चण्ड-मुण्ड संहारे, शौणित बीज हरे। मधु कैटभ दोउ मारे, सुर भयहीन करे।। जय अम्बे गौरी,…। ब्रह्माणी, रुद्राणी, तुम कमला रानी। आगम निगम बखानी, तुम शिव पटरानी।। जय अम्बे गौरी,…। चौंसठ योगिनि मंगल गावैं, नृत्य करत भैरू। बाजत ताल मृदंगा, अरू बाजत डमरू।। जय अम्बे गौरी,…। तुम ही जग की माता, तुम ही हो भरता। भक्तन की दुःख हरता, सुख सम्पत्ति करता।। जय अम्बे गौरी,…। भुजा चार अति शोभित, खड्ग खप्परधारी। मनवांछित फल पावत, सेवत नर नारी।। जय अम्बे गौरी,…। श्री मालकेतु में राजत, कोटि रतन ज्योति।। जय अम्बे गौरी,…। अम्बेजी की आरती जो कोई नर गावै। कहत शिवानंद स्वामी, सुख-सम्पत्ति पावै।। जय अम्बे गौरी,…।. जय अम्बे गौरी आरती | Jai Ambe Gauri Aarti Lyrics PDF Hindi
मांग सिंदूर बिराजत, टीको मृगमद को। उज्ज्वल से दोउ नैना, चंद्रबदन नीको।। जय अम्बे गौरी,…। कनक समान कलेवर, रक्ताम्बर राजै। रक्तपुष्प गल माला, कंठन पर साजै।। जय अम्बे गौरी,…। केहरि वाहन राजत, खड्ग खप्परधारी। सुर-नर मुनिजन सेवत, तिनके दुःखहारी।। जय अम्बे गौरी,…। कानन कुण्डल शोभित, नासाग्रे मोती। कोटिक चंद्र दिवाकर, राजत समज्योति।। जय अम्बे गौरी,…। शुम्भ निशुम्भ बिडारे, महिषासुर घाती। धूम्र विलोचन नैना, निशिदिन मदमाती।। जय अम्बे गौरी,…। चण्ड-मुण्ड संहारे, शौणित बीज हरे। मधु कैटभ दोउ मारे, सुर भयहीन करे।। जय अम्बे गौरी,…। ब्रह्माणी, रुद्राणी, तुम कमला रानी। आगम निगम बखानी, तुम शिव पटरानी।। जय अम्बे गौरी,…। चौंसठ योगिनि मंगल गावैं, नृत्य करत भैरू। बाजत ताल मृदंगा, अरू बाजत डमरू।। जय अम्बे गौरी,…। तुम ही जग की माता, तुम ही हो भरता। भक्तन की दुःख हरता, सुख सम्पत्ति करता।। जय अम्बे गौरी,…। भुजा चार अति शोभित, खड्ग खप्परधारी। मनवांछित फल पावत, सेवत नर नारी।। जय अम्बे गौरी,…। श्री मालकेतु में राजत, कोटि रतन ज्योति।। जय अम्बे गौरी,…। अम्बेजी की आरती जो कोई नर गावै। कहत शिवानंद स्वामी, सुख-सम्पत्ति पावै।। जय अम्बे गौरी,…।. जय अम्बे गौरी आरती | Jai Ambe Gauri Aarti Lyrics PDF Hindi
 
 
 
मांग सिंदूर बिराजत, टीको मृगमद को। उज्ज्वल से दोउ नैना, चंद्रबदन नीको।। जय अम्बे गौरी,…। कनक समान कलेवर, रक्ताम्बर राजै। रक्तपुष्प गल माला, कंठन पर साजै।। जय अम्बे गौरी,…। केहरि वाहन राजत, खड्ग खप्परधारी। सुर-नर मुनिजन सेवत, तिनके दुःखहारी।। जय अम्बे गौरी,…। कानन कुण्डल शोभित, नासाग्रे मोती। कोटिक चंद्र दिवाकर, राजत समज्योति।। जय अम्बे गौरी,…। शुम्भ निशुम्भ बिडारे, महिषासुर घाती। धूम्र विलोचन नैना, निशिदिन मदमाती।। जय अम्बे गौरी,…। चण्ड-मुण्ड संहारे, शौणित बीज हरे। मधु कैटभ दोउ मारे, सुर भयहीन करे।। जय अम्बे गौरी,…। ब्रह्माणी, रुद्राणी, तुम कमला रानी। आगम निगम बखानी, तुम शिव पटरानी।। जय अम्बे गौरी,…। चौंसठ योगिनि मंगल गावैं, नृत्य करत भैरू। बाजत ताल मृदंगा, अरू बाजत डमरू।। जय अम्बे गौरी,…। तुम ही जग की माता, तुम ही हो भरता। भक्तन की दुःख हरता, सुख सम्पत्ति करता।। जय अम्बे गौरी,…। भुजा चार अति शोभित, खड्ग खप्परधारी। मनवांछित फल पावत, सेवत नर नारी।। जय अम्बे गौरी,…। श्री मालकेतु में राजत, कोटि रतन ज्योति।। जय अम्बे गौरी,…। अम्बेजी की आरती जो कोई नर गावै। कहत शिवानंद स्वामी, सुख-सम्पत्ति पावै।। जय अम्बे गौरी,…।. जय अम्बे गौरी आरती | Jai Ambe Gauri Aarti Lyrics PDF Hindi
 
जय अम्बे गौरी, मैया जय श्यामा गौरी….. जय अम्बे गौरी, मैया जय श्यामा गौरी। तुमको निशदिन ध्यावत, हरि ब्रह्मा शिव री।। जय अम्बे गौरी,…।. जय अम्बे गौरी आरती | Jai Ambe Gauri Aarti Lyrics PDF Hindi
जय अम्बे गौरी, मैया जय श्यामा गौरी….. जय अम्बे गौरी, मैया जय श्यामा गौरी। तुमको निशदिन ध्यावत, हरि ब्रह्मा शिव री।। जय अम्बे गौरी,…।. जय अम्बे गौरी आरती | Jai Ambe Gauri Aarti Lyrics PDF Hindi

বট সাবিত্রীর  ব্রতকথা           বট সাবিত্রীর  ব্রতকথা -      বহু প্রাচীন কালে মদ্রদেশে অশ্বপতি নামে এক রাজা ছিল।এই রাজার পুন‍্যের ফল...