Translate

হরিশ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত তাগা বানানো শিখুন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হরিশ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত তাগা বানানো শিখুন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০২৪

হরিশ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত

 ব্রতের দ্রব্য

ফুল, তুলসীপাতা, দূর্বা, আতপ চাল, কলা, মালা, আমপাতা, ঘট।

ব্রতের সময় বা কাল -

বৈশাখ মাসে প্রতি মঙ্গলবার এই ব্রত পালন করতে হবে। সধবা ও বিধবা এরা সকলে এই ব্রত পালন করতে পারে।

ব্রতের বিধান_

বৈশাখ মাসের শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের মঙ্গলবারে যথারীতি মঙ্গলচন্ডীর পূজা করে এই ব্রত পালন করতে হয়।

ব্রত কথা-

এক গ্রামের গোয়ালা বউ সেই গ্রামেরই এক ব্রাহ্মনীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল এদের মধ্যে ভাবও খুব ছিল। প্রত্যেকবার বৈশাখ মাসে ব্রাহ্মণী হরিষ মঙ্গল চন্ডীর ব্রত করতেন। আর গোয়ালা বৌ তার ব্রত কথা শুনতো ।এইভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর গোয়ালা বৌয়ের এই ব্রথ করার ইচ্ছে হলো আর সে ব্রাহ্মণীকে জিজ্ঞাসা করল যে এই ব্রত করলে কি ফল হয়। ব্রাহ্মনী তার কথা শুনে বলল এই ব্রত করলে জীবনে কারোর চোখের জল পড়ে না। উল্টে তার সারা জীবন কেটে যায় খুব আনন্দে। গোয়ালা বইয়ের আনন্দ ধরে না ।সে ধরে বসলো ব্রাহ্মণীকে । আর বলল যে সেও এই ব্রত করতে চায়। ব্রাহ্মনী গোয়ালা স্ত্রীকে অনেক বোঝালেন, তিনি বললেন তুমি পারবে না সই ,এ ব্রত করা খুবই কঠিন। কিন্তু গোয়ালা বউ তার কোন কথাই শুনতে চাইলো না। শেষ পর্যন্ত বাম্মুনি বাধ্য হয়ে থাকে ব্রতের সব কথা বলে দিলেন। এরপর বৈশাখ মাস পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোয়ালা বউ এই হরিষ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত করতে আরম্ভ করে দিল। এইভাবে দুটো করার পরে মা মঙ্গলচন্ডী তার উপর কৃপা হল। আর সঙ্গে সঙ্গে ঐশ্বর্য, সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠল গোয়ালা বউয়ের সংসার। এর আগে গোয়ালা খুবই গরীব ছিল, এখন তার এত ধন দৌলত হওয়ার ফলে সে কেমন যেমন ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ল, সে আর সহ্য করতে পারল না, তার অবস্থার এই পরিবর্তন। এখন খানিক কাঁদবে ইচ্ছে হতে লাগলো তার। কিন্তু যার এত আনন্দ তার কান্না আসবে কেমন করে। শেষে গোয়ালাবোও আবার গিয়ে ব্রাহ্মণীকে ধরে বসলো আর বলল সই আমি আর এসব সহ্য করতে পারছি না ইচ্ছে হচ্ছে খুব খানিকটা কাঁদি তুমি আমায় বলে দাও কি করলে আমি খানিকটা কাঁদতে পারবো। গোয়ালা বইয়ের কথা শুনে ব্রাহ্মণী তো একেবারে আশ্চর্য হয়ে গেল, তিনি বলল যে  তুমি কাঁদবে এখন তোমার এমন সুখের সংসার হয়েছে । এত আনন্দ ভোগ করছ, এতে কাঁদতে আবার কেউ কি চায়। এযে হরিষ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত। এই ব্রত করার ফলে শুধু আনন্দই হয়, কান্নাকাটি এর কাছে আসতে পারে না। আমি তো আগেই বলেছি যে, এই ব্রত করা খুবই কঠিন তখন তুমি শুনলে না। এখন কাঁদতে চাইলে চলবে কেন বলো। গোয়ালা বইয়ের তখন প্রায় পাগলের মত অবস্থা। সে বলল আমি কাঁদতে না পারলে বাঁচবো না, তুমি বলে দাও কি করলে আমার কান্না আসবে সয়ের কথা শুনে ব্রাহ্মনী খুবই চিন্তিত হয়ে উঠলো কি বলবেন কিছু ভেবে পাচ্ছে না ,এমন সময় তার চোখে পড়ল একটু দূরে একটা চাষের ক্ষেত সেখানে অনেকগুলো লাউ আর কুমড়ো ফলে ছিল। সে বললো ওখানে ওই খেতে গিয়ে লাউ কুমড়োগুলোকে তুলে নাও আর গাছগুলোকে একেবারে ছিড়ে চুড়ে দাও তাহলে চাশার খুব রাগ হবে। তোমাকে খুব গালমন্দ দেবে। তাহলে তোমার কান্না আসবে ।সয়ের কথা শুনে গোয়ালা বো তখন এসে  ক্ষেতের ভেতরে ঢুকে গাছগুলো সব ছিড়ে ছুড়ে দিয়ে চলে এলো, কিন্তু এতে কাজের কাজ কিছু হলো না। বরং ফল উল্টো হলো মা মঙ্গলচন্ডীর দয়ায় গাছগুলো আবার সতেজ হয়ে উঠলো আর চাষাদেরও খুব আনন্দ হল। তারা গোয়ালা বইয়ের কাছে গিয়ে বলল মা তোমার হাতে ছোঁয়া লেগে আমাদের মরা গাছগুলো আবার জ্যান্ত হয়ে উঠলো তুমি মা সাক্ষাৎ লক্ষ্মী। এর ফলে গোয়ালা বউ কাদবার সুযোগেই পেল না। সে তার সবাইকে গিয়ে সব কথা জানাল। ব্রাহ্মণী বুঝলেন যে মা মঙ্গল চণ্ডীর দয়াতে এটা হয়েছে। তিনি তখন বলল দেখ সই ওই দূরে পাহাড়ের ধারে রাজার হাসিটা মরে পড়ে আছে। তুমি ওখানে গিয়ে হাতিটার গলা জড়িয়ে ধরে খুব কান্নাকাটি করো তাহলে রাজার লোকেরা ভাববে যে তুমি হাতের দাঁত চুরি করতে গেছো। তখন তারা তোমাকে খুব মারধর করবে আর তুমিও খুব কাঁদবার সুযোগ পাবে। কিন্তু এবারও কোন কাজ হলো না। গোয়ালা বোও হাতিটার গায়ে হাত দিতেই হাতিটা বেঁচে উঠল, তাই দেখে রাজার লোকরা একেবারে অবাক হয়ে গেল আর সব কথা রাজাকে গিয়ে জানালো। সব শুনে রাজা খুব খুশি হলেন আর গোয়ালা বউকে অনেক ধনরত্ন দিলেন। এবারও কোন কাজ হলো না দেখে ব্রাহ্মণী বুঝলেন যে এবারও মা মঙ্গলচন্ডী দয়া করেছেন। ব্রাহ্মণী তখন বলল দেখ সই এক কাজ করো কতগুলো বিষের নাড়ু তৈরি করে তোমার মেয়ের বাড়ি পাঠিয়ে দাও। তাহলে নাড়ু খেয়ে তারা সবাই মরে যাবে। আর তুমি তখন কাঁদতে পারবে। সইয়ের কথামতো গোয়াল বউ তাই করল কিন্তু মা মঙ্গলচন্ডীর জন্য বিষের নাড়ু অমৃত হয়ে গেল মেয়ের বাড়ির লোকেরা খেয়ে খুব খুশি হল। আর আরো কিছু নাড়ু পাঠাবার জন্য লিখে পাঠালো। এতেও যখন কাজ হলো না তখন বললেন যখন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না তখন তুমি মঙ্গলচন্ডীর ব্রত করা ছেড়ে দাও। গোয়ালবো মঙ্গলচন্ডীর ব্রতকথা ছেড়ে দিল এতে মা মঙ্গলচন্ডীর খুব বিরূপ হয়ে গেল। ক্রমে ক্রমে গোয়ালা বইয়ের স্বামী পুত্র দাস দাসী হাতি ঘোড়া ধনরত্ন সব চলে গেল। গোয়ালা বইয়ের সব চলে যাওয়ার ফলে এবার সে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। কান্না আর কিছুতেই থামাতে পারল না, শেষে ব্রাহ্মনীর  কাছে গিয়ে বলল সই আমি আর কাঁদতে পারছি না, যেমন করে পারো আমার কান্না থামিয়ে দাও। ব্রাহ্মণী তখন বলল তুমি তো কাঁদতেই চেয়েছিল সই, এখন কান্না থামাতে বললে কি হবে? যাক যা হবার হয়ে গেছে এখন বাড়ি গিয়ে মড়া গুলো জড়িয়ে ধরে খুব কাঁদো। আর তারপর সেগুলোকে খুব সাবধানে রেখে সামনের মঙ্গলবার থেকে আবার মা মঙ্গলচন্ডীর ব্রত করতে আরম্ভ করো। সেই কথা শুনে গোয়ালাবোও বাড়ি ফিরে এসে ব্রাহ্মনীর কথা মত সবই করল আর খুব কান্নাকাটি করার পর মা মঙ্গলচন্ডীর স্তব করতে লাগলো, তারপর মঙ্গলবার আসতেই সে খুব শুদ্ধভাবে পূজা এবং স্তব পাঠ করল, সবশেষে দুহাতে মার ঘট ধরে মাকে খুব ডাকতে লাগলো। এমন সময় সে শুনতে পেল, কে যেন বলছে আর কখনো এমন কাজ করিস নি। যা তোর আর কোন ভয় নেই এই ঘটের জল মড়া গুলার গায়ে ছিটিয়ে দে। তাহলে সবাই বেঁচে উঠবে। ঘটের জল ছিটিয়ে দেওয়ার ফলে গোয়ালা বইয়ের সবাই মা মঙ্গল চন্ডির দয়ায় বেচে উঠলো। আর তার আগের অবস্থা ফিরে এলো তখন খুব শুদ্ধাচারে মার ঘট টি তুলে রেখে ছুটে গেল ব্রাহ্মণের কাছে তাকে সব কথা জানালো আর তার পা ধরে আশীর্বাদ চেয়ে নিল। এই অবস্থার পরিবর্তনের ব্যাপার দেখে পাড়া প্রতিবেশী সবাই অবাক হয়ে গেল। আর গোয়াল বউকে ধন্য ধন্য করতে লাগলো।
হরিষ মঙ্গলচন্ডীর ব্রত যে নারী করে ,
সব দুঃখ চোখের জল মা তার হরে।।

বট সাবিত্রীর  ব্রতকথা           বট সাবিত্রীর  ব্রতকথা -      বহু প্রাচীন কালে মদ্রদেশে অশ্বপতি নামে এক রাজা ছিল।এই রাজার পুন‍্যের ফল...