Translate

Jnmastami Brotokotha লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Jnmastami Brotokotha লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৪

জন্মাষ্টমী ব্রতকথা Janmastami Brotokotha

কৃষ্ণজন্মাষ্টমী ব্রতকথা krishna Janmastami Brotokotha

কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ব্রত বাংলার হিন্দুসমাজের আচরণীয় ব্রতগুলির অন্তর্গত একটি ব্রত। বাংলার বাঙালি হিন্দুঘরের (প্রধানত বৈষ্ণব মতাবলম্বী) পুরুষ ও মহিলারা জাগতিক মঙ্গলকামনায় এবং অশুভ-অকল্যাণ দূর করতে এই ব্রত পালন করেন। এটি ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষে জন্মাষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের পূজার অঙ্গ হিসাবে পালন করা হয়।
 

জন্মাষ্টমী ব্রতকথা-

একদিন কুলো পুরহিত বশিষ্ঠ দেবকে  রাজা দিলিপ জিজ্ঞাসা করলেন।

ভাগ্যবান শ্রীভগবান নারায়ন ভাদ্র মাসে কৃষ্ণপক্ষে অষ্টমী তিথিতে  মর্তধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন কেন।,
 আমাকে বিশেষ করিয়া বলুন।
 বৈশিষ্ট্য দেব বলল মহারাজ যে কারণে ভগবান বৈকুণ্ঠ হইতে মর্তে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন তাহা বলিতেছি শুনুন।

 এই সমগ্র পৃথিবীর অধিপতি ছিলেন অসুর রাজ কংস।
 তিনি মদগর্বে উন্মত্ত হইয়া বসুমতি কে প্রতারিত  করিতে লাগিলেন তাই বসুমতি কান্দিতে কান্দিতে কৈলাসে গিয়া মহেশ্বর কে সব কথা বলিলেন।
সৎ হৃদয় মহেশ্বর পৃথিবী ও দেবতাকে লইয়া  ব্রহ্মার নিকট উপস্থিত হইল এবং ব্রহ্মাকে সব কথা বলিলে ব্রহ্মা  সমস্ত কথা শুনে  দেবগণকে লইয়া ক্ষীরোদ সাগরের তীরে গিয়ে উপস্থিত হইলএবং ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করিতে লাগিলেন হে লক্ষীকান্ত আপনাকে নমস্কার আমরা আপনার শরণাগত আপনি আমাদের প্রার্থনা পূর্ণ করুন।
   এইভাবে সকলেই  বিষ্ণুর স্ত ব  করিতে  লাগিলেন এবং লক্ষীকান্ত আপনাকে নমস্কার আপনার শরণাগত আমরা আপনার কাছে  কৃপা পার্থী  আমাদের এই প্রার্থনা পূর্ণ করুন।
 এইভাবে স্তব  করিলে ভগবান বিষ্ণু স্ত বে তুষ্ট হয়ে ভগবান বিষ্ণু মধুর বাণীতে জিজ্ঞাস করলেন হে দেবগণ আজ তোমাদের মুখ মলিন দেখিতেছে কেন ব্রহ্মা বলিল যে হে  জগন্নাথ দুরাচার কংস মহাদেবের বরে দৃপ্ত হইয়া ধরা সতী কে প্রপিড়িত করিতেছে।
 আপনি দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করিয়া দুষ্ট কংস কে নিপাত করুন। 
ব্রহ্মার এই কথা শুনে ভগবান বিষ্ণু অধোবদনে চিন্তা করিয়া মহেশ্বর কে বলিল  যদি আমাকে মর্তে জন্মগ্রহণ নিতে হয় তা হইলে এক বছরের জন্য পার্বতী কে আমার সঙ্গে জন্মনিতে হইবে অনুমতি দেন।
তাহাই স্থির হইল।
 তিনি গোকুলে জন্ম নেবার পর একটি বচ্ছর থাকিয়া ফিরিয়া  আসিবেন।
 নিজে হরি আর পার্বতী উভয়ই মর্তধামে শুভ যাত্রা করলেন। দেবকীর গর্ভে হরি আর যশোদার গর্ভে পার্বতী জন্ম নিলেন।


দশ মাস দশ দিন গর্ভে থাকার পর ভাদ্র মাসে কৃষ্ণ অষ্টমী তিথিতে রোহিনী নক্ষত্রে জন্মগ্রহণ নিলেন।
 তখন ঘোর অন্ধকার মুষলধারে বৃষ্টি পড়িতেছিল সেই সময় কংস কারাগারে দেবকি আবদ্ধ ছিলেন। 
ঠিক সেই সময় যশোদার গর্ভে পার্বতী জন্ম গ্রহণ করিলেন।
 নবজাতক শিশুর অলৌকিক রূপ দেখে বসুদেব ও দেবোকির বিস্ময়ের পরিসীমা রইল না।
তারা  সজল নেত্রে বলিতে লাগিল হে ভগবান কংস  ভয় হইতে আমাদের পরিত্রাণ করুন।
তখন আকাশবাণী হইল বসুদেব তুমি শিশুকে লইয়া বিরাট নগরে নন্দ গৃহে গমন করো।
  এই শিশুকে দিয়ে তাহার কন্যাকে লইয়া এস।কংস তাকে  বিনাশ করিতে সমর্থ হইবে না।
 দৈববাণী শ্রবণ করিয়া বসুদেব তখনই শিশুকে কোলে লইয়া যাত্রা করলেন। তিনি একাকী সেই অন্ধকার পথ বাহিয়া চলিলেন।
  ক্রমে যমুনার তীরে উপস্থিত হইল।
  যমুনা নদীর ভীষণ বন্যা দেখে ভেয় বেকুল হয়ে  উঠিলেন কিভাবে পারাপার করিবেন।
তীরে দাঁড়াইয়া সজল নেত্রে শিশুর মুখপদ্ম অবলোকন করিতে লাগিল।
তাহার হৃদয় বিচলিত হইয়া উঠিল।
   চিন্তামগ্ন বাসুদেবকে মায়াময় শ্রী হরি মায়াময় শৃগাল রুপ ধারণ করে পদব্রজে যমুনা নদী  পারাপারে গমন করিলেন।
তাই দেখে বসুদেবের মনে আসার সঞ্চার হইলো। সে মনে করিল আর চিন্তা কি এই মনে করিয়া  শিশু কোলে লইয়া যমুনা গর্ভে অবতরণ করিলেন এবং ধীরে ধীরে জলরাশি ভেদ করিয়া চলিতে লাগিল। মায়াময় হরি পিতাকে মায়ামুগ্ধ করিতে বাসনা হইল।
অর্ধপথে পিতার হস্ত হইতে নদী  গর্ভে নিপাতিত ও অদৃশ্য হলেন।
 বসুদেব নিজ বক্ষে আঘাত করিয়া বিলাপ করতে লাগলো বললো হে বিধাতা তোমার মনে কি এই ছিল। আর কত দিকে আমাকে বিড়ম্বিত করিবে। আমার প্রানের প্রান নিধিকে প্রত্যাপর্ন করিয়া আমার হৃদয় শীতল কর।
 নতুবা এই যমুনা গর্ভের জীবন ত্যাগ করিব। 
পিতার হৃদয়বেদনা হৃদয়াঙ্গম করিয়া  দয়াময়ের অন্তর বিচলিত হলো। আর তিনি জল গর্ভে জলক্রীড়া করিতে সমর্থ হইলেন না  তৎক্ষণাৎ পুনরায় আসিয়া পিতার ক্রোড়ে আসলেন।বসুদেবের আনন্দের সীমা রইল না তিনি ধীরে ধীরে শিবারুপিনীর প্রশ্চাতে প্রশ্চাতে পরপারে আসিয়া উপস্থিত হইলেন।

 অনন্তর অন্যের অগোচরে  নন্দালয়ে নন্দীর সূতিকাগৃহে প্রবেশ করিয়া যশোদার নিকট পুত্র দিয়া সদ্যপ্রসূত কন্যাটি লইয়া প্রস্থান করিলেন। মায়াময় শ্রী হরির মায়াতে কেহই ইয়ার কিছু জানিতে পারিল না। নিজে কারা গৃহে প্রবেশ করিয়া দেবকীর কোলে কন্যা রত্ন সমর্পন করলেন।
 প্রভাতে লোক মুখে দেবকীর প্রসববার্তা শুনে কংস তৎক্ষণাৎ দেবকীর নিকট দুত প্রেরণ করিলেন। দুত অবিলম্বে  মাতৃক্রোড় হইতে কন্যাটিকে লইয়া কংসের নিকট হাজির করিল।।
কন্যার ভুবন আলো রুপ দেখিয়া কংস মনে মনে ভীত হইলেন।  কম্পিত স্বরে বলিলেন শীঘ্রই ইহাকে শিলায় নিক্ষেপ করিয়া প্রাণসংহার করো।
 আদেশ মাত্র যেমনি সেই কন্যাটিকে শিলায় নিক্ষেপ করিতে উদ্যত হল অমনি যোগমায়া তার হস্ত হইতে নভোমার্গে গিয়ে নিজ মূর্তি ধারণ করিয়া বলিলেন।
শোন শোন ওরে কংস 
                   তোরে বধিবারে।
বাড়িছেন নারায়ন
                   গোকুল নগরে।।
 এই কথা বলিয়া দেবি ভগবতি অন্তর্ধান হলেন। 
এদিকে শ্রী হরি নন্দালয়ে বাল্য জীবনের নানা রূপে বাল্যলীলা করিয়া যথাকালে মথুরায় গমনপূর্বক দুরাচার কংস কে বধ করলেন।
জগত নিষ্কণ্টক হইল।
বসুন্ধরা দুর্বিষহ ভার হইতে নিষ্কৃতি পাইল।
রাজন
 আমি জন্মাষ্টমীর ব্রত কথা কীর্তন করিলাম। নর-নারীর সকলের এই ব্রত করা কর্তব্য।যিনি শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী তিথিতে এই ব্রত অনুষ্ঠান করেন তিনি ইহধামে  অতুলৈশ্বর্য ও নানা সুখ ভোগ করে থাকেন। 
অন্তিমে বৈকুণ্ঠধামে নিশ্চই স্থান প্রাপ্ত হন।
"হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণকৃষ্ণ হরেহরে"
"হরেরাম হরেরাম রামরাম হরেহরে"।।
🙏🙏🙏

বট সাবিত্রীর  ব্রতকথা           বট সাবিত্রীর  ব্রতকথা -      বহু প্রাচীন কালে মদ্রদেশে অশ্বপতি নামে এক রাজা ছিল।এই রাজার পুন‍্যের ফল...