ব্রতকথা
চৈত্র মাসি শুক্ল পক্ষের বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর সঙ্গে নারায়ণের বৈকুন্ঠে বসে কথা হচ্ছিল। লক্ষ্মী বলল প্রভু চলো আজ বিমানে উঠে বেড়াতে যায়। যে কথা সেই কাজ সঙ্গে সঙ্গে রথে চড়ে দুজনে বেরিয়ে পড়লেন। নারায়ণ এক জায়গায় রথ থামিয়ে লক্ষীকে বলল আমরা এবার মর্তের দিকে যাব। যাওয়ার পরে তুমি উত্তর দিকে চেয়ো না আর রথ থেকেও নেমোনা । উত্তর দিকে ছিল তিল ফুলে ভরা একটা খেত। যেতে যেতে লক্ষ্মী ভাবলো এমন কি জিনিস ওদিকে আছে যে নারায়ণ আমাকে দেখতে বারণ করলেন। একবার চেয়েই দেখি না কি আছে। এই বলে লক্ষ্মী দেবী উত্তর দিকে চাইতেই তিল ফুলের ক্ষেত দেখতে পেলেন। ফুলগুলো এত সুন্দর যে দেখে লক্ষীর খুব লোভ হল। তিনি একবার তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নারায়ণকে খুব অনুনয় করতে লাগলেন । নারায়ন তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে নামার অনুমতি দিতে বাধ্য হলেন। এক গরিব ব্রাহ্মণ ছিল সেই ক্ষেতের মালিক। সে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে তার ক্ষেত থেকে যে ফুল তুলবে তাকে ১২ বছর তার সঙ্গে দাস বা দাসী হয়ে থাকতে হবে। নারায়ণ এ কথা জানতেন বলেই তিনি লক্ষীকে ওই ক্ষেতের দিকে চাইতে বারণ করেছিলেন । এদিকে লক্ষ্মী তিল ফুলের ক্ষেতে গিয়ে অনেক ফুল তুলে তার গয়না করে পরতে লাগলেন। লক্ষ্মী ফিরছেন না দেখে নারায়ন সেই খেতে গিয়ে হাজির হলেন। সেই সময় ক্ষেতের মালিক এসে উপস্থিত হলো। লক্ষ্মীকে ওইভাবে ফুল তুলতে দেখে বামুন লক্ষ্মীকে বলল যখন তুমি ক্ষেতের ফুল তুলেছ তখন আমার প্রতিজ্ঞা মত তোমাকে ১২ বছর আমার বাড়িতে দাসী হয়ে থাকতে হবে। তখন লক্ষী বাধ্য হয়ে বামুনের বাড়িতে দাসী হয়ে থাকতে রাজি হলেন। কিন্তু তিনি বামুনকে বললেন আমি তোমার সংসারে শুধু রান্না বান্নাই করব আর কিছু করবো না বামুন লক্ষ্মীর কথা স্বীকার করে নিল। নারায়ন তখন লক্ষীকে বললেন তোমায় তখনই বারণ করেছিলাম তুমি শুনলে না এখন কর্মফল ভোগ করো। আমি ১২ বছর পরে এসে তোমাকে নিয়ে যাব। নারায়ন রথ নিয়ে বৈকুন্ঠে ফিরে গেলেন। বামুন লক্ষীকে নিয়ে বামুনির কাছে হাজির হলো আর সব ব্যাপার বামনীকে জানিয়ে দিল। বামনি তখন প্রায় মাথায় হাত দিয়ে বলল কাজ না হয় একে দিয়ে করাবে। কিন্তু খাওয়াবে কেমন করে আমাদের অবস্থা তো এই। লক্ষ্মী রয়ে গেলেন বামুনের ঘরে, বাবুনের উপর তার কৃপা দুষ্টি পরল সঙ্গে সঙ্গে বামুনের ঘর ধন দৌলতে ভরে উঠলো, লক্ষ্মী দেবী রান্না করে নিজের খাবার ভাত তরকারি নিয়ে রোজ একটা ডালিম গাছের গোড়ায় পুঁতে রাখতেন। এটা কেউ জানতো না। এভাবে বারোটি বছর ধিরে ধীরে শেষ হয়ে গেল এরই মধ্যে এক গঙ্গা স্নানের যোগ সকলে গঙ্গা স্নান করতে যাওয়ার জন্য তৈরি হলো। বামুনি লক্ষীকে বলল কিগো মেয়ে এই যোগে তুমি গঙ্গা স্নান করবে না। লক্ষ্মী বলল না আমার গঙ্গায় নাইতে নাই। এই ৫ করা করি তুমি নিয়ে যাও স্নান করবার সময় গঙ্গায় ফেলে দিও। বামনি করিগুলো নিয়ে গিয়ে যে গঙ্গায় ফেলে দিল অমনি মা গঙ্গা নিজ মূর্তি ধরে দুহাত পেতে করি গুলো নিয়ে নিলেন। বামনি এবং সকলে দেখে একেবারে অবাক হয়ে গেল অমনি সময় ১২ বছর কেটে যাওয়ায় নারায়ন ও রথ নিয়ে বামুনের ঘরে এসে উপস্থিত হলো তিনি লক্ষীকে বললেন ১২ বছর পূর্ণ হয়েছিল কি এবার তুমি বইকী উঠে ফিরে চলো বৈকুন্ঠে। বামন ও আরো অনেকে এসে দেখল যে লক্ষী রথে চড়ে বসে আছেন লোককে তখন বামনকে বলল ঠাকুর আজ ১২ বছর পূর্ণ হয়েছে কাজেই আমি স্বর্গে চলে যাচ্ছি আমি লক্ষ্মী মরতে পূজা প্রচারের জন্য তোমার ঘরে এসে উঠেছিলাম। তোমরা আমাকে রোজ যা খেতে দিতে সেগুলো সব আমি ডালিম তলায় পুতে রেখেছি। সেগুলা তোমরা তুলে নিও। সেগুলো পেলে তোমাদের খুব সম্পদের অভাব থাকবে না। এই অবস্থায় ভাদ্র কার্তিক আর পৌষ মাসে যথা নিয়মে আমার পূজা করবে এই বলে তিনি রথে চেপে স্বর্গে চলে গেলেন। বামুনের মেজ বউ সেই কথা শুনে তাড়াতাড়ি গিয়ে ডালিমতলা ঘুরতে লাগলো সেই সময় একটা কেউটে সাপ হঠাৎ গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে তাকে কামড় দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। মেজ বউ মরণের কোলে ঢলে পড়লাম সে মা লক্ষ্মীকে দু চোখে দেখতে পারত না বামন বামুনী সেই গর্ত থেকে তখন অনেক ধনরত্ন ও হীরে মুক্তা পেল। তারপর থেকে তারা নিয়মিত ভাবে লক্ষ্মী পূজা করতে লাগলো তার কুঁড়েঘর ভেঙ্গে নতুন অট্টালিকা তৈরি করা হলো আর হাতি ঘোড়া দাস-দাসী নিয়ে জীবন অতিবাহিত করল মৃত্যুর পর ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণী বয়কন্ঠে গমন করল
যদি এই ব্রত কেউ করেন তাহলে তার ধন সম্পদের কোন কবি থাকে না সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করে এবং লক্ষ্মীর কৃপা পায়।
চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে বৃহস্পতিবার এ লক্ষী পূজা করতে হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন