ব্রত কথা
মদ্র দেশে এক রাজা ছিলেন।সে দেশের রাজার নাম অশ্বপতি।বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত কোন পুত্রাদি না হওয়ায় রাজা অশ্বপতি পত্নীসহ সাবিত্রী দেবীর আরাধনা করতে লাগলেন।
14 বছর ব্রত করার পর ব্রত উদযাপন করলেন।
দেবী সন্তুষ্ট হয়ে রাজাকে আশীর্বাদ করল যে সর্বগুণ সম্পন্ন কন্যা তার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করবে।এই বর দিয়ে দেবী সাবিত্রী অন্তর্ধান হলেন।
যথাসময়ে রানী একটি সুকন্যা কে জন্ম দিলেন।তার নাম রাখলেন সাবিত্রী।
সাবিত্রী দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর পূর্ণিমার চাঁদের মত বড় হতে লাগল।
রাজা অস্ত্রপাতি বিবাহযোগ্য কন্যাকে দেখে বিবাহের জন্য উপযুক্ত বর খুঁজতে চারিদিকে খবর পাঠালেন।
কোন পাত্রের সন্ধান না আসায় সাবিত্রী সখীদের সঙ্গে বরের সন্ধানে দেশ ভ্রমণে বের হলেন।
গ্রাম শহর বিভিন্ন দেশ ঘুরে এক বনে গিয়া উপস্থিত হল।
এদিকে সেই বনে সালভো দেশের রাজা রাজ্য হারিয়ে বনে বসবাস করতেন। রাজার নাম ছিল দ্যুমৎসেন।
সাবিত্রী এখানে গিয়ে উপস্থিত হল। রাজা রানীর খুব আদর পেয়ে সেখানে রইল।সেখানে রাজার ছেলে সত্যবান কে দেখতে পেল। সেই দেখাতেই সাবিত্রী মনে মনে সত্যবান কে নিজের মন মত স্বামী হিসাবে বেছে নিয়ে নিজের রাজ্যে ফিরে গেলেন।
দৈবযোগে মহামুনি নারদ রাজা অশ্বপতির সহিত সাক্ষাৎ করছিলেন সেসময়। সাবিত্রী ও এসে উপস্থিত হলো রাজবাড়ীতে রাজা সাবিত্রী কে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কোন কোন দেশ ঘুরে এলে।
সাবিত্রী বলল আমি অনেক দেশ ও নগর ঘুরে এসে উপস্থিত হলাম একটি বনে সেখানে উপস্থিত রাজা দ্যুমৎসেনের ছেলে সত্যবান আমি মনে মনে পতিরুপে বরন করেছি।
দেবর্শি নারদ কথাটি শুনে রাজা কে বলল সাবিত্রী ভালো কাজ করেনি।আমি জানি সত্যবান এর আয়ু খুবই কম। বিয়ের এক বছর পর সত্যবান মারা যাবে।এবং রাজ্য হারা দ্যুমৎসেন ও তার স্ত্রী দুজনে অন্ধ।নারদ এর এই কথা শুনে রাজা সাবিত্রী কে বলল মা তুমি তো কেবল সত্যবান কে মনে মনে স্বামী হিসাবে বরণ করেছ।
আমি এটা দেখতে পারবোনা তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করো।
সাবিত্রী বলল বাবা আমি আপনার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নিজের মনমতো পাত্র বেছে নিয়েছি এখন যদি অন্য পাত্রে বিয়ে করি তাহলে আমাকে দ্বিচারিণী বলবে সবাই।
নারদ কথাটি শুনে রাজা কে বলল রাজন আপনি সত্যবান এর সঙ্গে সাবিত্রীর বিবাহ দিয়ে দাও। আমি দেখছি সত্যবানের অকাল মৃত্যু যোগ আছে কিন্তু সাবিত্রীর বৈধব্য যৌগ নেই।
হয়তো এর মধ্যে ভগবানের কিছুলীলা লুকিয়ে আছে।
নারদ এর কথা শুনে রাজা খুব ঘটা করে সাবিত্রী সত্যবান এর বিয়ে দিয়েদিলেন।
সাবিত্রী ও অন্ধ শশুর এবং শাউড়ি কে খুব যত্ন করতে লাগলো খুব আনন্দের সঙ্গে দিনগুলো পার হচ্ছিল কিন্তু নারদের কথাটি তার মনের মধ্যে রইল।
সাবিত্রী দিন গুনে গুনে যাচ্ছিল যেদিন এক বছর পূর্ণ হবে তার তিনদিন পূর্বে শ্বশুর-শাশুড়ির কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সাবিত্রী চতুর্দশী ব্রত করার জন্য প্রস্তুতি নিলেন।যেদিন এক বছর পূর্ণ হবে সেদিন ছিল সাবিত্রী চতুর্দশী ব্রত।
শ্বশুর-শাশুড়িকে অনেক বোঝানোর পর সত্যবান এর সঙ্গে সাবিত্রি বনে যাওয়ার জন্য অনুমতি পেল।
কাঠ সংগ্রহের জন্য সাবিত্রী সত্যবান বনে গিয়ে উপস্থিত হল। সত্যবান গাছের উপর থেকে কাঠ কেটে কেটে নিচে ফেলতে লাগলো সাবিত্রী সেগুলি কুড়িয়ে ঝুড়িতে রাখতে লাগলো।
এমন সময় সত্যবান চিৎকার করে উঠলো সাবিত্রী আমার মাথায় ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে আমাকে ধরো বলতে বলতে সত্যবান নিচে পড়ে মারা গেল।
এই দিনটি ছিল কৃষ্ণচতুর্দশী সাবিত্রী সত্যবান এর দেহটি কোলে নিয়ে সাবিত্রী দেবীকে ডাকতে লাগলো।
এদিকে সন্ধ্যা হয়ে গেল চারিদিকে ঘন অন্ধকারে ছেয়ে গেল। যমরাজ এসে উপস্থিত হল। সাবিত্রী কে বললো তুমি সরে দাঁড়াও সত্যবান এর মৃত্যু হয়েছে আমি সত্যবান এর প্রাণপুরুষ টিকে নিএ চলে যায়।
সাবিত্রী সরে দাঁড়ালো যমরাজ প্রাণপুরুষ কে নিয়ে দক্ষিণ দিকের পথে চলতে লাগলো সাবিত্রীও যমরাজের পেছনে পেছনে চলতে লাগলো।কিছুক্ষণ পরে যমরাজ দেখল সাবিত্রীও তার পেছনে পেছনে আসছে।
তাই দেখে যমরাজ সাবিত্রী কে বলল তুমি আমার সঙ্গে আসছ কেন
সাবিত্রী বলল আমার
স্বামী কে যেখানে নিয়ে যাবেন আমিও সেখানে যাইব। কারণ পতিই সতির ধর্ম ও
আশ্রয় আপনি ধর্মরাজ নিশ্চই এই কথাটি জানেন। ধর্মরাজ যম কথাটি শুনে লজ্জিত
বোধ করলেন। যম সাবিত্রীকে বলল সতী তুমি তিনটি বর চাও । সত্যবানের জীবন
ছাড়া। আমি সেই বর তোমাই দেব। সাবিত্রি বলল আপনি যদি সত্তি আমার উপর
সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন তাহলে এই বর দেন যেন (1) আমার অন্ধশ্বশুর আর অন্ধ
শাশুড়ি তাদের দুই চোখের দৃষ্টি যেন ফিরে পায়।
(2) আমার শশুর মশাই যেন তার রাজ্য পুনপ্রাপ্ত করেন(3)আমার পিতার একশোটা পুত্র লাভ হউক।
তথাস্ত বলিয়া ধর্মরাজ যম গমন করিলেন।
এদিকে
সাবিত্রী ও যমের পেছনে পেছনে গমন করিতে লাগিল অবশেষে বৈতরণী নদীর তীরে
উপস্থিত হইল যম সাবিত্রীকে দেখিয়া বিস্মৃত হয়ে গেল।ধর্মরাজ যম বলিল দেবী
তুমি এখনো পর্যন্ত আমার সঙ্গে।সাবিত্রি পুনরায় ধর্মরাজের স্তব করিলেন।
ধর্মরাজ সন্তুষ্ট হয়ে বলল। তুমি আরো একটু বর চাও।
সাবিত্রী
বলিল -আমাকে এইবর দিন যেন সত্যবানের ঔরসে আমার এক শটি পুত্র লাভ হয়।
যমরাজ তথাস্তু বলিয়া তাড়াতাড়ি চলিতে লাগলো এবং খুব তাড়াতাড়ি বৈতরনীর
তীরে এসে উপস্থিত হল।
পেছনে সাবিত্রীকে দেখে চমকে উঠলো
যমরাজ
সাবিত্রী কে বলল মানুষ এখান পর্যন্ত আসতে পারে না তুমি কি করে এলে?
সাবিত্রী বলল যে ধর্মরাজের আশ্রয় নিয়েছে সে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে
যেতে পারেনা।কিন্তু আমি একটা কথা জানার জন্য এতদূর পর্যন্ত আপনার সাথে
এসেছি আপনি আমায় শত পুত্রের জননী হওয়ার বর দিয়েছেন অথচ আমার স্বামীকে
নিয়ে চলে যাচ্ছেন ধর্মরাজও কি ধর্ম কথা ভুলে গেছেন। সাবিত্রীর কথা শুনে
ধর্মরাজ লজ্জিত হয়ে সত্যবানের প্রাণপুরুষকে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর সাবিত্রী
সত্যবান এর প্রাণপুরুষ নিয়ে ফিরে এসে সত্যবানের জীবন দান করলেন। সত্যবান
ঘুমের থেকে উঠে বসে সাবিত্রী কে বলল চলো আমরা বাড়ি ফিরে যাই।এদিকে শশুর
শাশুড়ি দুজনায় সকালে উঠে চোখে দেখতে পায়। এবং সকাল হয়েছে দেখে সাবিত্রী
সত্যবান কে না দেখতে পেয়ে চিন্তা করছিল এমন সময় সাবিত্রী সত্যবান এসে
উপস্থিত হল তাদের সামনে। এদিকে মন্ত্রীসৈন্যসামন্ত নিয়ে রাজার কাছে এসে
উপস্থিত হলো আবার রাজা নিজের রাজত্বে ফিরে গেলেন। সত্যবানকে রাজ সিংহাসনে
বসিয়ে আনন্দে দিন জাপন করতে লাগলেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন